জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার ৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি


১৯৮১ সালের ৩০ শে মে ভোররাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন একদল সেনা সদস্যের হাতে।

ঘটনার আগের দিন তিনি চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে ২৯ শে মে রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউজে ঘুমিয়ে ছিলেন জিয়াউর রহমান।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী। আজ থেকে ৩৮ বছর পূর্বে দেশী ও বিদেশী একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে এই দিনে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে শাহাদত বরণ করেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমান- সংক্ষেপে জিয়া।

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জিয়া আজ দৈহিকভাবে পৃথিবীতে নেই সত্য। কিন্তু তার দেশপ্রেম, জনকল্যাণকর রাজনীতি ও মানবপ্রেমের কারণেই জিয়া আজও অমর। ইতিহাসের পাতায় তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একথা আজ স্বীকার করতেই হবে যে সভ্যতার ইতিহাসে যেসব মহান ব্যক্তিত্ব নিজেদের জীবন দেশ, জাতি ও কল্যাণের জন্য নিবেদন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও তাদেরই একজন।

জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব হয়েছিল একটি ঐক্যবদ্ধ সমৃদ্ধশালী আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে।

দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতার মাধ্যমেই খুব অল্প সময়েই হতাশায় নিমজ্জিত একটি দিশেহারা জাতিকে আলোর সন্ধান দিয়েছিলেন। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে দেশগড়ার কাজে গোটা জাতিকে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

তিনি আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত, দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্যবস্ত্র ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান এবং সর্বোপরি দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে উৎপাদনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

এই উৎপাদনের রাজনীতির কারণেই দেশের খাদ্য ঘাটতি দূর হয়, পোশাক, চিংড়ী ও মানবসম্পদ বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে দেশ। বিশ্বের মানচিত্রে ঠাই করে নিতে সক্ষম হয় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে। এর সবকিছুই সম্ভব হয়েছিল জিয়ার দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সফলতার কারণেই।

এটি আজ দিবালোকের মত সত্য এবং সার্বজনীন যে, জিয়া ও বাংলাদেশ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। জিয়াকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। জিয়া মানেই বাংলাদেশ, জিয়া মানেই মুক্তিযুদ্ধ ও মহান স্বাধীনতার ইতিহাস, জিয়া মানেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, জিয়া মানেই উৎপাদনের রাজনীতি, জিয়া মানেই আধুনিক বাংলাদেশ।

জিয়া শুধুই একজন প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি একজন সফল জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কও ছিলেন।

এটি আজ স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এর পূর্বপর্যন্ত জিয়াউর রহমান দেশবাসীর নিকট সম্পূর্ণ ‘অপরিচিত’ অচেনা ছিলেন। বাস্তবে তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ মেজর।

কিন্তু তিনি পরবর্তীতে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে কান্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হন এবং জাতির প্রয়োজনে তার উপর ন্যস্ত হয় দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব যা তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠা জাতির জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয়।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বত্রিশবছর পূর্বে একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে এদেশের নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত নিরীহ জনগণের উপর পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একজন মেজর হয়েও বীর বিক্রমে রুখে দাঁড়ান এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দৃপ্তকণ্ঠে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ-মাতৃকা রক্ষা ও হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার মরণপণ লড়াইয়ে দেশবাসী ঝাঁপিয়ে পড়ে। জিয়া জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অসামান্য বীরত্ব ও কৌশলের সঙ্গে স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে দেশের ভিতরে মৃত্যুর মুখে রেখেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে চলে যান।

নিজের জীবন কিংবা পরিবারের নিরাপত্তা নয়, দেশের স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধই তাঁর কাছে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তিনি ‘জেড কোর্সের’ অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, একটানা দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ মাটির শ্রেষ্ঠ বীরসন্তান ত্রিশ লাখ শহীদের পবিত্র রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হলো ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র।

১৯৭৫ সালে নভেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে চলে ক্যু পাল্টা ক্যু। গোটা জাতি যখন প্রায় অন্ধকারে, দেশের প্রশাসন স্থবির, গোটা জাতি উৎকন্ঠিত, দেশবিরোধী আধিপত্যবাদী থাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হরণ করতে উদ্যত, ঠিক সেই মুহূর্তে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আবারও জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটে ধুমকেতুর মতো- ত্রাণকর্তার ভুমিকায়। দেশের দুঃসময়ের কান্ডারী হিসাবে তাঁর এই আবির্ভাব যেন দেশের জন্য ‘‘আল্লাহর তরফ থেকে আশির্বাদ স্বরূপ’’।

দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি দেশে গণতন্ত্র পূণঃপ্রতিষ্ঠা করেন। একদলীয় শাসন থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দেন। সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করে বন্ধকৃত সকল পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি দেন।

তিনি তথাকথিত ‘ড্রয়িংরুমের রাজনীতি’কে গ্রামেগঞ্জে নিয়ে যান এবং চালু করেন ‘উৎপাদনের রাজনীতি’। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, যতদিন মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত পক্ষ-বিপক্ষ বলে জাতিকে বিভক্ত করা হবে ততদিন দেশের মঙ্গল কিংবা দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।

এ কারণেই তিনি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের’ ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সবমতের মানুষের সম্মিলন ঘটিয়েছিলেন। ‘দেশ’ ও ‘মানুষই’ তার রাজনীতির প্রধান প্রতিপাদ্য ছিল।

জিয়াউর রহমানের দেশ গড়ার কর্মকা-কে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দীন আহমদ ‘নতুন রাজনীতি’ রূপে চিহ্নিত করে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন।

তিনি নতুন রাজনীতি বলেছেন এ কারণে যে, এর পূর্বে কোন জাতীয় নেতা রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে জনগণের দোরগেড়ায় পৌছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

প্রথমেই রয়েছে তঁর গ্রাম উন্নয়নের রাজনীতি এবং সবশেষ সৃজনশীল রাজনীতি। মাঝে রয়েছে তাঁর জনকল্যাণের রাজনীতি, উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং সমন্বয় ও ভারসাম্যের রাজনীতি (সূত্র: শহীদ জিয়া স্মারক সংকলন ’১০, সম্পাদক মহিউদ্দিন খান মোহন, পৃ. ৫-২২)। জিয়ার রাজনীতি ছিল গণমানুষের রাজনীতি এবং গ্রামভিত্তিক। মাটি ও মানুষের একেবারেই কাছে তিনি চলে গিয়েছিলেন।

তিনি গ্রাম-গ্রামান্তরের পথ ধরেই হাটতেন, সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতেন, তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য পরামর্শ ও উৎসাহ দিতেন। গ্রামের মানুষকে “গাছ লাগান, হাঁস-মুরগী, গবাদিপশু আর মাছের চাষে” উদ্বুদ্ধ করতেন। নিজ হাতে খালকাটা কর্মসূচী শুরু করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি “স্বনির্ভর বাংলাদেশ” গড়ে তোলা।

একথা সত্য যে, জিয়ার উৎপাদনমুখী ও গ্রামভিত্তিক রাজনীতির কারণে সারাদেশ কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। তাঁর ঐতিহাসিক ১৯ দফা ও খালকাটা কর্মসূচীর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উৎপাদনের বিপ্লব শুরু হয়। খালকাটা কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রাম বাংলার বহুদিনের পুরানো খাল কেটে আরো গভীর ও প্রস্তুত করা হয়।

এতে শুকনো মৌসুমে সেচ কাজে পানি পাওয়া যেতো। এছাড়া বর্ষার পর আরো বেশী মাছ ধরার সুযোগ হয়। খাল খননের কারণে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে ১৯৮০-৮১ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬ লাখ টন চাউল ও ১৫ লাখ টন গম বেশী উৎপন্ন হয় যা খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এটি অনস্বীকার্য যে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা, সেচের পানির অপর্যাপ্ত, পানি সম্পদকে সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাব ইত্যাদি দৃষ্টিকোণ থেকে খাল খনন কর্মসূচী ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এছাড়াও মৎস্য চাষ, বৃক্ষরোপন এবং গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কলকারখানা স্থাপন করা ছাড়াও চালুকৃত কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দুই শিফটে কাজ করার ব্যবস্থা করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, তিনি মানুষকে সহজে ‘ঐক্যবদ্ধ’ করে দেশ গঠনে উজ্জীবিত ও সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়া নিরলসভাবে দেশের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। এদেশের শিশুদের সম্ভবনাময় নাগরিক হিসেবে তোলার জন্য নির্মাণ করেন শিশু একাডেমী, পুলিশ ও আনসার বিভাগে মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য মহিলা পুলিশ ও মহিলা আনসার বাহিনী গঠন করেন।

গ্রামীণ জনগণকে শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগদানের জন্য তৈরী করেন গ্রাম সরকার। যুবশক্তিকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্য সৃষ্টি করেন যুব মন্ত্রণালয় ও নতুন নতুন কাজের সুযোগ করেন। তাদের ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।

এখানে একটি বিষয়ে উল্লেখ্য প্রয়োজন যে, শহীদ জিয়ার গগণচুম্বী জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যক্তি ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সততা ও দেশপ্রেম। তিনি ছিলেন সৎ, আদর্শবান ও মহান।তিনি একমাত্র প্রেসিডেন্ট যাকে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের লোভ-লালসা স্পর্শ করতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাদের মাঝে নেই।

কিন্তু আছে তাঁর আদর্শ যা আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাষ্ট্রীয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুশীলনীয়। জিয়া এক মহান ব্যক্তিত্ব। চরম দুভাগ্যজনক যে, আজ একটি মহল দেশ থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি তাঁর চরিত্র হননে লিপ্ত, যা স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক, মানবতাবিবর্জিত এবং প্রতিহিংসা পরায়ন মনোভাবের বর্হিপ্রকাশ।

কিন্তু এটা সত্য যে, শহীদ জিয়া তাঁর আদর্শ, কর্ম ও অবদানের মধ্য দিয়েই দেশের জনগণের ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, স্থান করে নিয়েছেন হৃদয়ে।

শত চেষ্টা করেও জনগণের ভালোবাসা থেকে শহীদ জিয়াকে যেমন বঞ্চিত করা যাবে না- তেমনি ১৬ কোটি জনগণের হৃদয় থেকেও শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না।

তাই তো গানের সুরে বলতে হয় : কাগজে লিখ নাম কাগজ ছিড়ে যাবে, ‘পাথরে লিখ নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে, হৃদয়ে লিখ নাম সে নাম রয়ে যাবে’।

দেশ আজ চরম সংকটে আবর্তিত। দেশের গনতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন প্রায়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে।

দেশের মানুষ আজ দিশেহারা ও কিংকর্তব্যবিমুঢ়। দেশবাসী এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। দেশের এই ক্রান্তিকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার “দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এটি দেশবাসীর আজ প্রত্যাশা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *