ওরে চোর মহাচোর
নতুন মওকায় হুস জ্ঞান হারিয়েছিস বুঝি তোর?
ভেবেছিস কেউ টের পাবে না
আতঙ্কে কাটছে সবার বন্দী জীবন
রেখেছে বন্ধ চক্ষু দোর
ওরে চোর মহাচোর।
তুই কি ছিচকে মাঝারি না বড় চোর?
কোত্থেকে এলি শুনি
বাপ দাদা ঘরবাড়ি পরিচয় কি তোর?
ওরে চোর মহাচোর।
দুঃস্থজনের মুখের গ্রাস কোন আক্কেলে লুটে খাস
ওরে হারমাদ কলা কচু মুলা তেল লবন আটা চাল
ডাল আদা রসুন মরিচ পিয়াজ যখন যেটা সুযোগ পাস্
তুই কি একা না-কি ভাগচোর?
ওরে চোর মহাচোর।
সুযোগ বুঝে লুটে নিস
দূর্বলের মান সম্ভ্রম জায়গা জমি
সোনা দানা ডলার পাউন্ড
নাকি টাকা বাড়ি গাড়ি ব্যাংক লুটে
তুই কি সহচর?
ওরে চোর মহাচোর।
কি যাদুমন্ত্রে রাত করিস ভোর
নিয়োগ বদলী পদোন্নতি নথিপত্র চালাচালি
মিথ্যা মামলায় দিচ্ছ স্বাক্ষী
বিচার আচার ওকালতি করছিস চোরের দালালী
পদ পদবী এত কিছু কেমনে হলো তোর?
ওরে চোর মহাচোর।
তুইতো মহাবুদ্ধি চোর কত সৌভাগ্য তোর
যখনই আসে মহাদূর্যোগ
বিপর্যয় ঘোর
যেনো নতুন করে ভাগ্য খোলে তোর!
ওরে চোর মহাচোর।
কত করোণা আসলো গেলো
কতজন নিয়ে গেলো জানি না
কতজন নিয়েছে চোর
ভয় নেই তোর পিছনে রয়েছে
যত গুরুর গুরু ঘুষখোর।
ওরে চোর মহাচোর।
দশদিগন্তে যোগসাজশে সাচ্ছন্দ্য বিচরণ তোর
ধরাধরি মিছামিছি কদিনের হৈ-হুল্লোড়।
ওরে চোর মহাচোর।
করোণার আবির্ভাবে যদি বাঁচিস কোনভাবে
পেয়ে যাবি নতুন জীবন
পুরাতন পৃথিবী নতুনভাবে সাজবে আবার
রাজত্ব করবে যত অভিজ্ঞ পুরাতন চোর!
ওরে চোর, তুই চোর মহাচোর।
(সংরক্ষিত। কাব্যগ্রন্থ ‘আরেক বসন্ত’ থেকে)।
