করোনা কালীন গ্রুপ চ্যাট ও কিছু কথা – নাসির উদ্দিন হেলাল


প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক

ফেসবুক ব্যবহার করছি ২০০৮ থেকে। প্রথম প্রথম খুব একটা মজা পাইনি। সত্যি বলতে কি এই টেকনোলজি যে ভাল আয়ত্বে ছিল তা-ও নয়। এরপর বাংলা ফন্ট ও ছিলনা। যাইহোক দিন যত গড়াইতে শুরু করলো আমিও এই সোসিয়্যাল মিডিয়ার সাথে অনেকটা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়েছি।

ছড়া,কবিতা,প্রবন্ধ লেখার অভ্যাস ছোটবেলা থেকে। স্কুলের ওয়াল পত্রিকায় হাতেখড়ি। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক *সিলেট সমাচার* ও দৈনিক জালালাবাদী এবং সিলেট বাণী।

ইংল্যান্ড যাওয়ার পর লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ইউরো বাংলা’ ও বার্মিংহাম থেকে প্রকাশিত ‘বাংলা কাগজ’ এই দুটোতে নিয়মিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লিখেছি অনেকদিন। সেসময় প্রায়-ই খ্যাতিমান প্রতিযশা লেখক জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরী সাহেবের সাথে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তাম।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, আমরা অনেক পাবলিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হয়ে একই মঞ্চে বসেছি, বক্তিতা করেছি। ভদ্রলোক সরল হাসি দিয়ে টিপ্পনিও কাটতেন, এই বলে এরশাদ সাহেবের খাঁটি ভক্ত।

যাইহোক, সোসিয়্যাল মিডিয়া মানে ফেসবুকে পুরো এক্টিভ হওয়ার পর কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতে শুরু করি।
দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমার প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রাবন্ধিক বা কলামিস্ট হিসাবেই আমার পরিচিতি ছিলো।

ফেসবুকে ছড়া কবিতা লিখে যে সাড়া পাই, প্রবন্ধ লিখে তার দশ ভাগের এক ভাগও সাড়া পাইনা। তাই মনের অজান্তেই ছড়া কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়ি। এদিকে ভক্ত পাঠকদের থেকে তাড়াও পাই, কখনো বিলম্ব হলে।

২০১৬ সালে আমার এক নিয়মিত পাঠক আমাকে জানালেন তিনি আমার কবিতাগুলো বই আকারে প্রকাশ করতে চান,এবং আমি যেনো কপি গুলো তাকে দেই। আমি বললাম আমার তো কালেকশনে নাই। তিনি বললেন ঠিক আছে আপনি পারমিশন দিলে আমি আপনার ফেসবুক থেকে কালেক্ট করে বই ছাপাবো।

কি আর করা, রাজি হয়ে গেলাম। তিনি অনেক পরিশ্রম করে আমার প্রথম ও দ্বিতীয় দু’টো বই বিনা পারিশ্রমিকে ছাপলেন।

মুল কথায় আসিঃ- এই ফেসবুকের বদৌলতে ৪৪/৪৫ বছর আগের সহপাঠীদের পাই এবং অনেকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চললো। ইত্যবসরে করোনার আবির্ভাব, ব্যস তৈরী হলো গ্রুপ আর একে অন্যের সাথে স্মৃতি রোমন্থন।

কলেজ জীবনের অনেক নষ্টাল জিয়ার কথা। অনেক না বলা প্রেমকাহিনী। একটি বিষয় বলতেই হয়। সিলেট ডিগ্রী কলেজের ৭৫/৭৬ আইএসসি সেকশন এ ও বি তে সকলেই খুবই ভদ্র এবং ব্রিলিয়ান্ট ছিলো। তারও একটি কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৪ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষার মত এতো শক্ত পরীক্ষা আজ পর্যন্ত হয়নি।

সেসময় কুমিল্লা বোর্ডের পাশের হার ছিলো ৩১% আর সিলেটের পাশের হার ছিলো ১৯%। প্রথম দিকে আমাদের ক্লাসের এ সেকশনে সকল ছাত্রী ছিলো, পরে বি সেকশনের ভাগেও কিছু পড়ে।

আচ্ছা, যখন গ্রুপ তৈরী হলো তিনটি, একটি শুধু কলেজ সহপাঠী, অন্যটি পাইলট স্কুল ও কলেজ, অন্যটি জগাখিচুড়ি।

আমাদের সমবয়সী চাকুরীজীবি সকলেই পেনশনার।আইন ব্যবসায়ী ও ডাক্তাররা এখনো টাকার মায়া ছাড়তে পারেনি।

গ্রুপগুলোতে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাইকে একই সুতায় বেঁধে দিয়েছে। একটি কথা না বললেই নয়, গ্রুপে অনেক মতানৈক্যও আছে। দুই একজন একদম সিরিয়াসও হয়ে যায়।

এই দেখে আমি হাসি। আর ভাবি কলেজে পড়ুয়াদের মতো অভ্যাস এখনো তাদের যায়নি। আমি মজা লুটি।
করোনা ভাইরাস আর যা-ই করুক আমার সহপাঠীদের অনেক কাছে এনে দিয়েছে। ধন্যবাদ সোসিয়্যাল মিডিয়া। পরিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করি। আমিন।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *