তোমাকে নিয়েই আমার দূরন্ত পথচলা-
একটু সকাল একটু আলো কিংবা হয়তো
প্রখর দুপুরের উত্তপ্ত রোদে পুড়তে পুড়তে
বিকেলের মিষ্টি মধুর রোদে স্মান করা।
এভাবেই চলে গেছে অনেকদিন বহু কাল,
তোমাকে নিয়েই লিখেছি আমার কবিতা
তোমার নাম বার বার স্পষ্ট লিখা আছে
আমার সব লেখায়, হৃদয়ের আঙিনায়।
সেইসব দিন ছিলো রোদ ঝলমল উচ্চাস ভরা,
বুকের ভেতর উড়তো তখন রঙিন প্রজাপতি
আমের মুকুলে মুকুলে মৌমাছি ঘুরে বেড়াতো
পাখি উড়তো, ডালে বসতো, গান গাইতো,
গাছে গাছে ফুটতো ফুল, নদীও বইতো নিরবধি..
এখন আর ওসব হয়না, আটকে গেছে সব-ই
নিরব, নিথর সবকিছু স্থবির, নিস্তব্দ অচল।
শহরে গাড়ি নাই, নগরে যন্ত্রের শব্দ নাই
বন্দরে জাহাজ ভিড়েনা, নোঙরও করেনা
রাস্তায় যানবাহন কিংবা মানুষের ভীড় নাই,
বাতাসে ধূলা ওড়েনা, ধোঁয়াও দেখা যায়না
রাস্তায় দাবী আদায়ের মিছিলও হয় না
চারিদিক ভীষণ রকম নীরব, সুনসান …
নগর শহর বন্দর মৃত্যুপুরী, শ্বসান
বৈশ্বিক মহামারী, প্রলয়ঙ্করী ভাইরাস
থামিয়ে দিয়েছে প্রতিটি দেশ, সারা জগৎ
যা কিনা এর আগে এমটা কেউ পারেনি!
এমন দূ:সময়ে কবিতা হয়না, প্রেম হয়না
অতএব ঘূরে ফিরে তোমার নাম, তোমার কথা
কবিতার লাইনে লাইনে আর স্তবকে স্তবকে
উপমায় আর নানান রঙের মাধুরী মিশিয়ে
ছন্দে ছন্দে সুরের লহরীতে আর আসেনা..
এখন আর একসাথে চলা নাই, ঘুরা নাই
আমাদের এখন থাকতে হয় কঠোর নিয়ম মেনে
তাইতো এখন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পথচলা !
যদিও মানুষ একদিন ঘুরে দঁড়াবেই-
ভোর হবে, আঁধারও কেটে যাবে, পাখি ডাকবে
প্রজাপতিও উড়বে, গাছে গাছে ফুলও ফুটবে,
আলোর ডাকেই দূয়ার খোলে বেরুবো আমরা
আবার শুরু হবে আমাদের পথচলা, মিতালী।
লন্ডন, ০২ এপ্রিল ২০২০
