পাকিস্তানের ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হলেন শেহবাজ, ভাষণে যা বললেন


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক ::পাকিস্তানের ২৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পিএমএল-এন দলের শেহবাজ শরীফ। পার্লামেন্টে ২০১ ভোট পেয়েছেন তিনি। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের (এসআইসি) ওমর আইয়ুব পেয়েছেন ৯২ ভোট। এরপর স্পিকার শেহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রীর আসন গ্রহণ করার আহ্বান জানান। সেখানে গিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন শেহবাজ।

জিও টিভি জানিয়েছে, শেহবাজ ভাষণ শুরু করার পর পার্লামেন্টের মধ্যে হৈচৈ শুরু করেন এসআইসি আইনপ্রনেতারা। প্রধানমন্ত্রী হতে শেহবাজ পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), পাকিস্তান মুসলিম লীগ-কায়েদ (পিএমএল-কিউ), বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি), পাকিস্তান মুসলিম লীগ-জিয়া (পিএমএল-জেড), ইস্তেহাকাম-ই -পাকিস্তান পার্টি (আইপিপি) এবং ন্যাশনাল পার্টির (এনপি) সমর্থন পেয়েছেন।

ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) দলের সদস্যরা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াক আউট করেন। অপরদিকে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির সরদার আখতার মেঙ্গল তার ভোট না দিয়ে ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন তার আসনে বসে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের ভাষণের শুরুতে পিএমএল-এন সুপ্রিমো নওয়াজ শরীফকে ধন্যবাদ জানান। তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে সমর্থন দেয়ায় তিনি পিপিপি ও এমকিউএম-পি সহ তার সহযোগী দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং পিপিপি দলের প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর ‘বিচারিক হত্যার’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর গণতন্ত্রের জন্য চূড়ান্ত মূল্য দেয়ার জন্য তার কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

কোনো নাম না নিয়েই শেহবাজ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ক্ষমতাকালীন সময়ের সমালোচনা করেন।

বিরাজমান সঙ্কট থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য তার সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন শেহবাজ। তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এবং চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত হতে হবে। দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি জানিয়ে পিএমএল-এন নেতা বলেন, দেশে যে ১২ হাজার ৩০০ বিলিয়ন রুপি আয় হয়, তারমধ্যে ৭ হাজার ৩০০ বিলিয়ন রুপি জাতীয় অর্থ কমিশন প্রদেশগুলিকে দিয়ে দেয়। এরপর আছে ৮ হাজার বিলিয়ন রুপির বিশাল সার্ভিস চার্জ। সরকার এতেই সাত হাজার বিলিয়ন রুপির ঘাটতিতে চলছে। তাহলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে টাকা আসবে কোথা থেকে? সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন হবে কোথা থেকে? এতদিন বছরের পর বছর ধরে ঋণের মাধ্যমে এসব ব্যয় বহন করা হয়েছে। এটি আজ দেশের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি খাতকে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসাবে অভিহিত করে শেহবাজ বলেন, তার সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দেবে এবং তাদের জন্য একটি সোলার টিউব কর্মসূচি চালু করবে। তিনি ঘোষণা করেন, গত ৯ই মে’র দাঙ্গার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে যারা ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না, তাদের বিরক্ত করা হবে না। ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার কঠোর, অপ্রচলিত আইন ও প্রবিধানগুলো বাতিল করবে। রপ্তানি বৃদ্ধিতে এক্সপোর্ট জোনগুলোর মধ্যে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাদেশিক সরকারগুলির সাথে কাজ করবেন তিনি।

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button
telegram sharing button
messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button
, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *