অল দি প্রাইম মিনিস্টার্স ম্যান’ দেখার আগে করণীয়ঃ
১) মাথা ঠাণ্ডা রাখবেন। দেখার আগে ভুল ধরার মানসিকতা নিয়ে বসবেন না।
২) অতিরিক্ত ক্ষোভ এবং অতি উৎসাহ নিয়ে দেখা শুরু করবেন না।
৩) আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি-জামাতের প্রতিক্রিয়াকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়েই দেখতে বসবেন। কারণ, ডকুমেন্টারি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যই সত্য।
৪) মনে রাখবেন, ডকুমেন্টারিটি একটি অনেক পুরনো গল্প। আগে ছিল লোকমুখে। এখন সেটিকে ছবি, ভিডিও, শব্দ এবং কিছু প্রমাণ সহ একটা মালা গেঁথে চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে। আপনি গল্পটি জানেন বলে ধরে নেবেন না যে এই গল্প সবাই জানে। এই ডকুমেন্টারির টার্গেট- অডিয়েন্স গ্লোবাল। আপনার জন্য এতে নতুন কিছু না থাকলেও অসংখ্য মানুষের কাছে নতুন।
৫) পিএইচডি ডিগ্রি পেতে হলে সব ক্ষেত্রে যেমন আপনাকে নতুন জ্ঞান আবিষ্কার করতে হয়না বরং নতুন একটা চিন্তার পথ দেখালেই হয়, তেমনি সকল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অবাক করা নতুন একটা প্রডাক্ট আপনার হাতে দিতে হবে, তেমন শর্ত নেই। আপনার মাথায় একটা নতুন চিন্তার খোরাক দিতে পারলেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দেখার পর আপনার মনে অনেক প্রশ্ন জাগবে এবং অন্যরাও আপনাকে বলবে, শেষে গিয়ে তো অঙ্কের মতো মিলে নাই। এবং
ক) যথেষ্ট প্রমাণ নাই।
খ)বাংলাদেশ সরকার সহ অভিযুক্তদের মতামত নাই। একপেশে হয়ে গেছে।
গ)শুটিঙের গ্রাফিক্স এবং একশন মুভির মিউজিক ব্যবহার করে নাটকীয়তা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ঘ)হারিস আহমেদ (মোহাম্মদ হাসান) এর পাসপোর্টের কপি কিভাবে পেয়েছে, এই তথ্য ডকুমেন্টারিতে নাই।
ঙ)সেনাপ্রধান আজিজের অরিজিনাল ই-মেইল এর কপি দেখায় নাই।
চ)মুসলিমপ্রধান দেশ হিসাবে পরিচয় দিয়ে মসজিদ এবং ইসলামপন্থীদের ওপর নজরদারির তথ্য উল্লেখ করে ইসলামপন্থীদের ব্রেইনওয়াশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মনে রাখবেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে উৎরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ হাতে রেখেই ডকুমেন্টারি বানিয়েছে আল জাজিরা।
হারিস আহমেদ (মোহাম্মদ হাসান)এর পাসপোর্টের কপি পাওয়া কঠিন কোন বিষয় না। পাসপোর্ট বিভিন্ন অফিস-আদালত-ট্রাভেল এজেন্টের কাছে যায়। সেখান থেকে গোপনে কপি সংগ্রহ করা খুব কঠিন কোন কাজ না।
সেনাপ্রধান আজিজের অরিজিনাল ই-মেইল এর কপি না দেখানোর একটা কারণ হলো ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্ট। পশ্চিমা বিশ্বে অনুমতি ছাড়া আপনি কারো ব্যক্তিগত বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ করতে পারেন না। আর সেনাপ্রধান তার সরকারি ইমেইল থেকে মেইল করেছেন, এমন ধারনাও অমূলক। তিনি নিশ্চয় এমন একটা ইমেইল থেকে যোগাযোগ করেছেন, যার একটা ধারাবাহিকতার রেকর্ড সংগ্রহে রেখেছে আল জাজিরা।
নজরদারি প্রসঙ্গে ডকুমেন্টারির ফুটেজে হুজুরদের দেখানোর যুক্তি প্রাসঙ্গিক এ কারণে যে, ওই প্রযুক্তি কেনার সময়কাল ছিল ২০১৯ সালের পরের। এই সময়ে রাজপথে বড় আন্দোলন করেছে একমাত্র হুজুররাই। একটি ফ্রান্সে মহানবীর কার্টুনবিরোধী আন্দোলন আর দ্বিতীয়টি সাম্প্রতিক মূর্তিবিরোধী আন্দোলন। এখানে ব্রেইনওয়াশের অভিযোগ থাকলেও আল জাজিরার কাছেও তার উত্তর আছে।
ডকুমেন্টারিতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বলে মনে হয়েছে, তাদের সবার মতামত, বক্তব্য, প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছে আল জাজিরা। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডকুমেন্টারিতে গল্পটা এমনভাবে বলা হয়েছে, যেটা দেখে ভিউয়ার নিজেই নিজের মস্তিষ্কে একটা পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে। রিপোর্টারের নিজের বয়ানে অভিযোগ নেই। অর্থাৎ, একটা খেলার মাঠ বানিয়ে সেখানে তাসনিম খলিল, স্যাম, ডেভিড বার্গম্যান সহ অন্যদের খেলতে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরও ডাকা হয়েছে প্রতিপক্ষে খেলার জন্য। বাংলাদেশ টিম কম দক্ষতার ভয়ে কিংবা প্রস্তুতি না থাকার কারণে অথবা অন্য কোন কারণে খেলতে আসেনি। ফলে আপাতত যারা খেলেছে, তারাই জয়লাভ করেছে বলে মনে হচ্ছে।
আব্দুল হাই সঞ্জু
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
লন্ডন
