প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে উল্টো সমালোচনায় ঝড়ালেন কাউন্সিলররা। সেই সঙ্গে মেয়রের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা কাউন্সিলরদের ‘ঐক্যেজোটেও’ ফাটল ধরেছে। ঘরে-বাইরে নানা প্রশ্নে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিকর্কে জড়ানো কাউন্সিলরদের।
কেন, কি কারণে মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অভিযোগ, কেন মত পাল্টালেন তারা-বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের এই একটি প্রশ্নই এখন বাবর বার ঘুরে ফিরে আসছে। এ নিয়ে দু’দিন ধরে আমজনতার মুখে নানা আলোচনা, গুঞ্জণ চলছে। হঠাৎ করে মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের বিদ্রোহ, অসন্তোষের কারণও খোঁজা হচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, সিটি করপোরেশনের পরিষদ থাকলেও নগরীতে চলমান হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প একাই দেখভাল করছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে নগরী। তাঁর এহেন কর্মে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষও।
উন্নয়নযজ্ঞে তারা ত্যাক্ত হলও বিরক্ত হচ্ছেন না। সবাই চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দ্রুত একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী চান। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খার দ্রুত প্রতিফলন ঘটাতেই দিন-রাত সব কাজেরই তদারকি করছেন মেয়র। সঙ্গে আছেন কয়েকজন কাউন্সিলরও। এক্ষেত্রে নিজ থেকেই উপেক্ষিত কাউন্সিলরদের একটি অংশ।
তারা সব কাজে মেয়রের তদারকি সহ্য করতে পারছেন না। আছে চলমান হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগবাটোয়ারা, চাওয়া-পাওয়ার ক্ষোভ। এক কাউন্সিলরের জায়গা বিক্রির তদবির। জনবল ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়। কিন্তু মেয়রের কাছে এসব বিষয় গুরুত্ব পায়নি।
আর এ নিয়েই ক্ষোভের সৃষ্টি বলে জানিয়েছেন নগরভবন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। মেয়রকে চাপে ফেলতে অভিযোগপত্রও তৈরী হয়। তাতে স্বাক্ষর করেন ২২জন কাউন্সিলর। কিন্ত অভিযোগপত্রে অপসারণ না প্রতিকার-এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
সবশেষে অপসারণ শব্দ, ধারা বাদ দিয়ে গোপনে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগপত্র দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ দেয়ার আগেই গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় এবং তাতে ত্রুটি থাকায় তোলপাড় শুরু হয়, কউন্সিলরদের ঐক্যেও ফাটল ধরে।
অভিযোগ দাখিলের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী ১০জন কাউন্সিলর মত পাল্টান। যুক্ত বিবৃতি দিয়ে আগের স্বাক্ষর অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীসহ ২৪জন কাউন্সিলর আরেকটি যুক্ত বিবৃতি দিয়ে মেয়র আরিফের প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেন। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল বিতর্কে না জড়ানো তিন কাউন্সিলরের। তাদের কৌশলী ভূমিকায় বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের বড় একটি অংশ বসে আসে, স্বাক্ষর করেন বিবৃতিতে।
এর পর পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ফাঁটল ধরে মেয়র বিরোধী ঐক্যজোটে। রাতেই এ নিয়ে নগরীর চৌখিদেখির একটি বাসায় বৈঠকে বসেন তারা। বৈঠকে অভিযোগপত্র ও বিবৃতিতে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়ে আলোচনা হয়।
ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক কাউন্সিলর বিষয়টি নতুন সিলেটকে স্বীকার করেন। এর পর আরেক দফা বৈঠক হয়। সংবাদ সম্মেলন ডেকে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরার পক্ষে মত দেন অনেক কাউন্সিলর। কিন্তু এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। আশঙ্কা আছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডাকার। এ ক্ষেত্রে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসারও আশঙ্কা আছে অনেকেইর।
মেয়র ও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া কাউন্সিলরদের মধ্যস্ততাকারী এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন সিলেটকে বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আমরা সকল কাউন্সিলর নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে মেয়রকে সব ধরণের ক্ষমতা দিয়েছি। এখন তাকে চাপে বা বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার মানে নগরীর উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করা। প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরী করা। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা কয়েকজন বিতর্কিত কর্ম থেকে দূরে রয়েছি।
তিনি বলেন, ক্ষোভ থাকতেই পারে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। যারা অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন, আবার আমাদের অনুরোধে মত পাল্টিয়েছেন। এতে করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তাদের নৈতিক অবস্থান। আর অবস্থান,ক্ষমতা আরও শক্ত হয়েছে মেয়রের।
