(দ্যা চায়না ষ্টাডি, হাউ নট টু ডাই, হার্ট মাফিয়া, প্রোগ্রাম ফর রিভার্সিং হার্ট ডিজিজ, হাই ইউ কেন রিটার্ন ফ্রম হসপিটাল এলিভ এবং বাউমিমিক্রাই এর থত্যসূত্রে গ্রন্তিত)
যে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা যখন ধরা পড়ে, তা হউক ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ অথবা উচ্চ মাত্রার কলোষ্টেরল এমন কি স্থূলতা, ডাক্তার ঔষধ দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট এবং মাল্টিভিটামিন তিল দিয়ে থাকেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াও অনেকে নিজে নিজেই সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ক্যাপসুল বা গুড়ো দুধ বা প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। গিনিস বুকে ‘মাইন্ড এন্ড বডি’ বিষয়ে দুটি বিশ্বরেকর্ড অর্জনের অধিকারী ডঃ বিশ্বরূপ রায় চৌধুরী (পুষ্টি বিশেষজ্ঞ) বলেন, এগুলো শুধু অপচয় নয়, এগুলো দেহকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ।
ধর্ম ক্যালসিয়ামের কথা। মানব দেহে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। হাড়ের গঠন হাড় শক্ত হওয়া নরম হওয়া বা ভঙ্গুর হওয়া অনেকটা এর উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে, যৌবনের শেষ দিক থেকে মহিলাদের হাড়ে ক্যালসিয়াম এর ঘনত্ব কমে থাকে, আর কিছুটা নরম হয়ে যায়। তখন যাদের ওজন বেশি, তাদের হাড় ভঙ্গুর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, হাটুতে ব্যাথা হয়, ব্যাথা বাড়তে থাকে, এ জন্য অনেকেই ইঞ্জেকশন নেন; এমন কি অপারেশন করান, রোগীর তেমন লাভ হয় না; লাভ হয় ঔষধ কোম্পানি ও চিকিৎসা-ব্যবস্থার সাথে যারা জড়িত, তাদের। ক্যালসিয়ামের খুবই সাধারন একটি সমাধান বেরিয়ে এসেছে “চায়না স্টাডিজ” এর দীর্ঘ গবেষণায়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কিভাবে যে এটাকে কত ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে এবং ধরছে তা দেখে বিস্মিত হতে হয়।
তো এই ক্যালসিয়াম পাবেন কোত্থেকে বলুন তো? জানি, আপনি প্রথমেই বলবেন, সাপ্লিমেন্টর কথা। বাজারে সকল ঔষধ কোম্পানি বিভিন্ন নামে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট তৈরি করে আপনার পাশের ওষুধের দোকানের তাক পূর্ণ করে রেখেছে আর এর উপকারিতার কথা ডাক্তারদের বলছেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বার বার মাথা ধোলাই করে যাচ্ছে। তাই আপনি সাপ্লিমেন্ট কিনবেন । আর আপনি যদি একটু সচেতন হন তবে বলবেন ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মলাঢেলা মাছের কথা! কিন্তু ইউরোপ, আমেরিকা ও চায়নার মানবপ্রেমিক গবেষকরা বলছেন, এগুলোর একেবারেই দরকার নাই। সত্যি বলতে কি, আপনি বিশ্বাসই করতে চাইবেন না, কেননা, জীবনের শুরু থেকে আমাদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে, এমন কি ডাক্তারদেরও। আর এই জুলাইয়ের কাজটি সুনিপুণ ভাবে সম্পন্ন করেছে কিছু বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি একজন ছাত্র যখন মেডিকেলে ভর্তি হয়, তখন থেকে একজন শিশু যখন বুঝতে শেখে তখন থেকে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
গবেষকরা বলছেন, আপনার দেহকে কর্মরত রাখুন। হাঁটুন, দৌড়ান, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠুন, সাঁতার কাটুন, অন্তত দু’দিনে একদিন ইয়োগা করুন, খেলাধুলা করুন, অথবা কোন ব্যায়াম দলের সাথে যুক্ত হন আর গায়ে একটু রোদ লাগান। অসংখ্য পথ খোলা। (দ্যা চায়না ষ্টাডিজ এন্ড দ্যা বাউমিমিক্রাই)
অবশ্যই বিরত থাকুন পশু ও চর্বিজাত খাবার এবং ফার্স্টফুড, পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে। কফি থেকে একটু দূরে থাকুন। খান উদ্ভিদজাত দানাদার খাবার। যেমন লাল চাল, লাল আটা, ছোলা বাদাম, কিসমিস, ডাল, বিচি, মটরশুঁটি ইত্যাদি। প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে এগুলোতে বিশেষ করে নানা রঙের শাক ও নানা জাতের সবজির মধ্যে; তিল, আমলকি ও খেজুরের মধ্যে। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট (যেমন ময়দা) থেকে দূরে থাকুন। আর লবণ ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে যত দূরে থাকবেন ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে তত দূরে থাকতে পারবেন। প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে উচ্চ প্রক্রিয়াজাত ওলবণজাত খাবার হচ্ছে পটেটো চিপস, এতে তেলের সাথে আবার টেস্টিং সল্টও (গঝএ ড়ৎ গড়হড় ঝড়ফরঁস এষঁঃধসধঃব) মেশানো হয়। আর অনেক দেশেই টেষ্টিং সল্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাতে ক্যান্সার উৎপাদনকারী উপাদান থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর।
গবেষণালব্ধ উপরোক্ত তথ্যগুলোর সত্যতার প্রমান আমি নিজে (লেখক) তথ্যগুলো জানার পর বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমি সাপ্লিমেন্ট খাবার বন্ধ রেখেছি আর গবেষকদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেছি। আমি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি, আর অনেক টাকারও সাশ্রয় হয়েছে।
একটি বিশেষ মাল্টিভিটামিনের ব্রান্ড এম্বাসেডর হিন্দি ছায়াছবির নায়ক সালমান খান। তিনি তাতে বলেন, ১৫ বছর ধরে এই মাল্টি ভিটামিন খেয়েই তিনি তার চমৎকার গরম ধরে রেখেছেন, শুধু তাই নয়, তার বাবাও অনেক দিন ধরে তা সেবন করে আসছেন। এর আগে এই কোম্পানির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর ছিলেন যুবরাজ সিং। হঠাৎ করে তাকে প্রত্যাহার করা হয়, কারণ ছিল খুবই যৌক্তিক। তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। কত টাকার বিনিময়ে তারা এ কথাগুলো বলছেন, এই ব্র্যান্ডের মাল্টিভিটামিন তারা ছুঁয়েও দেখেছেন কিনা, তা কেউ জানে না। যদিও আমরা অনেকে টিভি বিজ্ঞাপনকে শুধু বিজ্ঞাপনই মনে করি, আসলে এই বিজ্ঞাপনের কারণে মুখে মুখে পণ্যগুলোর নাম ও ব্যবসায়িক প্রসার দুরন্ত বিস্তার লাভ করে। আর এভাবেই কোম্পানিগুলো মানুষের দেহ ও মন মানুষেরই অজান্তে দখল করে। (চলবে)
