প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের পূর্ণাঙ্গ ডোজ নেওয়া মানুষের দেহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে পাঁচগুণ কম মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই তুলনা করা হয়েছে করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়ার অ্যান্টিবডির সঙ্গে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনে যে মাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে শনাক্ত ও এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। ভ্যাকসিন গ্রহণকারী মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অ্যান্টিবডির মাত্রাও কমে যায়। যা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত আরেকটি বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তার পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।

ফাইজার ভ্যাকসিনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৫ গুণ কম অ্যান্টিবডি তৈরি হয়: ল্যানসেট

যুক্তরাজ্য ফাইজার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। তাদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ভ্যাকসিনটির এক ডোজ নেওয়ার পর মানুষের দেহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির মাত্রা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টের (আলফা) বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির মাত্রা এর তুলনায় বেশি ছিল।যুক্তরাজ্যের ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের গবেষকদের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু অ্যান্টিবডির মাত্রা দিয়ে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। এজন্য সম্ভাব্য জনসংখ্যার গবেষণাও প্রয়োজন। নিম্ন নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডির মাত্রা করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

এই গবেষণায় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ২৫০ জন মানুষের রক্তে থাকা অ্যান্টিবডি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা ফাইজার ভ্যাকসিনের এক বা দুটি ডোজ নিয়েছে তিন মাসের ব্যবধানে। গবেষকরা ভাইরাসের কোষে প্রবেশ করা বন্ধ করতে অ্যান্টিবডির সক্ষমতা পরীক্ষা করেন করোনার পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে। এরপর তারা নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডির ঘনত্ব সব ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে তুলনা করেন।

অতীতের গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবডির ঘনত্বের পরিমাণ বেশি থাকা করোনার বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও ভালো সুরক্ষার ইঙ্গিত।

পর্যালোচনায় গবেষকরা দেখতে পান, ফাইজার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া মানুষের দেহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডির মাত্রা করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় পাঁচগুণ কম। এই ভ্যাকসিন করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে।

একটি মাত্র ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের দেহে অ্যান্টিবডির মাত্রা আরও কম ছিল। মূল ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ফাইজারের একটি ডোজ নেওয়ার পর ৭৯ শতাংশ মানুষের দেহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টের (আলফা) বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের (ডেল্টা) বিরুদ্ধে ৩২ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্টের (বেটা) বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে গ্রহণকারী ব্যক্তির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে যায়। তবে লিঙ্গ ও বিএমআই সূচকের পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয়নি।

গবেষণা দলে থাকা ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এমা ওয়াল বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট আমাদের আশেপাশে আসতে হয়ত কিছুদিন সময় লাগবে। ফলে আমাদের কর্মতৎপর ও সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণা মহামারির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে করে ঝুঁকি ও সুরক্ষায় বদলের প্রমাণ দ্রুত হাজির করা যায়।

গবেষকরা বলছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যত বেশি সম্ভব মানুষকে ভ্যাকসিন সুরক্ষার আওতায় আনা। যাতে করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে বেশিরভাগ মানুষকে ঠেকানো যায়। আর এটির জন্য সবচেয়ে ভালেঅ উপায় হলো দ্রুত দ্বিতীয় ডোজ এবং যাদের দেহে নতুন এসব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here