
কারণ, ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করবেন আবরার। সেদিন রাত আটটার দিকে হলের ছাত্র এহতেশামুল ও মুনতাসির আল জেমি তাঁদের কক্ষে আসেন এবং আবরারকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ‘বড় ভাইয়েরা’ তাঁকে (আবরার) ডাকছেন বলে জানান এহতেশামুল।
আবরারের কী হয়েছে, তা রাফির কাছে তানভীর জানতে চেয়েছিলেন। তখন রাফি জানিয়েছিলেন, আবরার মারা গেছেন। সেখানে ওই সময় মেহেদি হাসান ওরফে রাসেল (আসামি) ও বুয়েটের চিকিৎসক মাসুক এলাহীকে দেখতে পান তানভীর। রাসেল তখন চিকিৎসককে বলেছিলেন, আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে। তখন চিকিৎসক মাসুক এলাহী জানান, আবরার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগেই মারা গেছেন।
সাক্ষী তানভীর আদালতে বলেন, তাঁরা যখন আবরারের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন আরেক রুমমেট মিজানুর রহমান তাঁদের কাছে আসেন। তাঁদের উদ্দেশে মিজানুর রহমান বলেছিলেন, ‘১৫তম ব্যাচের পলিটিক্যাল ছাত্ররা বলে দিয়েছে, এই ঘটনা পুরোটাই পলিটিক্যাল ম্যাটার। পলিটিক্যালি বিষয়টি হ্যান্ডল করবে।’ এ বিষয়ে তাঁরা যেন কাউকে কোনো উল্টোপাল্টা কিছু না বলেন, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মিজানুর।
তানভীর আদালতে বলেন, তখন সেখানে উপস্থিত হলের প্রভোস্টসহ অন্যদের তাঁরা বলেছিলেন, আবরারকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাত ৮টায়। এখন (রাত ৩টা) তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই মৃত্যু স্বাভাবিক না। তানভীর আরও বলেন, আবরার ফাহাদের মৃত্যুর বিষয়টি যাতে ধামাচাপা না পড়ে যায়, সে জন্য তিনিসহ অন্যরা সেদিন হলে আন্দোলনও করেছিলেন। হলের সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে যাতে কোনো ঝামেলা না হয়, সে জন্য আন্দোলন করেছিলেন তাঁরা।
গত বছরের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটে শেরেবাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটি আমলে নেন আদালত। তিন আসামি পলাতক। গত ২ সেপ্টেম্বর বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
