করোনা আক্রান্ত না করোনা ভীতি – সেবুল চৌধুরী


(দীর্ঘ এক মাস হোম আইসোলশনে থাকার পর দুদিন যাবৎ কিছুটা সুস্থ বোধ করছি জ্বর না থাকার কারণে ।এখনও হোম আইসোলশনে রয়েছি।আইসোলশনে থাকাবস্হায় ডায়েরিতে স্হান পাওয়া কথাগুলো নিয়ে আমার ধারাবাহিক প্রয়াস করোনা আক্রান্ত না করোনা ভীতি ।)

জ্বর নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন কাজ করার পর প্রচন্ড জ্বর, মাথা ব্যথা, পিঠে ব্যথা,ঘাড়ে ব্যথা সহ নানান উপসর্গ নিয়ে যখন ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হই(জিপি),তখন ডাক্তার সাহেব (জিপি) প্রথমতঃ আমাকে কাজে না গিয়ে হোম আইসোলশনে থাকার পরামর্শ সহ বিভিন্ন ফরমান জারি করেন ।

কি কি করা যাবে এবং করা যাবে না – জানিয়ে দেবার পাশাপাশি শেযে যে ধারণা দিলেন, তা- হলো আমার মধ্যে যে উপসর্গ রয়েছে এ রকম উপসর্গ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে যাচ্ছেন করোনা নামক ভাইরাসের রোগী হয়ে ।

তারপর ডাক্তার সাহেব অনেকটা কৌতুকের সুরে বললেন, মনে রাখবেন আজ থেকে ‘নো-কিস, ‘নো- হ্যান্ডসেইক”, নো-হগ’ ডিসটেন্ট বজায় রেখে জাস্ট স্মাইল।

ব্যাস শুরু হয়ে গেল বন্দী জীবন । এগুলো শোনার পর মনে হলো মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে বন্দী জীবনে পদার্পণ অর্থাৎ গৃহবন্দি ( যদি ও মৃত্যুকে আমি কখনোই ভয় করি না। কারণ মৃত্যু এক অবধারিত সত্য জেনেই আমি সব সময় পথ চলি) ।

নাহ্ ভূল বললাম গৃহবন্দি নয় একেবারে রুম বন্দী । আমাকে আশ্রয় নিতে হলো সিটিং রুমে। সাথী হিসেবে থাকলো বই, টেলিভিশন, টেলিফোন ।

অসুস্থতার ফাঁকে অন লাইন পত্রিকা’র গুলো খুটিয়ে খুটিয়ে পড়া, টিভি’র নিউজ দেখা, বাংলা নাটক দেখা, মাঝে মাঝে ডায়েরি লিখা এগুলো নিয়ে থাকতে হলো।

তবে কোন কিছুই ভালো ভাবে পড়া, দেখা বা করা সম্ভব ছিল না প্রচণ্ড জ্বর ও মাথা ব্যথার কারণে। এগুলো আমাকে প্রায় অস্থির করে রাখতো।—-চলবে ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *