এই বাংলাদেশে শিপ্রা একমাত্র নারী যে কীনা ধূমপান করে, শর্ট কাপড় পড়ে, ছেলেদের সাথে মিশে আর কোন মেয়েরা এইগুলো করছে না। আর যারা করছে তাদের চরিত্র খুবই খারাপ, তাদের অনায়াশে বেশ্যা – মাগী লিখে মন্তব্য করাই যায় ।
একটা মানুষ খুন হয়ে গেল আর পুলিশের কিছু কর্মকর্তা যেখানে এই কাজে জড়িত এবং র্যাবের মতো একটি সংস্থার হাতে মামলাটি আছে সেখানে প্রশাসনের লোকদের ফেইসবুক থেকে এই ধরণের ব্যক্তিগত ডকিউমেন্টস লিক হয় কী করে !! খোঁজ নিয়ে দেখলাম এগুলো শিপ্রার কোন আই ডি থেকে নেওয়া না, সবই তার ল্যাপটপে ছিল।
এখন আমি যদি আমার ঘরে কাপড় খুলে নাচি এবং তার ভিডিও বানিয়ে আমার বন্ধু ল্যাপটপের ফোল্ডারে রেখে ঘুমিয়ে যায়, আজ রাতেই আমার ঘরে ডাকাত পড়লো আর সে খুন হয়ে গেল। পুলিশের কাজ কী হবে? আমার ল্যাপটপ নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা নাকি আগে দেখা যে আমার বাড়িতে কখোন কে এসেছিল এবং কিভাবে খুন করা হয়েছে। আমার নাচের সাথে যদি আমার বন্ধু খুনের সংযোগ থেকে থাকে সেই তথ্য সাধারণ জনতা জানবে কেন?
আমি কোন আইন নিয়ে পড়াশোনা করিনি, তবু এইটুকু জানি যে কারো ব্যক্তিগত তথ্য তার অমতে প্রকাশ করা বেয়াইনী । যারা ইউটিউব সাংবাদিকতা করছেন , তারা কোন রকম সূত্র ছাড়াই মেজর সিনহা হত্যার সাথে শিপ্রার চরিত্রের একটি যোগসূত্র করে দিচ্ছেন যেটা খুবই ন্যাক্কারজনকতো অবশ্যই , তারাও জেনেবুঝে অন্যায় করছেন।
গেল কয়েক বছর এমন নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটার পর কোন না কোন ভাবে মেয়েদের চরিত্র নিয়ে কথা বলাটা এই দেশের কিছু আহাম্মকদের হাজার খানেক অকাজগুলোর একটা অকাজ হয়ে গেছে। আইনের প্রতি যদি সবাই এতো শ্রদ্ধা দেখাতেন তাহলে নিজে নিজে বিচারপতি হতেন না আর এবার এই অপকর্মটি করছেন স্বয়ং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, তাহলে সাধারণ অশিক্ষিত জনতা আর কী করবে !!
তনু’র কথাই বার বার মনে পড়ে এখন, সেনানিবাসের ভেতরে পড়ে থাকা লাশটিকে নিয়েও কম টানাহেচড়া হয় নি। কিন্তু সুরাহা কেও কি কিছু করতে পেরেছে, ‘এই মেয়ে নাটক করে কেন, এতো রাতে কোথা থেকে ফিরছিল, কার সাথে প্রেম আছে ‘ – এই নিয়ে জরিপ হয়েছে বেশি ৷
তনুতো খুব পর্দানশীল মেয়ে ছিল ? শিপ্রার মতো শরীর দেখিয়ে নাচতো না, তাহলে তার খুনের বিচার করতে পারলো না কেন এই পর্দা পর্দা করা ( পর্দায় ঢাকা) সমাজ ???
নুসরাতের মতো পুড়ে মরে প্রমাণ করতে হয় এদেশে যে নারী সতী সাবিত্রী ছিলেন, তারপর যদি বিচার পাওয়া যায় বাংলাদেশে!!
#মেজর সিনহা হত্যাকান্ড
