কন্যাদায় গ্রস্হ পিতা
দেখিতে দেখিতে মেয়েটি আমার,
কুড়িতে দিল পাড়ি ।
পাত্রস্হ করিতে হইবে
তাহারে,অতি তাড়াতাড়ি ।
সৎমায়ের সংসারে মেয়েটি,
সহিয়াছে কত যে জ্বালাতন।
কে আছে সুপুত্র মেয়েটিরে নিয়ে
কাটাইবে সুখে দিন যাপন?
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা,
দেখা দিল জনকের ভালে।
তাহারই সুরাহা করিতে,ঘটক বাড়ি
হাজির হইলেন সকালে।
ঘটক বলিলেন,জনাব মেয়েটি
দেখিতে নয়কো খুবসুরত।
বিপত্নীক চৌধুরী সাহেবের
আছে অটেল ধন দৌলত।
প্রথমা স্ত্রীর দুইটি সন্তান,
আছে তাহার ঘরে।
কত বাবা মেয়েরে বিয়ে দিতে,
আমারে সুপারিশ ধরে।
মেয়েটি আপনার সুখেই রইবে,
দাসী বাদী আছে ডজন ডজন।
সম্মতি দিলে তাহার সনে,
করিতে পারি বিয়ের আয়োজন।
চৌধুরী সাহেবের নজর
পড়িয়াছে মেয়েটির উপরে।
রাজি না হইলে বুঝিলেন তো?
প্রস্তাতে হইবে পরে।
ঘটকের কথা শুনিয়া,
জনকের বুকটা করে আহাকার।
কন্যাদায়গ্রস্হ পিতার প্রতি
সমাজের এ কোন অবিচার?
*********
“প্রতারণা”
ছাত্র অবস্হায় বিলাত আইছলাম,
আরক বেটার পাও ধরিয়া।
পড়ালেখা বাদ দিয়া রুজিত লাগছি;
মা,ভাইরে খাওয়াইবার লাগিয়া।
দিনে,রাইতে কাম করিয়া,
সারা টেকা দেশও পাঠাইছি।
তারারে সুখও রাখবার লাগি
ঘুম,নিদ্রা ছাড়িদিলাইছি।
বিলাতি ফুরি বিয়া করছলাম,
লিগেল অইবার লাগিয়া।
ফুরিগুতা বড় ভালা,আমার
টেকার বায় চাইছেনা ফিরিয়া।
বাক্কা টেকা ভাইরে পাঠাইছি,
ব্যাংক থাকি লউন লইয়া।
বুড়াকালও বউ বাইচ্চা লইয়া,
দেশও আরামে থাকবার লাগিয়া।
দেশও গিয়া খবর পাইলাম,
আমার নামে নাই কুনতা।
ভাইয়ে তান নামে লেখাইলইছন,
বাড়ি,জাগা-জমি হক্কলতা।
ভাই অইয়া ভাইর লগে ডাকাতি,
আল্লারেবা কেমনে সহ্য করতাম?
আমার আড়,মেনতর টেকার দুখ,
কেমনে ভুলিয়া থাকতাম?
ভাই,বান্ধবরে কইয়ার আমি,
মন দিয়া হুনওউককা।
প্রতারণা থাকি বাঁচিবার লাগি
আগে থাকি হুঁশিয়ার অউককা।
জুলাই ২০২০
যুক্তরাজ্য প্রবাসী
