এইটা বাংলাদেশ! একটা মেয়ে বিয়ের সাজে বাইক চালাচ্ছে, বাঙালীরা সেটা মেনে নেবে কেন! ধর্মকে ঢাল বানিয়ে তারা মেতে উঠেছেন সমালোচনা আর গালাগালিতে।

মেয়েটি জাহান্নামে যাবেন, তিনি বেলেল্লাপনা করছেন, সমাজকে ধ্বংস করছেন, বিয়ের মতো ‘পবিত্র’ একটা কাজকে অপমান করছেন, অন্যান্য মেয়েদের উস্কে দিচ্ছেন অসামাজিকতার পথে,কতশত যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে!

মা-বাবা তুলে গালাগালি তো আছেই। আমাদের দেশে পুরুষের কাছে নারীর বাঁধাধরা কয়েকটি রূপ আছে। মা, বোন, স্ত্রী এবং কন্যা।

এর বাইরে যে কোন রূপী নারী তার কাছে আর সাধারণ নারী নন। তারা হয়ে যান পরনারী। আর পরনারী মানেই নষ্টা, ভ্রষ্টা আর অপয়া।

নারী যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের পরিচয়ে নারী হতেই পারেন না। এরিস্টটলের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘মানুষ সামাজিক জীব’ নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ট্যাবু প্রচলিত আছে। অবস্থা এমন যে, সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথার বাইরে কেউ কোনো কাজ করলেই যেন সে সমাজের বাইরে চলে গেল!

কেউ সামনে এগিয়ে যেতে চাইলেই কথিত সামাজিকতার অদৃশ্য বাধায় তার পথচলা থমকে দাঁড়ায়। একজন ক্ষুদে নারী ক্রিকেটার যখন স্কুলের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করেন,কথিত সমাজের সম্মানিত লোকেরা তাকে উৎসাহ প্রদান তো দূরের কথা, বরং নানা কটূক্তির বিষবাষ্প ছড়ায় এবং সেই সঙ্গে পরিবারকে যত্রতত্র হেনস্তা করে।

বছরখানেক পর যখন সেই ক্ষুদে নারী ক্রিকেটার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সাফল্য নিয়ে আসেন তখন সেই মানুষেরাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে নিজেদের গ্রামের বা শহরের কৃতী সন্তান হিসেবে গর্ব করে। বিয়ের পর যদি কোনো নারী পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায়, তাতেও ঘটে সমাজের বিপত্তি।

এভাবেই আমাদের সমাজে নারীর অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আবার কোনো নারী যদি উদ্যোক্তা হতে চায়, তবে সেখানেও তাকে সমাজের অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন হতে হয়। একজন দর্জি যেমন কাপড় কেটে আবার সেলাই করে সুন্দর সুন্দর পোশাক তৈরি করে, তেমনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে আমাদের সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে ফেলতে হবে। কবি কামিনী রায়ের বিখ্যাত কবিতা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ সবসময় স্মরণে রেখে সমাজের বিপত্তি পথ পাড়ি দিয়ে সামনের দিকে এগুতে হবে আমাদেরকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here