২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কোচ লুই ফন গাল এমন করেছিলেন। সে বিশ্বকাপের চমক কোস্টারিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষেও ম্যাচ ছিল গোলশূন্য, টাইব্রেকার হবে হবে, এমন সময়ে গোলকিপার বদলালেন ফন গাল।

পুরোটা সময় গোলপোস্ট সামলানো ইয়াসপার সিলেসেনকে ১২০ মিনিটে তুলে নামিয়ে দিলেন বদলি গোলকিপার টিম ক্রালকে! কিন্তু সেই বদলিই কী দারুণভাবে কাজে লেগে গেল! টাইব্রেকারে ক্রাল দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন, নেদারল্যান্ডস জেতে ৪-৩ ব্যবধানে।

কিন্তু সাউথগেট বদলি নামিয়ে পেলেন উল্টো ফল। টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড দুটি শট ঠেকিয়ে ইংলিশদের ফুটবল ‘ঘরে ফেরা’র স্বপ্ন উজ্জ্বল করেছিলেন, কিন্তু সেটিকে ‘হোম’ থেকে ইতালির ‘রোম’–এর দিকে ঠেলে দেয় রাশফোর্ড-সাঞ্চোদের ব্যর্থতা।

ইতালির আন্দ্রেয়া বেলোত্তির শট পিকফোর্ড ঠেকিয়ে দেওয়ায় দুই দলের দুটি করে শট শেষে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।

দোন্নারুম্মা উল্টো দিকে ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু রাশফোর্ডের শট লাগে পোস্টে।

দোন্নারুম্মা উল্টো দিকে ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু রাশফোর্ডের শট লাগে পোস্টে। ছবি: রয়টার্স

তৃতীয় শটে ইতালির লিওনার্দো বোনুচ্চি শট জালে জড়ালেন, কিন্তু ইংল্যান্ডের তৃতীয় শট নিতে এসে ভজকট পাকিয়ে ফেললেন রাশফোর্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা ফরোয়ার্ডের শট লাগল পোস্টে।

পরের শটে আবার ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা। বের্নারদেস্কির নেওয়া ইতালির চতুর্থ শটও জালে জড়াল, এদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যর্থ সাউথগেটের আরেক বদলি জেডন সাঞ্চো। কদিন আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া এ উইঙ্গারের শট ঠেকিয়ে দিলেন ইতালি গোলকিপার জানলুইজি দোন্নারুম্মা।

পঞ্চম শটে ইতালির জর্জিনিও আর ইংল্যান্ডের ১৯ বছরের তরুণ বুকায়ো সাকা দুজনই ব্যর্থ। এখানেও সাউথগেটের দায় দেখছেন অনেকে! ১৯ বছরের এক তরুণকে কেন শেষ শট নিতে পাঠালেন তিনি, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাউথগেটও দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বিবিসিতে ম্যাচের পর বললেন, ‘পেনাল্টির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো আমারই ছিল। এখানে সব দায় আমার। পেনাল্টিতে কে কোন শট নেবে, সেটা আমি ঠিক করেছিলাম। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেবে, এখানে কেউই একা দোষী নয়। আমরা একটা দল হয়ে আগের ম্যাচগুলো জিতেছি, আজকের (কাল) ম্যাচ জিততে না পারার দায়ও দল হিসেবে আমাদের সবার।’

সাঞ্চোর শট ঠেকিয়ে দিচ্ছেন দোন্নারুম্মা।

সাঞ্চোর শট ঠেকিয়ে দিচ্ছেন দোন্নারুম্মা। ছবি: রয়টার্স

দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের খেলা নিয়ে একটু অসন্তোষ থাকলেও খেলোয়াড়েরা সব নিংড়ে দেওয়ার প্রশংসা ঝরল সাউথগেটের কণ্ঠে, ‘আমরা অনেক অনেক হতাশ। খেলোয়াড়েরা অসাধারণ কাজ করেছে, ওদের যা কিছু দেওয়ার ছিল, সবটুকু দিয়ে খেলেছে। মাঝেমধ্যে খুবই ভালো খেলেছে, মাঝেমধ্যে হয়তো বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে সেভাবে রাখতে পারিনি; বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। কিন্তু এটা নিয়ে কোনো অভিযোগ করা ঠিক হবে না। ওদের সঙ্গে কাজ করতে পারা অনেক আনন্দের ছিল। আমরা নিজেদের ইতিহাসে এর আগে যতটুকু করতে পেরেছিলাম, তার চেয়েও বেশি দূর এগিয়েছে ওরা। কিন্তু আজকের (কাল) রাতটা ড্রেসিংরুমে অনেক বেশি কষ্টের।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here