করোনাভাইরাসের বিশ্বব্যাপী মহামারী : জাতীয় ও বিশ্বনেতাদের সত্যিই সউল সার্চিং ও আত্ম-সমালোচনা করা দরকার


 :: ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ::

করোনা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী মহামারীর প্রাক্কালে বিশ্বনেতাদের এবং বিভিন্ন দেশ ও জাতির কর্নধারদের সত্যিকার অর্থে সউল সার্চিং (soul searching) ও আত্ম-সমালোচনা (self-reflection) করা দরকার। সুপার পাওয়ারদের কাছে এমন মারাত্বক মরনাস্ত্র আছে যা দিয়ে এই পৃথিবীকে কয়েক বার ধ্বংস করা যাবে!

বিজ্ঞানীরা এমনটা কয়েকবার দাবীও করেছেন। অথচ করোনা নামের অদৃশ্য ভাইরাস যার সাইজ একটা ধান বা চালের চেয়ে প্রায় ৫৫,০০০ গুন ছোট এবং যা মানুষের চোখে দেখা যায় না তার কাছে তাবৎ পৃথিবী আজ একেবারেই অসহায়! চিন্তাশীল, প্রকৃত জ্ঞানী ও বিচক্ষনশীলদের জন্য এতে অনেক ইঙ্গিত ও ঈশারা আছে। বিশ্বনেতাদের এবং বিভিন্ন দেশ ও জাতির কর্নধারদের এগুলো বুঝার কি হিম্মত বা প্রজ্ঞা আছে?

অত্যাচার (জুলুম) আর অবিচার (injustice) দুটি সাংঘাতিক ও মারাত্বক জিনিস। এগুলো চরম আকারে ঘটলে মহান মা’বুদের আরশ কেঁপে উঠে! এ দুটিতে মানুষরা বিশেষ করে ক্ষমতাশালীরা যখন চরম সীমা লঙ্ঘন করে এবং এ ধরায় মজলুমদের বা চরম অবিচারের শিকারদের পরিত্রান ও সুবিচার পাবার সম্ভাবনা যখন একেবারেই শেষ হয়ে যায় তখন ‘ডিভাইন ইন্টারভেনশন বিকামস ইমিনেন্ট।’ আমরা কি তা বুঝি? বিশেষ করে, ক্ষমতাশালীরা কি তা হৃদয়াঙ্গম করেন?

বিশ্ব আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমন দৃশ্য ছয় মাস আগেও কেউ কল্পনাই করতে পারেনি। বিশ্বে লক্ষাধিক মানুষ ইতোমধ্যেই মৃত্যূবরন করেছেন এবং প্রায় বিশ লাখের মত আক্রান্ত। এটা হচ্ছে সরকারী বা রেকর্ডেড হিসাব। কিন্তু সত্যিকার বা প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশী হতে যে বাধ্য তা সহজেই অনুমেয়।

এই অবস্থা কোথায় গিয়ে যে শেষ হবে তা মহান প্রভু ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। তাছাড়া বিশ্বের অর্থনীতির অবস্থা যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা অকল্পনীয়। বিশ্বব্যাপী চরম মহামারী ও ক্রান্তিকালের পর বিশ্ব আর আগের অবস্থায় রইবে না। নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার সৃষ্টি হবে যা আমাদের ধারনার বাহিরে।

চীনে ৩২০০ লোক মারা গেছে এবং তারা সব নিয়ন্ত্রন করে ফেলছে বলে নিউজ শুনি। আসলে চীনে কত লোক করোনাভাইরাসে মারা গেছে এবং কত লোকইবা সে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তার সঠিক হিসাব কি পাওয়া গেছে বা কখনও পাওয়া যাবে? কমিউনিস্ট রাস্ট্র চীনে মিডিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, সরকারের ইচ্ছার বাহিরে সেখানে সংবাদ ছাপানোর কথা চিন্তাই করা যায় না।

সরকার চরম রুথলেস, তার নিজ দেশের নাগরিকদের সাথে তারা যে ব্যবহার করে তা দেখলে গাঁ শিউরে উঠে। বাহিরের কোন নিরপেক্ষ মিডিয়াকে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় চীনের কথা কতটুকু বিশ্বাসযাগ্য? গত কদিন আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও অনুসন্ধানী তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ ছেপেছে যে চীনে অন্তত: ৫০ হাজার লোক মৃত্যুবরন করেছে এবং তাদের মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বের অভাবনীয় মহামারী থেকে আমাদের সবার অনেক কিছু শিখার, অনুতপ্ত হওয়ার ও হৃদয়াঙ্গম করার আছে। আসুন আমরা আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে সউল সার্চিং (soul searching) ও আত্ম-সমালোচনা (self-reflection) করি। অতীত ভুলের জন্য মহান স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চাই। তার সাথে সাথে এমন একটি পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নেই যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভিত্তি হবে সুবিচার, নৈতিকতা ও একে-অন্যের প্রতি কল্যানকামিতার সর্বোচ্চ মাত্রা।

লেখক: আইনজীবী, লেখক, বিশ্লেষক ও নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার।

, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *