প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইতালি গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৬২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩২ জনে দাঁড়ালো। শুক্রবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারই দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ইতালিতে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়। এবার সে সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেল।
নতুন করে ইতালিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এখন দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
দেশটির লম্বারডি অঞ্চলে করোনার প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ। অঞ্চলটিতে আক্রান্ত ২২ হাজারের মধ্যে ২৫শ’ ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ৫ হাজার ১শ’ ২৯ জন সুস্থ হয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এরপর বিশ্বের ১৫০ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি জনের মৃত্যু হয়েছে।
কোনো চলচিত্রের সুটিং এর দৃশ্য নয়, ইতালির রাস্তায় ট্রাক ভর্তি মানুষের লাশ

এ ছবি দেখে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ছবিটার সত্যতা নিয়ে। ইতালির অবস্থা ভয়াবহ সবাই জানতে, তাই বলে এত ভয়ংকর কেউ ভাবতেও পারছিলোনা। এ যেন হরর মুভির দৃশ্য, কিছুতেই বাস্তব নয়। হাসপাতালের করিডরে পরে আছে লাশ, প্যাকেট করে রাখা। আত্মীয় স্বজন কেউ ধরতে পারবেনা সেটা। সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে লাশ পুড়িয়ে ফেলার জন্য।
বারাগামোর মেয়র জানিয়েছেন এখানকার শবদাহগুলো দিনরাত চব্বিশঘন্টা কাজ করছে, কিন্তু তারপরও লাশের সংখ্যার সাথে পেরে উঠছেনা। ফলে অন্য শহরগুলোর সাহায্য চেয়েছেন তারা। লাশ পোড়ানোর পরে যে ছাই পাওয়া যাবে সেটা পরিবারের কাছে অবশ্যই ফেরত দেয়া হবে বলে মেয়র জানিয়েছেন।
আর দেশটির সেনাবাহিনী সূত্র নিশ্চিত করেছে ১৫ টি ট্রাকে করে ৫০ জন সৈনিকের দায়িত্বে এ লাশগুলো বারগামোর নিকটবর্তী শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে। এ ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ইতলির লোকজন এ ছবিকে বলছে তাদের দেশের করুণতম ছবি। বারগামেরার বাসিন্দা তার বাড়ির পেছনে ট্রাক ভর্তি করা লাশের ছবি নিয়ে যেতে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। সারা পৃথিবীর লোকজনকে সতর্ক হতে, বাসায় থাকতে অনুরোধ করে তারা বলেছে ইতালির পরিণতি যেন আর কোন দেশের না হয়।
ইতালি ফেরত হাজার হাজার মানুষ দেশে ফিরে সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত দেশের ঘোষিত অধিকাংশ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো থেকে আগত মানুষের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত টেস্ট কিট পাওয়া গেলে দেশের করোনা ভাইরাসের সত্যিকারের চিত্র পাওয়া যাবে।
সূত্র : ভ্রমণগুরু, ওয়ার্ল্ডোমিটার, সিএনএন।
