৬১ বছর বয়সী আল আকূম বলেন, পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে মক্কা গমন প্রতিটি মুসলমানের স্বপ্ন। কিন্তু কোনো প্রকার সিগনাল ছাড়াই করোনা এসে মুসলমানদের সে স্বপ্ন ভেঙে দিলো।

চলতি বছরের হজ স্থগিত করায় মিসরের এক স্কুল কর্মকর্তা জয়নাব ইব্রাহিম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমার সারা জীবনের আশা ছিলো এবছর পবিত্র হজ পালন করা।
কিন্তু করোনার কারণে এবছর হজই স্থগিত হয়ে গেলো। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করুন!
শারীরিক ও আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন মুসলমানদের জীবনে একবার হলেও পবিত্র হজ পালন করা ফরজ। এটি ইসলামের মৌলিক স্তম্ভসমূহের একটি। গোটা বিশ্বের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মুসলমানের জন্য হজ পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পূর্বে মানুষ মাসের পর মাস ভ্রমণ করে হজ পালনের জন্য মক্কায় যেতো। আর এখন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবার পর অসংখ্য মুসলমান একটিবার পবিত্র হজ পালনের জন্য সারা জীবন ধরে অর্থ সঞ্চয় করে।

ইসলামিক সেমিনারি অব আমেরিকা’র ডীন ইয়াসির কাজী বলেন, প্রতিটি মুসলমানের জীবনে হজ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ইবাদাত যা তাদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিতে একটি গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ বছর ইয়াসির কাজীর ২৫০ জন হাজীর একটি কাফেলা নিয়ে মক্কায় গমনের কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই হজ স্থগিতের ব্যাপারে সৌদি’র ঘোষণা সব যেনো ওলটপালট করে দিলো।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হজ স্থগিতের এই ঘোষণা সারা বিশ্বের মুসলমানদের মনে চরম হতাশা ও গভীর শোকানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
এই স্থগিতাদেশ বিশেষ করে বয়স্ক মুসলমানদের মনে গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে যারা মৃত্যুর আগে অন্তত একবার পবিত্র হজ পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন।
বৈরুতের ৬৮ বছর বয়সী ফিরিয়ান আল মাসরি বলেন, আমি গত ২০ বছর যাবত পবিত্র হজ পালনের পরিকল্পনা করে আসছিলাম। এ বছরই হজ পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
কিন্তু করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হজ স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে তার আর এ বছর হজে যাওয়া হলো না। তবে আগামী বছর হজ পালনের আশা পোষণ করে তিনি বলেন, বেঁচে থাকলে আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী বছর পবিত্র হজব্রত পালন করবো।
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে ফরহাদ খান নাঈমের ভাষান্তর
