প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: ব্রিটেনে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় দফা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন প্রফেসর রবি গুপ্ত। বৃটিশ সরকারকে পরামর্শ দেন যেসব বিজ্ঞানী, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। রবি গুপ্ত ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের প্রফেসর। তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাসে নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে এলেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামী ২১ শে জুন ইংল্যান্ডে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে প্রফেসর রবি গ্রপ্ত। তিনি বলেছেন, এই বিধিনিষেধ আরো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল রাখা উচিত। পরিকল্পিত লকডাউন শিথিল করা বিলম্ব করা হবে না এমনটা বলেননি পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী জর্জ ইউসটিস।

ব্রিটেনে করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্কতা

এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, রোববার বৃটেনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৩ হাজার মানুষ। ১২ই এপ্রিল থেকে এই সংখ্যা এর আগে অতিক্রম করেনি বা এই সংখ্যায় পৌঁছেনি সংক্রমণ। বিবিসি রেডিও ফোর-এর টুডে প্রোগ্রামে প্রফেসর রবি গুপ্তের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বৃটেন কি এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ে পৌঁছেছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন- হ্যাঁ, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে তিন চতুর্থাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। অবশ্যই আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে তুলনামূলকভাবে কম। করোনার সব ঢেউ শুরু হয় অল্প সংখ্যা দিয়ে। এরপরে তা বিস্ফোরকের রূপ ধারণ করে। তাই এখন যা দেখা যাচ্ছে, তা আরেকটি সংক্রমণ ঢেউয়ের প্রাথমিক অবস্থা।

এরই মধ্যে বৃটেনে বহু সংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগের ঢেউগুলো যতটা দ্রুততার সঙ্গে ঘটেছে এবারের নতুন ঢেউ তার চেয়ে বেশি সময় নেবে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তার একটি মিথ্যে অনুভূতি কাজ করতে পারে কিছু সময়ের জন্য। এটাই আমাদের উদ্বেগ। তিনি নিউ অ্যান্ড ইমার্জিং রেসপিরেটরি ভাইরাস থ্রেটস এডভাইজরি গ্রুপেরও একজন সদস্য। বলেছেন, জুনে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হওয়ার কথা। কিন্তু এই বিধিনিষেধ আরো বিলম্বিত করা উচিত। বিলম্বিত করা উচিত আরো কয়েক সপ্তাহ।

উল্লেখ্য, ভারতে শনাক্ত বি.১.৬১৭.২ বৃটেনের কেন্টে পাওয়া ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা রাখে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা। বল্টন, ব্লাকবার্ন, উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের সেফটন এবং দক্ষিণ-পূর্বের বেলফোর্ড, চেমসফোর্ড এবং ক্যান্টারবারিতে যে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তার বেশির ভাগই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঘটিয়েছে। বল্টনে টিকা দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তা ড. হেলেন ওয়াল বলেছেন, ওই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনো স্থান নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here