অকৃত্রিম ভালোবাসা তোমায় – মোহাম্মেদ কবির আহমেদ


যার কথা লিখছি তিনি হলেন মি: রজার গোয়েন । দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ড গ্লোস্টাশায়ারের বাসিন্দা । গত দুই বছর আগে তিনির ৬০ এর দশকের সাদা কালো ছবিগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম । আমি ছবিগুলো আমার পেইজে শেয়ার ও করেছিলাম । ঢাকার ছবি এবং বিশেষ করে আমাদের সিলেটের ৬০ দশকের সাদা কালো ছবি দেখেছিলাম । মনে হয়েছিল জীবন্ত সব ছবি । আমি বহুবার ছবিগুলি দেখেছি । মনে মনে ভেবেছিলাম রজার গোয়েনের নিশ্চয় ছবি তুলায় খুব ভালো হাতযশ আছে ।তিনি শুধু ছবি শিল্পী নন , তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী । তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় মানবতার সেবায় এগিয়ে গিয়েছেন । বিশেষ করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বা যুদ্ধরত দেশগুলিতে ।

Image may contain: 1 person, outdoor and close-up

অনেকদিন থেকে মনের ভিতর ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম । মি: গোয়েনের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করা যায় ।কারণ হলো যদি বাংলাদেশের আরো কিছু ছবি সংগ্রহ করা যায় । বেশ কসপ্তাহ আগে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট দিলাম । কিন্তু কোন খবর নাই , হঠাৎ ভাবলাম মেসেজ ইনবক্স করে দেখি ।ইংরেজী ভাষায় ইনবক্স করলাম । বেশ কদিন পর উত্তর পেলাম । শুদ্ধ বাংলা ভাষায় । আমি অবাক হলাম , কেউ কি লিখে দিল নাকি ! এরপর শুরু হলো লেখালেখি পুরো বাংলা ভাষায় । আমি দিন দিন আরো অভিভুত হচ্ছি, একজন ইংরেজের বাংলা জ্ঞান দেখে ।

মি: গোয়েনের জন্ম লন্ডন শহরে ৮ই অক্টোবর ১৯৪১ সাল । চারিদিকে শুধু যুদ্ধ আর যুদ্ধ এবং অশান্তি । এই অশান্তির মধ্যেএই শান্তির বাহক পৃথিবীতে আসলেন । যিনি আজীবন মানবকল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন ।তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দুস্হ , দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন ।তিনি ফিলিস্তিন এবং সিরিয়ানদের ও পাশে ছিলেন । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেছেন । ছবি শিল্পী হিসাবে তার ক্যামেরা চলেছে অবিরাম । বিশ্বের দরবারে বাংগালিদের উপর অত্যাচার , নির্যাতনের ছবি তুলে ধরেছিলেন এবং প্রামাণ্য চিত্র বৃটিশ টেলিভিশনে প্রচার করেছিলেন ।আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন মুক্তিযাদ্ধা ।

Image may contain: 1 person, beard and close-up

মি: রজার গোয়েন দিল্লি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন পৌঁছালে , তাকে স্বাগত জানান এস , এস , আই ( সিভিল সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল ) এর সাধারণ সম্পাদক । তখন তিনি ঢাকার গ্রীন রোডে এক বাংগালী পরিবারের সাথে বসবাস শুরু করেন । তরুন রজার গোয়েন বাংগালির আথিয়েতা মুগ্ধ হয়ে পড়েন ।তখন থেকেই তিনি বাংলা ভাষা লিখতে এবং পড়তে শিখেন ।একজন ইংরেজের বাংলা ভাষায় কথা বলাটা সত্যি আমাদের জন্য গৌরবের । তিনি দেশের বিভিন্নস্হানে কর্মশালায় যোগ দেন । বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য ও সবুজ বাংলাকে খুব আপন করে নিয়েছিলেন । শস্য শ্যামলা, সুজলা সুফলা অপরুপ বাংলার প্রকৃতি এবং মানুষের ভালোবাসার প্রেমে আবদ্ধ হয়ে যান ।আর এই ভালবাসার টানে তরুন রজার গোয়েন বার বার পূর্ববাংলায় ফিরে আসেন ।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা মি: রজার গোয়েনের জন্য । আমাদের উচিত তাকে সরকারীভাবে সম্মাননা জানানো । তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযাদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ৭৯ বছর বয়স্ক মি: রজার গোয়েন আজ ও ভালোবাসেন বাংলাদেশকে এবং মানুষকে ।তাই তো আমার সাথে প্রথম পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন গ্লোস্টারশায়ারে ।আমি মি: রজার গোয়েনের সুস্বাস্হ্য , শান্তি ও দীর্ঘজীবন কামনা করি ।
সাথে মি: রজার গোয়েনের ছবি এবং তার তোলা কয়েকটি সাদা কালো ছবি দিলাম ।

কবীর
ইংল্যান্ড
২৯/০২/২০

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *