কোরআন ও ইসলামী জীবনাদর্শ সমগ্র মানব ও জ্বীন জাতির জন্য – মোহাম্মেদ হক


☆ অনেকেই অজ্ঞতা বশতঃ বলে থাকেন যে, পবিত্র কোরআনুল কারীম ও ইসলামী জীবনাদর্শ অবতীর্ণ হয়েছে কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্য । না, এ ধারণা একেবারেই ভুল, অমূলক ও নিতান্তই বিভ্রান্তিকর।
☆ সাধারণ ভাবে চিন্তা করলেও এ কথা স্পষ্ট ও নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, একচ্ছত্র আধিপত্য ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্ কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্যই তাঁর দেয়া জীবন বিধানের ব্যবস্থা করবেন, অন্য কারো জন্য নয়, এটা হতেই পারে না । কেননা, আল্লাহ্ তো শুধু মুসলমানদের জন্য নন। তিনি সমগ্র বিশ্বব্রম্মান্ডের, সকল সৃষ্টির প্রভূ। তাই সকল সৃষ্টি ও প্রাণী তাঁর আনুগত্য করবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু মুসলমান নয়, সমগ্র মানবজাতি এবং জ্বীন জাতিকেও একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে।
☆ আল্লাহ্ সুবাহানু ওয়াতায়ালা পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, “ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়া’বুদুন ।” অর্থ: আমি জ্বীন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছি কেবলমাত্র আমার দাসত্ব বা গোলামী করার জন্য । (​সূরা যারিয়াত, আয়াত-৫৬)
☆ “হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আসেননি? যাঁরা তোমাদের কাছে আমার আয়াত বা বিধানগুলো বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভয় দেখাতেন? তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম, তথা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে (নবী-রাসূলগণ এসেছিলেন এবং তাঁরা সতর্কও করেছিলেন, কিন্তু আমরা তাদের কথায় কান দেইনি) পার্থিব জীবন আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এভাবে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হয়েছে যে, তারা কাফের ছিল।” (৬:১৩০)
☆ সূরা আর-রাহমানে প্রতিটি বাক্য আল্লাহ্ জ্বীন ও মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
☆ সুতরাং পবিত্র কোরআন ও ইসলামী জীবনাদর্শ কেবল সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রযোজ্য নয় । ইহা জ্বীন ও মানবজাতি উভয়ের জন্যই একমাত্র জীবন বিধান। যারা এ বিধান অনুসরণ করবে, পরকালের অনন্তকালীন জীবনে তাদের জন্য রয়েছে চিরশান্তির জান্নাত বা স্বর্গ; আর এর বিরোধিতাকারীদের জন্য দোজখ বা নরক- চির যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
☆☆☆ Now the choice is yours.
, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *