কবি সাহিত্যিক ও শিক্ষা অনুরাগী এমসিয়ান সামছুদ্দোহা ফজল সিদ্দিকী – ম আ মোশতাক


বাল্যকাল:  সামছুদ্দোহা ফজল সিদ্দিকী ১৯৬৮ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৌলানা সিদ্দিক আহমদ এম এ ও মাতার নাম ছালেহা বেগম । তার বাবা একজন সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন বিধায় চাকরির সুবাদে ফেঞ্চুগঞ্জে, ছাতকে, জগন্নাথপুরে ও নিজের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ উপজেলার বারকুট গ্রামে তার বাল্যকাল কেটেছে।

শিক্ষাজীবন: ছাতক উপজেলার বাঘবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঢাকাদক্ষিণ বহু মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে এস এস সি সমাপন করেন। ১৯৮৫ সালে এম সি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ এস সি পাশ করেন এবং একই সালে তৎকালীন সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বি, এস, সিতে ভর্তি হন কিনতু তৎসময়ে পড়াশুনার জন্য বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় বি, এস, সি সমাপন করা সম্ভব হয়নি। বিদেশ যেতে না পারায় পরের বৎসর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালযের অধীনে তৎকালীন সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ফিলসফি অনার্সে ভর্তি হন। ২০০০ সালে তিতুমির কলেজ থেকে বি এ ডিগ্রী সমাপন করেন। ২০১৫ সাল নর্থ ইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্য এম ডিগ্রী অর্জন করেন ।

কলেজ জীবনের এক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “একবার বার্ষিক পরীক্ষার আমার ইংরেজির উত্তরপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকারী দুই শিক্ষক আমার খুঁজে হোস্টেলে এসেছিলেন এবং এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি পরীক্ষা দিয়ে পেপার জমা দিয়ে এসেছি কিনা। আমি বলেছিলাম পরীক্ষা দিয়ে জমা দিয়ে এসেছি। পরে বললেন উনাদের সাথে কলেজে যাওয়ার জন্য গেলাম।পরে পরীক্ষার সব বান্ডিল চেক করে আমার উত্তর পাওয়া গেল”।

কর্মজীবন: ১৯৮৯ সালের প্রথম দিকে ফেঞ্চুগঞ্জের উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্ম জীবন শুরু হয়। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ঈসায়ী সাল পর্যন্ত কিছু ব্যবসা- বাণিজ্য করেন। ১৯৯২ সালে এ দেশীয় একটি বহুজাতিক কোম্পানির ঢাকার অফিসে টেক্সটাইল ডিভিশনে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে উক্ত কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কমার্শিয়াল অফিসার হিসেবে কাজ করেন। মাত্র কিছুদিন পর উক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে উক্ত কোম্পানি নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলে সেটার ও ব্যবস্থাপক হন। একাধারে  দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। একাধারে চৌদ্দ বছর দায়িত্ব পালনের পর কর্তৃপক্ষের সাথে মতের মিল না হওয়ায় চাকুরীতে ইস্তফা দেন।

দুবছর পর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সেখান নয় বছর দায়িত্ব পালনের পর অন্যত্র একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে যান। সেখানে প্রায় তিন বছর সিনিয়র শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে আজ পর্যন্ত সিলেটের ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলার একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব  সুনামের সাথে পালন করে আসতেছেন।

পারিবারিক জীবন : ১৯৯০ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সহ-ধর্মিণীর নাম করিমা সিদ্দিকী। তাদের  চার জন সন্তান রয়েছে। তিন ছেলে এক মেয়ে; আরিফ ২৮, শফি ২৫, রওনক ২২ ও রিহাব ১২।

বড়ছেলে  ইংরেজিতে অনার্স করার পর, প্রায় দুই বছর বি এন কে স্কুল এন্ড কলেজ ও ডঃ সৈয়দ মকবুল হুসেন স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে পর্তুগালে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

মেঝোছেলে বর্তমানে পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স অধ্যয়নরত। সেজোজন (মেয়ে) ইংরেজিতে অনার্স অধ্যয়নরত এবং ছোটছেলে কোরআন হিফজে অধ্যয়নরত।

 

রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকাণ্ড: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বাসদ) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হোস্টেল শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

মনিপুর সাহিত্য সংসদের সক্রিয় সদস্য। অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের সিলেট বিভাগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন (কবিদের সংগঠন)।  মুকিতলা কৈলাস সামাজিক সংগঠনের মডারেটর হিসেবে কাজ করছেন।

 

শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমসিয়ানরা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে এমসিয়ানরা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারেন। সামাজিক উন্নয়নেও এমসিয়ানরা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারেন। এম সি ইন্টারমিডিয়েট ১৯৮৩-৮৪ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যারা গরীব এবং মেধাবী তাদের ~ছেলেমেয়েরা যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে সে জন্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা যেতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *