মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে ,
আমি একজন অতি নগণ্য সাধারণ মানুষ । দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে আছি । কিন্তু আমার মা ভাইবোন সহ ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ । বাংলাদেশ আমার প্রিয় জন্মভূমি দেশের সুখে যেমন আনন্দিত হই । তেমনি দেশের দুর্দিনে ততবেশী ব্যাথিত হই । এই বেদনা শুধু আমার নয় প্রত্যেকটি প্রবাসীর বেদনা ।জানি না আমার আবেদন আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না ?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনাকে অনেক শক্তহাতে মোকাবিলা করতে হবে ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব স্বাস্হ্যসংস্হার এক রিপোর্টে দেখেছি এই কভিড১৯ এ প্রায় ২ মিলিয়ন লোক মারা যাবে । মনে করলাম এই রিপোর্টটি ভূয়া । কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয়জনকে বাঁচাতে অন্তত চেস্টা করতে হবে । একমাত্র আপনিই পারবেন বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে ।
প্রথমতঃ তড়িৎ গতিতে একটা করোনা জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করতে হবে ।
দ্বিতীয়তঃ দেশে কার্ফু জারী করতে হবে এবং ত্রাণ সামগ্রী মানুষের দুয়ারে পৌছে দিতে হবে ।
তৃতীয়তঃ দেশের প্রত্যেকটি বেসরকারি হাসপাতালকে সরকারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে । যেহেতু বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে প্রণোদনা দিতেছে । তারা চাইবে না আসতে কিন্তু তাদেরকে বাধ্য করতে হবে । আপাতত সব হাসপাতাল হবে সরকারী । সারা দেশে যত করোনা রোগী আসবে সব সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে । অন্যান্য সাধারণ রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে হবে । প্রত্যেকটা হাসপাতালের বর্হিবিভাগ থাকবে এবং যে সমস্ত রোগী আসবে । তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্হায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে । যদি করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায় তাহলে সরাসরি সরকারী হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে ।আর যদি কোন বেসরকারি হাসপাতাল আপনার স্কীমের আওতায় না আসে , তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে । দেশের এই দুর্যোগই যদি তারা না আসে , তাদের এই দেশে ব্যবসা করার কোন অধিকার রাখে না ।
চতুর্থতঃ যথেষ্ট পরিমান টেস্টিং কিট আমদানী করতে হবে । এখানে মুনাফা বা বাণিজ্যর কথা চিন্তা করলে চলবে না । যে কোন গ্রহণযোগ্য সাহায্য আমাদের মাথা পেতে নিতে হবে ।কিটগুলির যথাযথতা থাকতে হবে ১০০ভাগ ।
পন্চমতঃ দরকার হয় চায়না থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে আসতে হবে একটা বিশেষ সময়ের জন্য । যাতে তারা সেবাদানের পাশাপাশি আমাদের দেশের ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে ।
ষষ্ঠতঃ যথেস্ট পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য আমদানী করতে হবে যাতে দেশ খাদ্য সংকটে না পড়ে । ত্রাণ সামগ্রী যাতে চুরি না হয় সেজন্য একটা উপকমিটি তৈরী করতে হবে ।
সপ্তমঃ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল গঠন করা জরুরী এবং এই তহবিল আপনি নিজে দেখবাল করবেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কভিড -১৯ কমিটি তৈরী করেন । সেখানে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন , তাদের কাছ থেকে অবশ্যই আরো ভালো ভালো পরামর্শ পাবেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে । আমরা অনেক রাজনীতি করেছি এবং ভবিষ্যতে আরো করতে পারব । দয়াকরে আপনি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখুন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্নাসেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন । আপনার সাহস প্রশংসনীয় ।
মহামান্য প্রধানমন্ত্রী করজোড়ে অনুরোধ করছি এখন আমাদের প্রিয়জনকে বাঁচাতে হবে । এখন রাজনীতি অত্যন্ত গৌণ বিষয় । আপনি এগিয়ে আসুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী । আমি বেঁচে গেলাম কিন্তু আমার প্রিয়জন কেউ বাঁচল না , তাহলে এ বাঁচার কোন সার্থকতা নাই ।
হায়াতের মালিক মহান আল্লাহপাক কিন্তু রাস্ট্রের কর্ণধার হিসাবে আপনার দায়িত্ব অনেক বেশী । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকালে সত্তোরর্ধো মায়ের সাথে কথা বলেছি । ভীষণ ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন । আমার আরো তিন প্রিয়জনের সাথে কথা বলেছি — আমিন স্যার, শ্রদ্ধেয় মইন ভাই এবংআজিজ ভাইয়ের সবার একই অবস্হা । আমি ধরে নিচ্ছি দেশের ১৮ কোটি মানুষ খুব ভয়ে দিন কাটাচ্ছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একমাত্র আপনি পারেন আশারবাণী শুনাতে । ইনশাআল্লাহ আপনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা প্রবাসীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব ।
কবীর
ইংল্যান্ড
০৮/০৪/২০
