লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা


বেশির ভাগই ছিল পাকিস্তানের নাগারিক।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে সমুদ্র পথে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অনেকেই বিপদজনক এই যাত্রা বেছে নেয়। এদের বেশির ভাগেরই গন্তব্য ইতালি। সে পথে বহু বাংলাদেশিও ইতালিতে গিয়েছেন। যাদের মধ্যে নোয়াখালীর বাসিন্দা গোলাম রাব্বি গত বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছেন।

কিভাবে এই ভয়ঙ্কর পথ পাড়ি দিলেন?

বর্তমানে ইতালিতে থাকা মিস্টার রাব্বি বলেন, আমাদের যখন লিবিয়ার লোকেদের কাছে দেয়া হয়েছে তখন লিবিয়ায় ১ সপ্তাহ একটা গুদামের ভেতরে ছিলাম। গুদামের ভেতরে নিন্মমানের খাবার আর সাড়ে ৩’শ মানুষের একটি মাত্র শোচাগার ছিল।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার খবর কিভাবে জানলেন?

তিনি বলেন, লিবিয়াতে থাকার সময় আমাদের সঙ্গে আরো বাঙালি ছিল। এইসব বাঙালিরা ইতালিতে গিয়ে আমাদের ফোন করে বলেছেন কিভাবে গিয়েছে। ওরা যেভাবে গিয়েছে বিষয়টি জানালে আমরা খোঁজ করি। ওরাতো বলেছে, একটি লোকের মাধ্যমে অনেক সহজেই ইতালিতে পৌঁছেছে বাঙালিরা। বাস্তব অভিজ্ঞতা খুবই ভয়াবহ। নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এর ভয়াবহতা।

যারা লিবিয়ায় চলে আসে তারা ইচ্ছা করলে চলে ফিরে যেতে পারে না। টাকা দিয়ে লোক কিনে নেয় লিবিয়া। এই টাকার জন্য প্রয়োজনে মানুষকে মেরে ফেলে লিবিয়ানরা তাও ফিরে আসতে দেয় না। লিবিয়া থাকতে হবে না হলে গুলি করে মেরে ফেলে। লিবিয়া থাকা বহু প্রবাসীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে।

গোলাম রাব্বি বলেন, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য খরচ হয়েছে ৩ হাজার দিনার যা বাংলাদেশের ১ লাখ ৮০ হাজার। অনেকেই ৫ লাখ টাকা খরচ করেও আসতে পারে না। ২৬ মিটারের একটি নৌকায় সাড়ে ৫শ লোক নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে যাত্রা শুরু করেছিলাম। ৯ ঘণ্টা যাওয়ার পর ইতালিয়ান শিপ দেখা যায় অনেক সাহায্য চাই। আমাদের পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে ইতালিয়ানদের সাহায্য করতে বলি এবং উদ্ধার করার জন্য। ইতালিয়ানরা ৩ ঘণ্টা দেরিতে উদ্ধার করতে আসে।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *