বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাষ্ট ইউকে সম্পর্কে কিছু কথা


বিশ্বনাথ এডুকেশন ট্রাষ্ট ইন ইউকে শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সনে এই বিলেতে বিশ্বনাথবাসী সচ্ছল প্রবাসীদের দ্বারা বিশ্বনাথের গরীব মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষা উন্নয়নে ভুমিকা রাখার জন্যে । সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করে ছোট একটি সংবিধানের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা ট্রাষ্টিশীপ নির্ধারণ করে যাত্রা শুরু হয় ।

২০১৪ সালে আমি ও নজরুল ভাইর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের তথাকতিত সিন্ডিকেট ভেঙে প্রায় পুরা প্যানেল নিয়ে পাশ করি এবং বেশ কিছু যুগান্তকারী কাজ ও পদক্ষেপ গ্রহন করি যা অতীতে আর কেউ করতে পারেনি ।
তার মধ্যে ট্রাস্টের রেজিষ্ট্রেশন অন্যতম ।

আমরা প্রথম বোর্ড মিটিংএ রেজিস্ট্রেশন এজেন্ডা এনে কাজ শুরু করি কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচন্ড চাপ ছিল অনেক দিন থেকে, অতীতের কমিটিগুলো বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, ব্যাংকে টাকা ফ্রীজ হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা, তাছাড়া বিগত বিজিএম এ ট্রাষ্টিদের দেয়া ওয়াদা বিবেচনায় এটা খুবই জরুরী ছিল ।

আমরা পর পর ৪/৫ টি বোর্ড মিটিংএ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করি, বাংলাদেশের এনজিও ব্যুরো, সমাজসেবা অদিদপ্তর, ল্যান্ড রেজিষ্ট্রি নিয়ে বিষধ গবেশনামুলক আলোচনার পর বোর্ডে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এজিএমে প্রিন্টেড রিপোর্ট আকারে জেনারেল সেক্রেটারী তা উপস্থাপন করেন, প্রায় ৫৭ জন (রেকর্ডেড) ট্রাষ্টি আলোচনায় অংশ নেন এবং সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হওয়ার পর আমরা বাংলাদেশে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করি।

তারপর লন্ডনে ফিরে এসে বোর্ড অফ ম্যানেজমেন্ট এ ১২:৩ ভোটে অনুমোদন নেই এবং সবাইকে কপি পাঠাই । অবশ্য এ তিনজন রেজিস্ট্রেশনের বিরাধিতা করেনি, তারা বলেছিল স্পেশাল এজিএম ডেকে অনুমোদন নিতে আর আমরা বলছিলাম যেহেতু সামনে বিজিএম আছে তাহলে আর স্পেশাল এজিএমের প্রয়োজন নেই ।
সেই থেকেই সমস্যার শুরু ……

তখন থেকেই তথাকতিত সিন্ডিকেটের সুবিধাভুগী গুটিকয়েক নেতা এই রেজিস্ট্রেশন ভুল হয়েছে, সাত জন মালিক হয়ে গেছেন, সংবিধান বদলে গেছে …ইত্যাদি অপপ্রচার করে গোপন মিটিং করতে শুরু করেন ….
এমনি এক মিটিং এ সাধারন ট্রাষ্টীদের বাধার মুখে জনাব ফিরুজ খান ও সাহিদুর রহমান সমন্বয়ে মেডিয়েশনের উদ্যোগ নেয়া হয় । যার ফলে বাংলাদেশ থেকে রেজিস্ট্রেশন এর উপর লিগাল অপিনিয়ন আনা হয় এবং জনাব ফিরুজ খান সাহেবসহ অন্যান্য রা বাংলাদেশে গিয়ে তথ্যউপাত্য নিয়ে এসে দুই দুইটা এসজিএম করে জানিয়ে দেয়া হয় যে রেজিষ্ট্রেশন সঠিক । কিন্তু চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী ।

তারা এ রেজিষ্ট্রেশন মানতে নারাজ । তাই আমরা সিদ্ধান্ত দিলাম….আমরা যা করেছি ঠিক করেছি, ভুল প্রমান করতে পারেননি, আমরা ইলেকশন দিচ্ছি, আগামী বিজিএম এ ইলেকশনে আসেন, ট্রাষ্টিদের ম্যান্ডেট নিয়ে এসে পারলে বাতিল করেন । বিজিএম হলো, আমরা আমাদের কার্যক্রম অনুমোদন করালাম । নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউ না পেয়ে যৌথ কমিটি হলো । দায়ীত্ব হস্তান্তর হলো…. মেডিয়েশন কমিটিসহ মিটিং হলো ।

দায়ীত্ব দেয়া হলো নতুন সভাপতিকে তিনিসহ তার সাথীরা যেসব অভিযোগ করেছিলেন তা প্রমান করে কার্যকারী ব্যবস্থা নিতে । কিন্তু কোথায় কাজ ! নিজের কমিটি চালাতে হিমশিম খেয়ে ব্যর্থতার আস্তাকুঁড়ে যখন নিক্ষিপ্ত, তখন সেই আমরাই আবার যখন গর্ত থেকে টেনে এনে বিশ্বনাথের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে একটা আপোষ রফায় উপনিত হই, এবং দায়ীত্বশীল ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ করে দেয়া হয় তখনই আবার সেই সব পরশ্রীকাতর হিংসুকদের কার্যক্রম আমাদের সেই ব্রিকলেন মসজিদের ঐতিহাসিক সমজোতা মিটিং এর মুল ঊদ্দেশ্যকে ম্লান করে দিয়েছে ।

সেই মিটিংএর পরে হাইকোর্টে রিট্, বর্তমানে আবার সিলেটে সাবজজে মামলা এবং এসব মামলায় সব মিথ্যা, উদ্ভট, বানোয়াট অভিযোগ তাদের হীন হিংসুক মানসিকতার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে । আমরা এসব হীন তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং যেসব অনলাইন গণমাধ্যম এসব নিয়ে সংবাদ প্রচার করছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাতো সমাজে এখনো স্বশরীরে বহাল তবিয়তে বর্তমান, সংবাদ কর্মী হিসেবে কি দায়ীত্বে পড়ে না তাদের মতামত নিতে ! পড়া লেখা জানিনা ভাবলে ভুল করবেন । আসলে ট্রাষ্ট নিয়ে মিডিয়ায় যাবনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত পারলামনা ।

বর্তমানে যারা এসব করছেন তারা তাদের টার্ম শেষ করেছেন অনেক আগেই, একটা কমিটি ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েই আছে, ভাইরাসের দোহাই দিয়ে আঁকড়ে পড়ে আছেন ! লজ্জা সরম না হয় বাদই দিলাম, সামান্যতম বোধশক্তি থাকলেতো জানার কথা তাদের পক্ষে ট্রাস্টের কোনো নির্বাহী কাজ সমীচিন নয় ।

ট্রাষ্ট রেজিষ্ট্রেশন যা আপনারা সবাই মিলে (সিন্ডিকেটবাসী) বিগত ২০ বৎসরেও পারলেন না আর আমরা এসে মাত্র এক বৎসরে করে ফেললাম, তাও আবার সব ট্রাষ্টিদের নাম মাবাবার নামসহ ডিডে ঢুকিয়ে দিলাম, এগুলো আপনাদের সহ্য হওয়ার কথা নয়, কারন আপনারাতো ট্রাষ্টের কর্যক্রম সাধারণ ট্রাষ্টিদের জানাতে অভ্যস্ত নয় ।
শুধু আমরা করেছি বলে হিংসার বশবর্তী হয়ে বাতিল করতে চাচ্ছেন, নাহয় মামলার আর্জিতে আপনাদের আসল অভিযোগগুলো দেন না কেন ? সাধারন ট্রাষ্টিদের যেগুলো বোঋায়ে ভোট নিলেন সেগুলো কোর্টে বলেন না কেন ? ল্যান্ড রেজিষ্ট্রিতে ভুল তাহলে কোথায় করবেন ? বলেন না কেন ?

রেজিষ্ট্রেশন আমরা করেছি, আমাদের অধিকার নিয়ে, সাধারন ট্রাষ্টিদের ম্যন্ডেট নিয়ে । আমরা তখন নির্বাচিত কমিটি ছিলাম এবং করেছি তা নির্বাচিত হবার প্রথম বৎসরেই । অভারস্টেয়ার হয়ে নয় ।

সম্মানিত ট্রাষ্টবৃন্দ, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনাদের বিবেক খাটিয়ে ট্রাস্টের স্বার্থ বিবেচনায় এনে আপনাদের মতামত দিন । ট্রাষ্ট রেজিষ্ট্রেশনে যদি কোনো আইনি ভুল হয়ে আমি তা মাথা পেতে নিতে বাধ্য থাকিব । আপনাদের ট্রাষ্ট আপনাদেরকেই রক্ষা করতে হবে । আবার সেই সিন্ডিকটের কাছে বর্গা দিয়েন না ।আজকের মতো এখানেই শেষ ।
মির্জা আসহাব বেগ
সাবেক সভাপতি
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাষ্ট ইউকে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *