প্রবাস বার্তা ২৪.কম যুক্তরাষ্ট প্রতিনিধি মনজুরুল করিম তুহিনঃ– শীতপ্রধান অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য সামার বা গ্রীষ্মকাল তাদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বৎসরের বেশিরভাগ সময় যাদের কাটাতে হয় হাড় কাঁপানো শীত আর তুষারের সাথে সংগ্রাম করে, তাদের কাছে গ্রীষ্মকালের আরামদায়ক তাপমাত্রা এক পরম পাওয়া। অন্যদিকে উত্তরমেরু সংলগ্ন হওয়ার কারণে শীতকালের ব্যাপ্তি হয় বেশ দীর্ঘ, বিপরীতে আকাঙ্খার গ্রীষ্মকালের ব্যাপ্তি হয়ে থাকে তুলনামূলক স্বল্প, আর সে জন্য এই অঞ্চলের মানুষ গ্রীষ্মকালের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এদিকে স্বল্প সময়ের গ্রীষ্মকাল, তার উপর রমজান মাস গ্রীষ্মকালে হওয়ায় সেই ব্যাপ্তি আরো কমে গেছে। কারণ সংযমের মাসে তো আর গ্রীষ্মকালীন একটিভিটি করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।
এবছর মিশিগানে সামার বেশ দেরিতেই এলো। জুনের মাঝামাঝি পর্যুন্ত এবার গরম অনুভূত হয়নি, সেজন্য যেসব প্রবাসীরা সামার গার্ডেনিং করে তাদের বাগানের ক্ষেতের ফসল এবার অনন্যবারের তুলনায় অনেক দেড়িতেই ঘরে উঠবে। এটা নিয়ে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। সামার দেরিতে আসার কারণে স্থানীয় আমেরিকানদের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকানরাও আর দেড়ী না করে শুরু করে দিয়েছে সামার এক্টিভিটিগুলি। এইসব একটিভিটির অন্যতম হলঃ নিজের ব্যাকইয়ার্ডে গার্ডেনিং, সামার ক্যাম্প, পিকনিক, দূরের কোনো বিচে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। এই সময় বাচ্চাদের স্কুলে লম্বা ছুটির কারণে অনেকে আবার প্রিয়জনদের সাথে ছুটি কাটাতে চলে যায় বাংলদেশে। তবে এসবের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠনের পিকনিক বা বনভোজনের আয়োজনগুলি প্রবাসীদের কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হয়ে আছে। প্রতিটি পিকনিক হয়ে ওঠে প্রবাসীদের মিলন মেলা।
এবারের সামারের শুরুতেই যুক্তরাষ্টের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রথম বনভোজনটির আয়োজন করে মিশিগানে বসবাসরত বৃহত্তর চট্রগাম অঞ্চলের অধিবাসীদের নিয়ে গঠিত “গ্রেটার চট্রগ্রাম এসোসিয়েশন অফ মিশিগান”! চট্রগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া
মেজবানীর আদলে আয়োজনকৃত গত জুনের ৩০, রবিবারের বনভোজনটির নামও দেয়া হয় “চাটগাঁইয়্যা মেজবানী”! স্থানীয় ওয়ারেন সিটির হেলমিশ পার্কে অনুষ্ঠিত মেজবানীতে নানান রকম ঐতিহ্যবাহী দেশি খেলাধুলার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা দেশীয় এবং চট্রগ্রামের স্থানীয় জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন করেন, সেই সাথে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি এবং বিভিন্ন দেশীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় স্টেট রিপ্রেসেন্টেটিভ ইসাক রবিনসন! সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মাহফুজ চৌধুরী, সদস্য সচিব গিয়াস তালুকদার, ওমর ফারুক, জিয়া উদ্দিন নিজামী, যতন বড়ুয়া, মোঃ হোসেন, সুব্রত ধর, কামরুজ্জামান, কানন বড়ুয়া, মোঃ ফিরোজ, পুলিন বড়ুয়া, রণজিৎ বণিক, অজিত বড়ুয়া প্রমুখ সহ আয়োজক কমিটির অনন্য সদস্যবৃন্দ।
চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া মেজবানী স্টাইলে রান্না করা গরুর মাংস সাথে বুটের ডাল এবং স্যালাড ছিলো প্রধান খাবারের মেনু যা চাটগাঁইয়া মেজবানীর ঐতিহ্যকেই মনে করিয়ে দেয়। শত শত প্রবাসীর আগমনে পার্কটি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে, আর এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে সবাইকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হয়। বনভোজনটি বৃহত্তর চট্রগ্রাম এসোসিয়েশনের হলেও প্রায় সব অঞ্চলের প্রবাসীরই ছিল আমন্ত্রিত, আর তাই বনভোজনটি হয়ে ওঠে প্রবাসীদের মিলন মেলা।
