প্রবাস বার্তা ২৪ ডট কম নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার ১৪ই জুলাই ২০১৯ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত নানান জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬ জুন থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এরশাদ।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজনীতিক না হয়েও রাজনীতির আলোচনায় ছিলেন প্রায় পুরোটা জীবনভর। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতির আলোচনায় আসেন তিনি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এই সামরিক শাসক।
স্টাইলিশ এরশাদ ছিলেন দারণ রোমান্টিক। ছিলেন আড্ডাপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। নব্বই বছর বয়সেও চাঙা ছিলেন কবিতা প্রিয় এরশাদ। চায়ের আড্ডায় এরশাদের রাজনীতির পাশাপাশি ছিল তার ব্যক্তি জীবনও। সব ছাপিয়ে পতিত সামরিক শাসক এরশাদ হয়ে উঠেছিলেন নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত পুরুষ।

১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেয়া এরশাদ সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন। কেবল তাই নয়, গণমানুষের বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুরের মানুষের কাছে অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
১৯৮১-১৯৯০ পর্যন্ত তাঁর সময়ে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ তাঁর আমলেই হয়েছে। উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় তাঁর আমলেই। প্রতিটি মসজিদে বিদ্যুৎ বিল তিনিই ফ্রি সার্ভিস ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী বেতনের সাথে যে বোনাস (উৎসব ভাতা) পাচ্ছেন সেটা কিন্তু তিনিই চালু করেন।
এরশাদই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র সমরিক শাসক, ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রায় তিন দশক জাতীয় রাজনীতিতে, ক্ষমতার সমীকরণে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাঁর মৃত্যুতে অভিভাবক শূন্য হলো দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন তিনি। জাতীয় পার্টি গঠন করেন ১৯৮৬ সালে। গণতন্ত্রের কথা বলে সে বছরই সংসদ নির্বাচন দেন তিনি। সেই পরিকলপনা ভেস্তে যায়, বছর খানেকের মধ্যে বাতিল হয় সেই সংসদ ।
সামরিক শাসক হলেও জনপ্রিয় কিছু কর্মসূচি নেন এরশাদ। রাস্তাঘাট-অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন, ৬৪ জেলা বাস্তবায়ন এসব কাজ করে রাজনীতিক হয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল তার।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার পাকাপোক্ত করেন এরশাদ। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানেন তিনি। “৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাচবে” ছিল তার শ্লোগান। পরিচিত হয়েছিলেন “পল্লীবন্ধু এরশাদ” নামে।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ছাড়াও প্রতিবেশিদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়েছিলেন এরশাদ। তাদের কাছ থেকে পেয়েছেন নানা রকম সাহায্য।
ক্ষমতায় থাকাকালে চেষ্টা করেও শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন করতে পারেন নি তিনি । তবে ঢাকাসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো তখন। নব্বইয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
তারপর জেলে যেতে হয় তাকে। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় দেশের তৃতীয় বড় দল হয়ে উঠে জাতীয় পার্টি। জীবনের শেষ পর্যন্ত মামলার চাপে পর্যদুস্ত ছিলেন প্রায় পুরোটা জীবন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা এই রাজনীতিক। পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন- সেটি নিয়েও আলোচনায় ছিলেন তিনি। আলোচনা-সমালোচনা যাই থাকুক, ব্যক্তি জীবন আর রাজনীতিতে আনপ্রেডিক্টেবল এই মানুষটি বহুবছর থাকবেন আলোচনায়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে প্রবাস বার্তা ২৪ ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়, মহাণ আল্লাহ যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
