করোনাভাইরাস: পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে তা করবে


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার পর ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ না করে এখন বিভিন্ন জায়গায় বিকল্প উপায়ে বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই ব্যবস্থায় আরও সময় প্রয়োজন হবে।

আইইডিসিআর-এর কাছ থেকে পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়েছে গত রোববার।

ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকেই একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করে সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছিল।

সেই কক্ষ থেকেই এখন পুরো তদারকির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের একটি ল্যাবে পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। এসব ব্যস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আইইডিসিআর তাদের সাহায্য করেছে।

এই প্রক্রিয়ার সাথে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের ভাড়া বাসা পাল্টানোর মতো অবস্থা হয়েছে এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন বা পরিবর্তনের সময়ে তাদের কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তাদের পুরোমাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া একইরকম আছে। ফলে কাজে সমস্যা তিনি দেখছেন না।

“যখন আমরা সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করলাম। আমরা এখন উপজেলা গ্রাম থেকেই কিন্তু নমুনা সংগ্রহ করছি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং ডাক্তাররাও নমুনা সংগ্রহের এই কাজ করছেন। আইইডিসিআর ঢাকার বাইরে নমুনা সংগ্রহ করছিল না। এখনও ঢাকায় আমাদের সাথে ঐ কর্মীরাই এই কাজটি করবে। আর পরীক্ষাও হচ্ছে দেশের বিভিন্ন ল্যাবে। ফলে কোন সমস্যা হচ্ছে না।”

এতদিন আইইডিসিআর টেলিফোনে হটলাইনের মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একেবারে অসুস্থ বা বৃদ্ধ ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে না। ঢাকা সহ সারাদেশে বুথ বসানো হচ্ছে। সেখানে লোকজনকে এসে নমুনা দিতে হবে। কিন্তু এতে যেহেতু সময়ের প্রয়োজন, সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নমুনা সংগ্রহের পুরনো ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে বলা হচ্ছে।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলছিলেন, তারা অল্প সময়ের মধ্যে বুথ ব্যবস্থা কার্যকর করার চেষ্টা করছেন।

“বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টা খুব ইনএফিশিয়েন্ট প্রক্রিয়া। এটাতে অনেক সময় লাগে। সেজন্য আমরা মনে করছি, দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশেও এ ধরণের বুথ তৈরি করবো।বিভিন্ন জায়গায় মানুষের দোরগোড়ায় এমন বুথগুলো বসালে মানুষ তাদের ঘরের কাছে বা একটা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে নমুনা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেছেন, “ইতিমধ্যেই ঢাকায় কয়েকটি বুথ স্থাপিত হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজে বুথ বসানো হয়েছে। কড়াইল বস্তিতেও কিন্তু বুথ তৈরি হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে ঢাকায় ১০ থেকে ২০টা বুথ বসানো হবে। এই সংখ্যা আরও বাড়াতে হলে আমরা তা করবো।”

তিনি জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে এধরনের বুথ বসানো হবে। এসব বুথে সাধারণ মানুষ এসে নমুনা দিতে পারবেন এবং সেই নমুনাগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা করবে। এই প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বেশি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

তিনি বলেছেন, এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ১০হাজার পরীক্ষা করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *