অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে লকডাউন শিথিল হচ্ছে যেসব দেশে


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক দেশ। ফলে উৎপাদনে ফিরতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কলকারখানা, খুলবে অনেক দোকানপাটও।

অভিভাবকরা যেন কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে কারণে অনেক দেশ শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক শুরুতে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্কুল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুলের সামনের মাঠ ফিতা দিয়ে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হবে। শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রতিটি ডেস্কের দূরত্ব থাকবে ন্যূনতম দুই মিটার। দু ঘণ্টা পর পর শিশুদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

শ্রেণিকক্ষের মেঝে, হাত ধোয়ার স্থান, শৌচাগার, দরজার হাতল জীবাণুমুক্ত করা হবে দিনে দুবার ।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গত সোমবার সেলুন ও ট্যাটুর দোকানও খোলার অনুমোদন দিয়েছে ডেনমার্ক সরকার। তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়েছে সরকার।

এর আগে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয় অস্ট্রিয়া। সেখানে ১৪ এপ্রিল থেকে এমন দোকানপাট খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়, যেগুলোর আয়তন সর্বোচ্চ ৪০০ বর্গমিটার।

এ ছাড়া ১ মে থেকে দেশটিতে কিছু বিপণিবিতানসহ সেলুন খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মার্চের শেষদিক থেকে আক্রান্ত ও মৃতের হার কমতে থাকে নরওয়েতে। এ অবস্থায় গত ৭ এপ্রিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিছু প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন। গত সোমবার থেকে কিন্ডারগার্টেন স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে।

এক সপ্তাহ পর খুলবে মাধ্যমিক স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্লার ও সেলুন। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ চালু করে দিলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

জার্মানিতে গত সোমবার থেকে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর আয়তন সর্বোচ্চ ৮০০ বর্গমিটার। ফলে দেশটিতে গাড়ির শোরুম, বাইসাইকেলের দোকান কিংবা লাইব্রেরির মতো প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে।

এর আগে তিন ধাপে লকডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সুইজারল্যান্ড। প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৭ এপ্রিল। ওই দিন থেকে সেলুন, পার্লার, হার্ডওয়্যার ও ফুলের দোকান খোলা যাবে।

১১ মে দ্বিতীয় ধাপে খুলবে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুচরা জিনিসপত্রের দোকান। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ৮ জুন মাধ্যমিক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি খুলে দেয়া হবে লাইব্রেরি, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা।

এর আগে ইতালি ও স্পেনেও কিছু প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। এশিয়ায় চীনের পর লকডাউন শিথিল করেছে ইরান ও পাকিস্তানও। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও, ক্যালিফোর্নিয়া ও টিনেসিসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অধিকাংশ দেশেই দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এই দুই দিন পুরো দেশ লকডাউন রাখার কথা ভাবছে অনেক সরকার।

তুরস্ক এরই মধ্যে জানিয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির ৪৮ ঘণ্টা ৩১টি প্রদেশ লকডাউন থাকবে। সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন ২০ বছরের কম কিংবা ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ঘরে থাকতে হবে।

সুইডেনে বয়স ৭০ বছরের বেশি হলে ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লিবিয়ায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া যাবে। এই পাঁচ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে দোকানপাটও।

অন্যদিকে ‘লিঙ্গভেদে’ লকডাউন কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেরু। দেশটিতে শুক্র, সোম ও বুধ- এই তিন দিন কেবল পুরুষরা বাইরে যেতে পারবেন। শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বের হতে পারবেন নারীরা।

তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ব যদি এক হয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই না করে, তবে ধরে নিতে হবে যে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ আমরা এখনো দেখিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *