কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার সহধর্মিণী ও সন্তানদেরকে হয়রানি এবং তাঁদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ


কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার সহধর্মিণী জনাবা মোসলেহা মনিরা রাজা ও তাঁদের সন্তানদেরকে হয়রানি এবং তাঁদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন মোসলেহা মনিরা রাজা এবং তাঁদের সন্তান দেওয়ান মোহাম্মাদ মুসাওয়ার রাজা ও দেওয়ান মোহাম্মাদ মুয়াসসার রাজা। জনৈক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্বে তাঁদের দস্তখত সম্বলিত বক্তব্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতি এবং সহযোগিতা কামনা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে মিডিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে। নিম্নে তাঁদের প্রেরিত বক্তব্য প্রকাশ করা হলো।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থেকেও আমার স্বামী দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা সম্প্রতি কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। গত ১২ অক্টোবরের দিনটি আমাদের পরিবারের কাছে ছিল একাধারে আনন্দের ও দুঃখ্যের। আমার স্বামীকে কর্নেল ব্যাচ পরিয়ে দেওয়া হয় সেদিন। আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় দেশমাতৃকার জন্য তিনি তাঁর দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছেন না এজন্য আমরা দুঃখ্য অনুভব করছি । যখন সুস্থ ছিলেন, তখন বাহিনীতে সুনামের সঙ্গে দায়িত্বপালন ও বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখায় আমার স্বামীকে অনন্য সম্মানে ভূষিত করেছে বাংলাদেশের গর্বিত সেনাবাহিনী। আর সেটি সম্ভব হয়েছে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের মহানুভবতায়। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে চাকরিজীবনের শেষ দিনে আমার স্বামীকে পদোন্নতি দিয়ে এক বিরল সম্মানে ভূষিত করেন শ্রদ্বাভাজন সেনাবাহিনী-প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ মহোদয় ।

কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার গর্বিত স্ত্রী হিসেবে আমাকে এবং আমাদের সন্তানদেরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ মহোদয় এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) রক্ত ঋণে আবদ্ব করেছেন। সিএমএইচে যখন যে ধরনের সহায়তা চেয়েছি, আল্লাহর রহমতে সব পেয়েছি। প্রায় ৮ বছর ধরে এই কঠিন সংগ্রামে বন্ধুবান্ধব ও সেনাবাহিনীর যে সহযোগিতা পাচ্ছি  তাদের সকলের প্রতি আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসারত আমার স্বামী দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তার পাশে থেকে সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্য আমাদেরকে নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করছেন অগণিত গুনগ্রাহী। আমাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনার পাশাপাশি অফুরন্ত ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। গণমাধ্যমের যেসব সাংবাদিক এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার স্বামী এবং আমাদের সংবাদ প্রচার করছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে সবাইকে পাবো বলে আশা করছি।

অত্যন্ত দুখ্যভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে হচ্ছে যে, আমরা যখন এক ধরণের ট্রমার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছি এর মধ্যেও একটি স্বাথান্বেষী ও কুচক্রীমহল আমাদের ইমেজ ক্ষুন্ন এবং অবৈধ ফায়দা হাসিলে তৎপর রয়েছে । স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেনা কর্মকর্তার সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা শিরোণামে একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আমাদেরকে নাজেহাল করতে চাইছে ।

আমরা সকলের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন এলাকাতে আমাদের জায়গা সম্পত্তি রয়েছে।  কিন্তু জনৈক ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা আমার স্বামী ও আমাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিভিন্ন এলাকার লোকজন আমাদের কাছে তার ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাই আমরা পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি। আমি এবং আমার সন্তানদের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে, জনৈক ব্যক্তির সাথে আমাদের কোনো ধরণের সম্পর্ক ও যোগাযোগ নাই। কেউ যদি আমার স্বামীর নাম ও আমাদের নাম ভাঙিয়ে কারো কাছে প্রতারণার চেষ্ঠা করে তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জানানোর আহবান জানাচ্ছি । ইতিপূর্বে যাদেরকে তিনি প্রতারিত করেছেন অথবা প্রতারণা করার চেষ্ঠা করেছেন তাদের সকলের সাথে যোগাযোগ করে আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ।

জনৈক ব্যক্তি এবং তার সাথে আরো কিছু জালিয়াতি চক্র মিলে প্রতারণায় সহযোগী হয়ে সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া মৌজার অন্তর্গত আমার স্বামীর অংশের জায়গা আমার স্বামীর বোনের মাধ্যমে বিক্রি করিয়েছে। এছাড়া  আরো কিছু এলাকায় আমাদের অংশের জমি বিক্রয় করার পায়তারা করছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষকে আমাদের বিরুদ্বে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তার সাথে এলাকার আরো কিছু জালিয়াতি চক্র মিলে আমাদেরকে হয়রানি ও নাজেহাল করছেন।  বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জনৈক ব্যক্তি আমার স্বামীর ভাগিনা বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছেন। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো ।  যারা কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা ও তাঁর উত্তরাধিকারের সম্পদ আত্মসাত করছেন এবং করতে চাইছেন তারাই আবার খুব চাতুরতার সাথে আমার স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষদের হয়রানি করছেন।  এখানে মা’র চেয়ে মাসির দরদ বেশি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার মাধ্যমে আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করতে চাইছেন ।

আমার স্বামীকে নিয়ে যখন আমরা কঠিন সময় পার করছি তখন এই সুযোগে জনৈক ব্যক্তি ও এলাকায় তার কিছু সহযোগী আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার অংশের  জায়গা-জমি আমাদেরকে না জানিয়ে অন্যদের প্ররোচনায় জালিয়াতি ও প্রতারণা করে বিক্রি করে আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন । আমার স্বামীর শারীরিক অসুস্থতা, সন্তানদের নির্বিগ্নে প্রতিপালন এবং পরিবারের সুনামের কথা চিন্তা করে এতদিন আমরা কিছু বলি নাই। কিন্তু এই ব্যক্তি এখন শুধু আমাদের জায়গা জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করার চেষ্ঠা নয়, বরং আমাদের বিরুদ্বে উল্টো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমাদের জায়গা-জমি আত্মসাৎ করার হীন পায়তারা শুরু করছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষদের আমাদের জায়গা পাইয়ে দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তাই এ বিষয়ে গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ঠ সকলের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় রইলো না।  সৎ ও দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এখানে উল্লেখ্য যে, সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার মালিকানাধীন বিশ্বনাথ থানার রামপাশা মৌজাধীন বিভিন্ন দাগের কিছু জমি ২০১৮ সালে তৎকালীন সৌদি প্রবাসী মোঃ সফিক ক্রয় করেন । দলিল গ্রহীতা রেমিটেন্স যোদ্ধা সৌদি প্রবাসী মোঃ সফিক কিছুদিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে মানসিক চাপ ও বিষন্নতার কারণে মোঃ সফিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও আমরা শুনেছি । কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকায় বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার জনাব খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ কমিশনে দলিলের রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন ।

জমি জমা ক্রয়-বিক্রয়ে দাতা ও গ্রহীতার দলিলে গ্রামের বা এলাকার বাসিন্দারা পরিচিতজন হিসেবে স্বাক্ষী হয়ে উপস্থিত থাকেন। এটা এ অঞ্চলের সর্বোপরি আমাদের দেশের চিরাচরিত রীতি। দলিল সম্পাদনে সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রার আইনি বিষয়াদি তদারকি করে থাকেন। গ্রামের নিরীহ ও আইনি বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দলিল সম্পাদনের বিধি ও খুঁটিনাটি বিষয় জানার কথা নয়। একজন সাবরেজিস্ট্রার বা তাঁর পক্ষে কমিশন দলিল সম্পাদন করতে সম্মত হলে উপস্থিত স্বাক্ষীরা সেটাকে সঠিক পন্থা হিসেবে মনে করবেন এটাই স্বাভাবিক ।

এখানে উল্লেখ্য যে, কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার মালিকানা অংশই মোঃ সফিক ক্রয় করেন এবং দলিল সম্পাদন করা হয়। এখানে অন্য কারো অংশ গ্রহীতা মোঃ সফিক ক্রয় করেন নাই এবং এ ব্যাপারে আমাদের যেখানে আপত্তি নাই সেখানে অন্যদের আপত্তি থাকার প্রশ্ন উঠে না।  । এর পরেও উক্ত জমি বিক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমার স্বামীর তথাকথিত দরদী সেজে দরখাস্তকারী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা রুজু করেন। এই মামলায় বিবাদীদের সবাইকে সম্পূর্ণ হয়রানি ও নাজেহাল করতে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি । একদিকে আমার স্বামীর জন্য দরদ দেখানো অন্যদিকে কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার সহধর্মিণী হিসেবে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা দ্বিচারিতা বৈ কিছু নয়। আমরা মনে করি এদের আসল উদ্দেশ্য হলো আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগে আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করা।

দলিলকৃত জায়গায় দরখাস্তকারী বাদী ইন্টারেস্টেড পার্টি না হয়েও তাদের দ্বারা একটি মামলা রুজু করা হলে দলিল সম্পাদনের সময় বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার জনাব খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ তদন্তকারী অফিসার বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন । প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ভিজিটের ক্ষেত্রে অসুস্থ, বৃদ্ব ও পর্দানশীল মহিলাদের বাসা, হাসপাতাল, জেলখানা অথবা রেল স্টেশনে গমন করে দলিল সম্পাদন করা হয়ে থাকে। আলোচ্য দলিলটির ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েলের ৩১ ধারা মোতাবেক ভিজিট সম্পন্ন হয়েছে এবং রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েলের ৬ষ্ঠ খন্ডের ৯৬ বিধি অনুযায়ী মুক ও বধির ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, আলোচ্য দলিলটির ক্ষেত্রে তাহা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে দলিল উপস্থাপনের টিপের পাশে টীকা লিপিবদ্ব করা হয়েছে। …দলিল সম্পাদনকালীন সময়ে দাতার স্ত্রী মোসলেহা রাজাও স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন তদুপরি দাতার স্ত্রী উক্ত দলিলের ১ নং সাক্ষীও বটে। …আইনের কোন ব্যত্যয় আলোচ্য দলিলটিতে ঘটে নাই।’  আমরা মনে করি স্বার্থান্বেষীমহল পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আমাদেরকে নাজেহালের মাধ্যমে জায়গা-জমি আত্মসাৎ এবং এলাকায় আধিপত্য ও দাপট কায়েম করার নিমিত্তে আমাদেরকে এবং এলাকার নিরীহ মানুষ যারা দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি ও নাজেহাল করার অপচেষ্টা করছেন। এমনকি দলিলের সাথে সম্পর্কিত নয় এরকম কয়েকজনকে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ভুল তথ্য প্রদানের মাধ্যমে মামলায় আসামি করে দলিলে স্বাক্ষ্যপ্রদানকারীসহ তাদের কয়েকজনকে জেল খাটাচ্ছেন।

উক্ত মামলায় বর্ণিত দলিল সম্পাদনে কোনো ধরণের জালিয়াতি সংঘটিত হয় নাই। যা সাব রেজিস্ট্রার সাহেব তার প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, আমার স্বামীর টাকা আমি স্ত্রী হিসেবে আত্মসাৎ করেছি বলে উদ্ভট ও বানোয়াট তথ্য সংকীর্ণ হীন স্বার্থ হাসিলে এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলানো হচ্ছে ।  আর এ কাজে এলাকার কিছু জালিয়াতি চক্রের পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি সহযোগিতা করছেন বলে আমরা মনে করছি।

দলিল সম্পাদনের বিধি অনুযায়ী সাব রেজিস্ট্রার সাহেব দলিল সম্পাদন করেছেন বলে লিখিত রিপোর্ট পর্যন্ত জমা দিয়েছেন। এর পরে এ নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়।  তর্কের খাতিরে যদি বলি কোনো কারণে দলিলে ত্রূটি ধরা পড়লেও এই জমি আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার স্ত্রী ও সন্তান হিসেবে আমাদের দায়িত্বে থাকবে। তাই এখানে জালিয়াতি ও আমার স্বামীর টাকা আত্মসাতের প্রশ্ন তুলা হাস্যকর ও বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি। পরিবারের অন্য কারো অংশ যেহেতু বিক্রী করা হয় নাই, তাই আমার স্বামীর জায়গা সম্পত্তি নিয়ে আমি এবং আমার সন্তান ব্যাতিত অন্য কেউ এখানে জালিয়াতি বা আত্মসাতের প্রশ্ন তুলা হয়রানি ও হীন স্বার্থ হাসিল বৈ কিছু নয়।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য দরখাস্তকারী বাদী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া তার মামলার  আর্জিতে লিখেছেন, ‘’ ১ নং আসামি ৯ নং আসামীর ছেলে বটে। তিনি বাদীর নিকট  আসিয়া অঙ্গীকার করেন যে, তাহার ছেলে ১ নং আসামী বর্তমানে বিদেশ চলিয়া গিয়াছে। সে দেশে আসিলে ১ম তপশীল বর্ণিত সাকুল্য ভূমি কথিত জাল দলিলের দাতা বরাবরে পূনরায় ফেরৎ দলিল সম্পাদন করিয়া দিবে। কিন্তু উল্লেখিত অঙ্গীকার করিলেও ১ ও ৯ নং আসামী নালিশা ১ম তপশীল বর্ণিত ভূমি কথিত দাতা বরাবরে ফেরৎ দেওয়ার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করিয়া বিভিন্ন টালবাহানার আশ্রয় নিয়া সময় ক্ষেপন করিতেছেন। ‘’ আশ্চর্যের বিষয় হলো দরখাস্তকারী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া একদিকে দাবি করছেন দলিল জাল হয়েছে। আবার অন্যদিকে জায়গা ফেরত চান। দরখাস্তকারীর ভাষ্যমতে দলিল যদি জাল হয় তাহলে গ্রহীতা জায়গা ফেরৎ দিতে হবে কেন? এছাড়া কার জায়গা কে ফেরত চায়? দাতা আমার স্বামী। এই জায়গা নিয়ে কথা বলতে হলে আমি এবং আমার সন্তানরা কথা বলবে। অন্যরা কথা বলার কে? আসল কথা হলো গ্রহীতা ও দলিলে স্বাক্ষ্যপ্রদানকারীদের হয়রানি ও নাজেহাল করে জায়গা-জমি হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্ঠা মাত্র । এ ব্যাপারে আরো তথ্য রয়েছে যা যথাস্থানে প্রয়োজনে উপস্থাপন করা হবে।

শুধু তাই নয়, দরখাস্তকারী বাদী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া তার আর্জিতে আরো উল্লেখ করেছেন যে, ‘প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে, অত্র দরখাস্তের ৬ নং স্বাক্ষীকে, ২-৮ নং আসামীগণ বিভিন্নভাবে প্ররোচিত ও প্রভাবিত করিয়া নালিশা ২য় তপশীল বর্ণিত জাল দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করাইয়াছেন। তিনি অত্র মামলার নালিশী দরখাস্তে তাহাকে আসামী না করার জন্য অনুরোধ করিয়াছেন এবং তিনি মামলার সমর্থনে স্বাক্ষ্য প্রদান করিবেন মর্মে বাদীর নিকট অঙ্গীকার করিয়াছেন। তিনি অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট মামলার সমর্থনে স্বাক্ষ্য প্রদান করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে বা মামলার দরখাস্তের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করিলে বাদী তাহাকে অত্র মামলায় আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন।’ দরখাস্তকারী আবু মুহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়ার আর্জিতে এরকম আরো অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য লক্ষ্য করা যায়।  আমাকে স্বাক্ষী করা হলে আমি সত্য স্বাক্ষ্য দেয়ার কথা। আমি কারো সমর্থনেতো কথা বলার কথা নয়। দলিলে স্বাক্ষর করিয়াছি আমি, কিন্তু দরখাস্তকারী বাদী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া কিভাবে জেনে গেলেন যে অন্যরা আমাকে ‘প্ররোচিত ও প্রভাবিত’ করেছেন? গ্রাম এলাকা থেকে নিরীহ সাধারণ মানুষজন নিরাপত্তা বেষ্টিত ঢাকা ক্যন্টনমেন্ট এলাকায় এসে সাব রেজিস্ট্রারের সম্মুখে তাদের ভাষায় ‘প্ররোচিত ও প্রভাবিত’ করে আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে যে তথ্য দেয়া হচ্ছে তা একজন উন্মাদের পক্ষেও বিশ্বাস করার কথা নয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় দরখাস্তকারী বাদী আবু মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে নেহেরু মিয়া তার আর্জিতে উল্লেখ করেছেন তার প্রদত্ত মামলার সমর্থনে আমি স্বাক্ষী প্রদান না করলে আমাকে আসামী করা হবে। এটা কি প্রকাশ্যে হুমকি ও হয়রানি নয়? এটা কি ফৌজদারি অপরাধ নয়? তার আর্জিতে প্রকাশ্য হুমকি রয়েছে বলে মনে করি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমরা বিশ্বাস করি দরখাস্তকারী তার নিজের প্রতারণা ও জালিয়াতিকে আড়াল করতে কোনো ধরণের ইন্টারেস্টেড পার্টি না হয়েও আমার পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন এবং আমাদের এই বিপদের সময়েও আমাদেরকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করে হীনস্বার্থ কায়েম করতে চাচ্ছেন। মিডিয়াতে এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে অবৈধ ফায়দা হাসিল করা এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও গ্রামের নিরীহ মানুষদের ভয়-ভীতির মধ্যে রেখে তাদেরকে হয়রানি এবং আর্থিক ফায়দা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া কারো কাম্য হতে পারে না।

মাননীয় আদালতে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে জনৈক ব্যক্তি অসৎ ও প্রতিশোধপরায়ণ অভীষ্ঠ হাসিলে বিচারকে প্রভাবিত করার নিমিত্তে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ বিষয়ে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন । প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তদন্তকালীন সময়ে সেই তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদীদের কাছে কি বলেছেন তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আমরা আশা করছি । আর এতে করে আসল সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি । এছাড়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনই শেষ কথা নয়। যে কোনো সাজানো প্রতিবেদনের বিপরীতে সৎ, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান তদন্ত কর্মকর্তা দ্বারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য বেরিয়ে আসে, এটাই শ্বাশত সত্য।  তাই এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ নেই। এছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নাজেহালে আইনি প্রতিকার পেতে সংশ্লিষ্ট সকলের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।  আমি এবং আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা এবং আমার সন্তানদের নাম ভাঙিয়ে যেকোনো প্রতারণা থেকে সকলকে সজাগ থাকারও আহবান জানাচ্ছি। আমাদের নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়রানি ও প্রতারণার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে অবহিত করার পাশাপাশি আমাদেরকে জানানোর জন্য অনুরোধ রইলো।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মিথ্যা প্রচারণা ও প্ররোচণা ডিঙিয়ে সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে । স্বার্থান্বেষীমহলের এ ধরণের হীন স্বার্থ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আমার স্বামী কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজার সহকর্মীবৃন্দ, সাংবাদিকসহ ও অত্র এলাকার সকল মহলের সাহায্য ও সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার স্বামীর জন্য মহান আল্লাহর কাছে সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি। আমাদের সন্তানরা যেন তাঁর বাবার মতো মাতৃভূমির জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করতে পারে এর জন্য সকলের দোয়া প্রার্থী ।

আমাদের সংবাদটি প্রচারের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

ধন্যবাদান্তে,

১। মোসলেহা মনিরা রাজা

স্বামী: কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা

২। দেওয়ান মোহাম্মাদ মুসাওয়ার রাজা

৩। দেওয়ান মোহাম্মাদ মুয়াসসার রাজা

পিতা: কর্নেল (অবঃ) দেওয়ান মোহাম্মাদ তাসাওয়ার রাজা

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *