আমার দেখা ছাত্রনেতা – মোঃ কবির আহমেদ


আসসালামুআলাইকুম শ্রদ্ধেয় ভাইবোন ও বন্ধুরা, ছবিতে বামে সর্বজনাব শ্রদ্ধেয় অগ্রজ শাহাব উদ্দিন ভাই ।তিনি কভিড -১৯ আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে সম্প্রতি বাড়ী ফিরেএসেছেন আলহামদুলিল্লাহ । মহান আল্লাহপাকের দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই ।

শাহাব ভাইর সাথে গত পরশু দিন আলাপ করে আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলাম শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য । প্রথমেই করোনা সম্বন্ধে আলোচনা হয় । তিনি বলেন নাক অথবা মুখ দিয়ে ভাইরাসটি গলায় অবস্হান নেয় এবং সেখানে তিনদিন পর্যন্ত থাকে । তারপর আস্তে আস্তে ফুসফুসে চলে যায় । ফুসফুসে চলে গেলে সেখান থেকে ফেরত আসা খুবই কঠিন ।

একমাত্র মহান আল্লাহপাকের দয়ায় এবং হায়াত থাকলেই মানুষ নতুন জীবন পায়। এখন পর্যন্ত তিনি তিনজন ডাক্তারের চিকিত্সাধীন আছেন । বিশেষকরে উনার কন্ঠনালীর অবস্হা বিশেষ ভালো নয় । অনেক কস্ট করেই আমাদের সাথে ৬০ মিনিট কথা বলেছেন । শাহাব ভাই সব সময় মহান আল্লাহপাকের প্রতি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।

আমরা সিলেটের সবাই মোটামুটি শাহাব ভাইকে ভালো করে চিনি । তারপর ও শাহাব ভাইর পরিচিতি অল্পপরিসরে তুলে ধরব। শাহাব ভাইর জন্ম সিলেট শহরেই এবং রাজা জি সি স্কুলের ছাত্র । জ্ন্মতারিখটা এভাবে বললেন ১৯৭১ সালে ক্লাস এইটের ছাত্র ছিলেন । এমসি কলেজ , তারপর মদন মোহন কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং এই কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন ।

রাজা জিসি স্কুলে পড়ার সময় রাজনীতির দীক্ষা পেয়েছিলেন এবং তখন থেকেই জাসদ ছাত্র রাজনীতিতে নাম লিখান। যাদের হাত ধরে রাজনীতির হাতে খড়ি তারমধ্যে যার নাম তিনি উচ্চারণ করলেন তিনি হলেন সিলেটের বিশিষ্ট ত্যাগী রাজনীতিবিদ জনাব মৃত: আখতার আহমেদ । আখতার ভাই ছিলেন সৎ রাজনীতিবিদ তৎকালীন সিলেট জেলা সহ ৪ টি মহকুমার মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন । অত্যন্ত সৎ একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন ।

আজকে শাহাব ভাই উনার সম্বন্ধে অনেক কিছু বললেন । যা আগে কখনও শুনিনি, আখতার ভাই মানুষের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে সহায় সম্পত্তি কিছুই করেন নাই ।

এই হলো শাহাবভাইর রাজনৈতিক গুরুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় । মদন মোহন কলেজে আমি ৪ বছর পড়েছি । প্রায় প্রতিদিন শাহাব ভাইর সাথে দেখা হতো । সদা হাস্যজ্জল বাবড়ী চুলধারী একজন ছাত্রনেতা। তখন অবশ্য জাসদ ছেড়ে বাসদের রাজনীতিতে নাম লিখান ।৮০ দশকের তুখোড় ছাত্র নেতা, তখনকার সিলেট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বদানকারী বড়ভাই ।

স্বৈরচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে যার হাত ধরে সিলেটের ছাত্র জনতা তুমুল আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিল । শাহাব ভাই রাজনৈতিক আদর্শ থেকে কখন বিচ্যুত হন নাই বা টাকার বিনিময়ে দালালী করে আন্দোলনের পিঠে চুরিকাঘাত করেন নাই । বরং এই সাহসী তরুণ আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছেন ।

শাহাব ভাই ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্রধানদের একজন । তারপরে কেন্দ্রীয় বাসদের সভাপতি ও ছিলেন। স্বৈরাচারী এরশাদ বাহিনীর অত্যাচারে শাহাব ভাইকে প্রায় পঙ্গু করে দেয় । একসময় এই রাজনীতিবিদ চিকিৎসার জন্য আমেরিকা পাড়ি জমান এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন ।

কিন্তু আজও কোমরের ব্যাথা নিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখেন । শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান প্রবাসে বসে ও দেশমাতৃকার টানে আমরা কিছুক্ষনের জন্য হলে জন্মভূমিতে চলে গিয়েছিলাম । অনেক স্মৃতিচারন অনেক গল্প শেষ হয়ে হইল না শেষ । আগামীতে আরও কথা বলব জানব ।

আমার এই জীবনে দেখা শাহাব ভাই একজন স্বচ্ছ এবং সৎ, মেধাবী এবং পরোপকারী রাজনীতিবিদ । সত্যি যার তুলনা তিনি নিজেই । পরিশেষে শাহাব ভাইর উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করব — সব ভালো কথা এবং ভালো কাজ সদকায়ে জারিয়া হিসাবে লেখা হয় এ পর্যন্ত আমি যত ভালো কথা এবং ভালো কাজ করেছি সব মহান আল্লাহপাককে খুশী আর রাজী করার জন্য করেছি । শাহাব ভাই আপনার নেক হায়াতের জন্য দোয়া করি ।

, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *