৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী। স্মরন করা যেতে পারে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই বাংলাদেশ তার জাতীয়তাবাদী পররাষ্ট্রণীতি দিয়ে বিশ্বের বুকে সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লাভ করেছিল।

১৯৭৮ সালে জাপানকে পরাজিত করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া, জোট নিরপেক্ষ ব্যুরোর সদস্যপদ লাভ এবং জেরুসালেম কমিটিতে বাংলাদেশের নির্বাচন, ইসলামী শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের তিনজন ব্যুরো সদস্যের নির্বাচনসহ অন্তত বিশটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফল পররাষ্ট্র নীতির সাখ্য বহন করে।
শহীদ জিয়া দেশকে আধিপত্যবাদী বলয় থেকে বের করে এনে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণের মাধ্যমে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সু-সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশ, চীন ও মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের সব বাধা অপসারিত হয় শহীদ জিয়ার আমলেই। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশ সমূহের সাথে ভাল কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁর স্বল্প মেয়াদি শাসন আমলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়।

বলাবাহুল্য, পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের ওপরই নির্ভর করে একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। শহীদ জিয়ার আমলেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের মাধ্যমে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। খাদ্যাভাব ও দূর্ভিক্ষ মুকাবেলার লক্ষে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্হায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন দেশে পরিনত করেন।গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠা করেন এবং কলকারখানায় তিন শিফটে উৎপাদন চালু করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার দূরদূষ্টির ফলে একদলীয় শাসন ব্যবস্হার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্হা ফিরিয়ে আনেন।সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্যের ধারা প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আত্মমর্যদাশীল রাষ্ট্রের গৌর্রব অর্জন করেন। শাহাদত বার্ষিকীর এই দিনে কায়োমান্য বাক্যে পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।
শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস
(বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী)
