বাংলাদেশী প্রবাসীদের চোখে ‘নতুন নিউইয়র্ক’ নগর !


ব্রুকলিনে নেভি ইয়ার্ডে এক বক্তব্যে সিটি মেয়র বিল ডা. ব্লাজিও বলেন, হাজার হাজার মানুষ কাজে ফিরেছে। সবাই সুরক্ষানীতি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজ করলে; আমরা খুব দ্রত এই নগরী পুনর্নির্মাণ করতে পারব।

নিউইয়র্ক নগরীর জ্যামাইকায় অবস্থিত কুইন্স হাসপাতালের সহকারী নার্স সীমা সুস্মিতা বলেন, হাসপাতালে এখন করোনারোগীর সংখ্যা খুব নগন্য। আমাদের ৯০ সিটের এই হাসপাতালে লকডাউনের আগে গড়ে ১১০ জন সাধারণ রোগী আসত। আজ অর্ধেক রোগী এসেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। করোনা সন্দেহে আজ এসেছে চারজন। বাইরে থেকে যে চিকিৎসক-নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এসেছিলেন আমাদের সহযোগিতা করতে, তারা ফিরে গেছেন। করোনারোগী আসলে এখন স্বতন্ত্র আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এলমাস্ট এলাকার অধিবাসী রত্না দাশ। তিনি লকডাউনের আগে টেক্স ফাইলের কাজ করতেন। রত্না বলেন, আমাকে এখনও অফিস থেকে কাজের জন্য ডাকেনি। আমার স্বামী কাজ করতেন ডাউন ম্যানহাটনের ভিজিটরনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।

সারা আমেরিকায় বিক্ষোভ এবং করোনার কারণে এখনও প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়নি। তবে আমরা আজ বের হয়েছিলাম। আমার দুই বছরের ছেলে অদীপ্তের জন্য কিছু কেনাকাটা করার জন্য। জ্যাকসন হাইটসে ব্যাংকেও গিয়েছিলোম। সেখানে মানুষ আর মানুষ।

ব্র্রঙ্কস এলাকার একটি পার্লারের কর্ণধার কান্তা কাবির বলেন, নিউইয়র্কে দৈনিক মৃত্যুহার ৫০ জনের নিচে নেমে এসেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার ১০০ জনের নিচে নেমে এসেছে। যা নিউইর্য়কবাসীকে স্বস্তি দিচ্ছে। অতি সম্প্রতি নিউইয়র্ক গভর্নর এন্ডু কুমো রিওপেনিং ঘোষণা করেছেন। প্রথম ধাপে অতি জরুরি সেবা চালু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে স্বল্প জরুরি এবং নির্মাণশিল্প চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি পেশায় একজন কসমিউটলোজিস্ট। যখন জানতে পারছিলাম নিউইয়র্ক সিটি অতি শিগগিরই রিওপেনিং হতে যাচ্ছে। খুবই আশাবাদী হচ্ছিলাম যে আমার বিউটি সেলুনটিও রিওপেনিং হবে। কিন্তু কিছুদিন আগে সিটি থেকে জানানো হলো, আপাতত পুরুষের সেলুন খোলা হবে। পার্লার কিছুদিন পরে খোলা হবে। ইতোমধ্যে আমরা আমাদের সার্ভিসের নতুন নীতিমালা পেয়েছি। তারপরও ভালো লাগছে আমরা আগের মতো আবদ্ধ নই।

কুইন্সের অধিবাসী টেক্সিচালক রহিম উদ্দিন বলেন, এতদিন বাসায় থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। জানতাম কাস্টমার পাব না। তারপরও বের হয়েছিলাম। পুরো নগরী ঘুরে ঘুরে দেখছি। এ যেন একন নতুন নিউইয়র্ক। প্রচুর মানুষ নগরীর আনাচে-কানাচে কিন্তু কোনো কাস্টমার নেউ। সন্ধ্যা হয়ে গেল ট্যাক্সির ভাড়া তুলতে পারিনি। আরও যে কতদিন সময় লাগে সবকিছু স্বাভাবিক হতে কে জানে!

জানা গেছে, নিউইয়র্কে প্রথম ধাপে খুলছে নির্মাণকাজ, ম্যানুফ্যাকচারিং, দোকানের বাইরে থেকে মালামাল ওঠানামা ও খুচরা ব্যবসা। সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলি ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। এদিকে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে জারি করা কারফিউ আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *