প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি ভারতে অসহিষ্ণুতা বেড়ে গেছে অনেকটাই। এই মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশিষ্টজনেরা চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে দলিত ও মুসলিমদের গণপিটুনির ঘটনায় কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী। এ ধরনের ঘটনায় জামিন ছাড়াই যাবজ্জীবন সাজার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, চিঠিতে ‘জয় শ্রী রাম’ প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুঃখজনকভাবে বর্তমানে উস্কানিমূলক যুদ্ধের স্লোগানে পরিণত হয়েছে ‘জয় শ্রী রাম’। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত হচ্ছে। এই নাম করেই বহু গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন, ২০০৯-এর ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মজনিত ২৫৪টি হেটক্রাইমের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে দলিতদের শোষণের ৮৪০টি ঘটনা ঘটেছে। প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এই সব ঘটনার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
ওই চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেছেন, আদুর গোপালকৃষ্ণণ, মণিরত্নম অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, অনুরাগ কাশ্যপ, বিনায়ক সেন, কঙ্কনা সেনশর্মা, রেবতী, শ্যাম বেনেগাল, শুভা মুদগল, রূপম ইসলাম, অনুপম রায়, অঞ্জন দত্ত, গৌতম ঘোষ, পরমব্রত ও ঋদ্ধি সেনের মতো বিশিষ্টজনের।
মুসলিম নি’র্যা’তন বন্ধে মোদিকে চিঠি দেওয়া ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা!
মুসলিম নির্যাতন বন্ধে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভা’স্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। আর এ কারণে তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার আর্জি করে পিটিশন দেওয়া হয়েছে। এ পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অ’গ্নিহো’ত্রীদের।

৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন- আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনসহ চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনেরা।
বিহার আদালতে মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আ’ঘাত, রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ করে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন এক আইনজীবী।
বিহারের আদালত সূত্রে জানা যায়, ‘এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মোদিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গোমাংস খাওয়া নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, জয় শ্রীরাম না-বলায় পেটানো হচ্ছে। এমনকী হ’ত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। বারবার এটা হওয়া উচিত নয়।
চিঠিতে তারা মোদিকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।
