আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম মিশিগান প্রতিনিধি ফারজানা চৌধুরী :: “আজ ৪ জুলাই” আজ ৪ জুলাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। ২৪৪ বছর আগে ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের শাসন থেকে পৃথক হওয়ার জন্য ভোট দেন আমেরিকার দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস।

এর দুইদিন পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কিন্তু পৃথক হতে ব্রিটেনের সঙ্গে চূড়ান্ত স্বাক্ষর ২ আগস্টে অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যেক বছর চার জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব জোয়ারে পুরানো অনেক কিছুই এখনো বহাল রয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে প্যারেডগুলো সম্পন্ন হয় সকালে, সন্ধ্যায় হয় আতশবাজি আর পারিবারিক পুনর্মিলনী; রাত্রি জেগে ওঠে সংগীতের মূর্ছনায়। কোনো কোনো শহরে সুউচ্চ টাওয়ার থেকে আলোককিরণ ছড়িয়ে পড়ে গ্রীষ্মের বাতাসে। দিবসটিতে আমরা শুনতে পাই দেশাত্মবোধক গান আর জাতীয় সংগীত, ‘গড ব্লেস আমেরিকা’, ‘আমেরিকা বিউটিফুল’, ‘দিস ল্যান্ড ইজ ইয়োর ল্যান্ড’ স্লোগান।

আর এই দিনটির জন্য জীবন দেন ২৫ হাজার বিপ্লবী আমেরিকান এবং ২৭ হাজার ব্রিটিশ ও জার্মান সেনা। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ বিশ্বের ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল । স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা, অভিজাত শ্রেণির বিশেষ সুযোগ সুবিধা রহিতকরণ, অবাধ বাণিজ্য ও পুঁজিবাদের বিকাশ, ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মপালনের স্বাধীনতা স্বীকৃতি, দমন-নিপীড়ন তথা শোষণ অবিচারের মূলোৎপাটনই ছিল আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফল সরূপ ।

আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রাথমিকভাবে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সংস্কৃতি চর্চার শুরু হয় । মানবতাবাদী ভাবধারার উন্মেষ ঘটে । আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমেই ফরাসী বিল্পব সংঘটিত হয়, যা কিনা মানব ইতিহাসে আরেকটি তাৎপর্যবাহী ঘটনা । আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জন অন্যান্য উপনিবেশের জন্য একধরণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করলো ।

পরবর্তীতে অন্যদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ উন্মেষে এটি ব্যাপক সাহায্য করেছিল । মোটামুটি এগুলোই ছিল আমেরিকান স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল ।আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বিভিন্ন দেশের আরো অনেক সমশ্রেণীর দলিল প্রণয়নে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে এবং এর ধারণাসমূহ পরবর্তী সময়ে ক্যারিবিয়ান, স্প্যানিশ আমেরিকা, বলকান, পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত অনুসৃত হয়।

অন্যদিকে আমেরিকার ইতিহাস থেকে বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের শুধরে নিতে সক্ষম হয়েছে। ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বাতিল করেন, ১৮৭০ সালে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার এবং ১৯২০ সালে নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়।

১৯৫০ সালের দিকে কালো লোকদের ভাল স্কুলে যাওয়ার, ভাল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ও বাসে বসার অধিকার ছিল না। মার্টিন লুথার কিংয়ের আন্দোলনের ফলে তারা সব অধিকার লাভ করে। স্ট্যাচু অব লিবার্টি স্বাধীনতার প্রতীক।

এই ভাস্কর্য শুধু আমেরিকার জাতীয় প্রতীকই নয় বরং সারা বিশ্বের কাছে মুক্তি বা স্বাধীনতার প্রতীক। প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের আগে স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে নানাভাবে সজ্জিত করা হয়। যত দিন আমেরিকা থাকবে তত দিন এই ভাস্কর্য স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রর প্রতীক হয়ে থাকবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *