আড়াই কোটি টাকা ভিসির অ্যাকাউন্টে, ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ বরিশাল বিভাগে অবস্থিত অন্যতম একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ৩৩ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস বরিশাল বিভাগের কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে কর্ণকাঠিতে অবস্থিত। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ববির ভাইস চ্যান্সেলরের পদটি শূন্য থাকায় জটিলতা দেখা দেয়ায় পরীক্ষা পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি (কোর কমিটি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ববির পরীক্ষা পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির (কোর কমিটি) সদস্য প্রফেসর ড. মো. মুহসিন উদ্দীন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার পুনঃনির্ধারিত তারিখ পরে যথা সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়েন তৎকালীন ভিসি ড. এস.এম ইমামুল হক।
মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস আগে তিনি ছুটিতে যেতে বাধ্য হন। ২৫ জুন থেকে ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.কে.এম মাহবুব হাসান।

টানা চার মাস উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের পর গত ৮ অক্টোবর তার ট্রেজারার পদের মেয়াদ শেষ। এরপর নিয়োগ হয়নি নতুন ট্রেজারার। রেজিস্ট্রার পদ শূন্য প্রায় এক বছর। ফলে ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকার কেউ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এখন পুরোপুরি অভিভাবকহীন।

অন্যদিকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ পরীক্ষা গ্রহণের প্রধান হলেন ভিসি। এছাড়া ভর্তি ফরম বিক্রির প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে অ্যাকাউন্টে। তবে ওই টাকা উত্তোলনের এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভাইস চ্যান্সেলর ছাড়া অন্যকারও নেই। এ কারণে পরীক্ষার ব্যয় মেটানোর অর্থ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কাছে না থাকায় স্থগিত করা হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার তিনটি পদই শূন্য। এ অবস্থায় ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় অ্যাকাউন্টে জমা থাকলেও ওই টাকা উত্তোলনের এখতিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর ছাড়া অন্যকারও নেই।

এ কারণে পরীক্ষা পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি (কোর কমিটি) এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভাইস চ্যান্সেলর পদের জন্য তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখান থেকে একজনের নাম চূড়ান্ত করবেন। এতে সব জটিলতার নিরসন ঘটবে।

উল্লেখ্য, ড. এস এম ইমামুল হক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র মডারেশন ও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। এর বিনিময়ে তিনি সব যায়গা থেকেই নিয়মিত থাকা ও খাবারের (টিএ/ডিএ) পাশাপাশি ও সন্মানীভাতা নিয়ে থাকেন। তার পরেও ঢাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিমাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার টাকার টিএ/ডিএ তুলে নিচ্ছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক ২০১৭ সালের অক্টোবরে টিএ/ডিএ বাবদ ৩২ হাজার ৮৩০ টাকা তুলেছেন। ঐ মাসে তিনি স্নাতক শ্রেণির ভর্তিও পরীক্ষার গোপনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য ঢাকায় ১২ দিন অবস্থান করেছেন। খাবারবাবদ ২১ হাজার ৮৪০ নিয়েছেন। অথচ ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসের সকল খাবারের খরচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় সম্পাদন করা হয়ে থাকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *