করোনা সমস্যা এবং আমাদের করণীয় – ম আ মোশতাক


যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি ভাই বোনদের জন্য বর্তমান এই মহামারী থেকে যে সমস্যাগুলো উদ্ভব হয়েছে এ সম্পর্কে দুই একটি পরামর্শ দিতে চাই। আপনারা অনেকেই হোম কোরান্টাইনে আছেন এবং উৎকণ্ঠার সহিত জীবন যাপন করছেন।

আমি প্রথমেই আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের দরবারে সকল মানুষের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং সাথে সাথে এও প্রার্থনা করছি, আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে হেফাজত রাখেন।

আত্মঘাতী এ দুরারোগ্য মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে যারা কাজ করতে পারছেন না, আপনারা যদি ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট বেনিফিটে থাকেন, তাহলে আপনাদের জন্য দুটি অপশন আছে।

প্রথমত: আপনার কাজের জায়গায় মালিকের সাথে আলাপ করে দেখেন, যে আপনার কাজ দেখানো হচ্ছে কিনা? অর্থাৎ আপনি তাদের পে-রুলে আছেন কিনা? আপনি যদি পেরোলে থাকেন তাহলে আপনার মালিক আপনাকে কাজ কন্টিনিউয়াসলি দেখাবেন কিনা? যদি কাজ কন্টিনিউ  থাকে তাহলে আপনি কাজের জায়গা থেকে কোনো বেতন পাবেন কিনা?

আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন সরকার প্রত্যেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ৮০ পার্সেন্ট বেতনে সাহায্য করবে এবং আপনাকে কাজে রাখার জন্য বাকি ২০ ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বহন করতে হবে ।

দ্বিতীয়ত:  আপনি যদি কাজের জায়গা থেকে কোন বেতন পাবার আশ্বাস না পান, তাহলে আপনার মালিক কে P-45 ইস্যু করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন। আপনি P-45 পেলে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারেন।

ইউনিভার্সেল ক্রেডিট কিভাবে ক্লেইম করবেন:  আপনি ঘরে বসেই কম্পিউটারের মাধ্যমে করতে পারেন অথবা অন্য কারো সাহায্য নিয়ে এই ইউনিভার্সেল ক্রেডিট অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

এই ক্লেইম চালু হওয়ার সাথে সাথে আপনার পুরনো সিস্টেমের ওয়ার্কিং টেক্স ক্রেডিট বন্ধ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে দক্ষ কারো পরামর্শ নিতে পারেন। কারণ আপনি পুরনো সিস্টেম ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট ও চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, ইউনিভার্সেল ক্রেডিট থেকে বেশি পাচ্ছেন কিনা এবং ইউনিভার্সেল ক্রেডিট চালু হলে আপনি কত পেতে পারেন তা দেখে নিবেন।

ইউনিভার্সেল ক্রেডিট বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে যে লক ডাউন হয়েছে এতে করে হাজার হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ছে এবং বর্তমানে বেনিফিট অফিস জনগণের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত সাক্ষাতকার সীমিত করা রয়েছে।

তবে মনে রাখবেন, অনলাইনে যারা আবেদন করবেন, আপনাদের আবেদনগুলো অনলাইনে প্রসেসিং হয়ে যাবে। ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করার সময় অনলাইনে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করতে হয়। যাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাসপোর্ট রয়েছে তাদের আইডি ভেরিফিকেশনে  কোন সমস্যা নেই।

আপনারা ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ওয়েবসাইটে আইডি ভেরিফিকেশন সহজে করে নিতে পারেন। তবে যাদের পাসপোর্ট ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নয়, যেমন যাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের বেলায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

এইজন্য আপনি তাদেরকে ফোন দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিবেন। যদিও বর্তমানে করুনা মহামারী থাকার কারণে টেলিফোন লাইন ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং লাইন খুবই ব্যস্ত থাকে, যার কারণে সহজে লাইন পাওয়া যায় না।তাই অত্যন্ত ধৈর্য ধরে আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

যারা বর্তমানে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট বেনিফিট পাচ্ছেন এবং আপনারা ২৪ ঘণ্টা, ২০ ঘণ্টা বা ১৬ ঘণ্টা কাজ দেখিয়েছেন এবং বর্তমানে আপনারা কাজ করছেন না আপনারা শুধু ইউনিভার্সেল ক্রেডিট সাইন করে চেঞ্জ অফ সার্কামস্টান্সেস এই অপশনে ঢুকে তথ্য দিতে পারেন। সেই অনুযায়ী বেনিফিট অফিস আপনার পেমেন্ট এডজাস্টমেন্ট করবেন।

যারা ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট পাচ্ছেন এবং ভাবছেন যে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আপনি আবার কাজে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাহলে আপইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করার কোন প্রয়োজন নাই। ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট রেগুলেশন অনুযায়ী আপনার কাজ চলে গেলেও আপনি চার সপ্তাহ পর্যন্ত বেনিফিট পেতে পারেন।

এরপর আপনি যদি কাজ না থাকে্ন, তাহলে আপনার ওয়াকিং ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য ভেবেচিন্তে যদি প্রয়োজন মনে করেন এবং ভাবেন যে আপনার কাজে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তাহলে আপনি ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করে নিবেন।

মনে রাখবেন করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক নতুন ক্লেইম হইতেছে। বেনিফিট অফিসের সময়সূচী কমানো হয়েছে। লোকজন তাড়াতাড়ি কোন এপারমেন্ট পাচ্ছেন না। টেলিফোন লাইন সব সময় ব্যস্ত থাকে। তাই হতাশ হবেন না এবং লক্ষ্য রাখবেন ক্লেইম করার পূর্বে দক্ষ কারো পরামর্শ নিবেন।

আমি আবারও উল্লেখ করছি, যদি আপনি মনে করেন চার সপ্তাহের মধ্যে আপনি আপনার কাজে ফেরত চলে যাবেন বা ব্যবসা পুনরায় শুরু করবেন, তাহলে আপনি যদি ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট পেয়ে থাকেন তাহলে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করার কোন প্রয়োজন নাই।

আর যদি মনে করেন চার সপ্তাহের ভিতরে পুনরায় কাজে ফিরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই তাহলে আপনি ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করবেন।

যারা ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট পাচ্ছে্ন, এর সাথে আপনারা চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, হাউজিং বেনিফিট, কাউন্সেল ট্যাক্স রিডাকশন ও চাইল্ড বেনিফিট পাচ্ছেন। ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম করার কারণে আপনার চারটি বেনিফিট যেমন ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, হাউজিং বেনিফিট ও কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন বন্ধ হয়ে যাবে এবং তার পরিবর্তে আপনি ইউনিভার্সেল ক্রেডিট থেকে একটি প্রেমেন্ট পাবেন।

আমি উল্লেখ করছি পুরুনু নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনি বেশি বেনিফিট পেয়ে থাকেন তাহলে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ক্লেইম না করাই ভালো। নতুন ক্লেইম করার ব্যাপারে অভিজ্ঞ কারো সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারেন।

জব রিটেনশন স্কিম:  করোনা ভাইরাস এই মহামারি’র কারণে ব্রিটিশ সরকার জব রিটেনশন স্কিম চালু করেছে এর মাধ্যমে আপনার বেতনের ৮০ ভাগ আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আমাদের বাংলাদেশী ভাইয়েরা যারা রেস্টুরেন্টে কাজ করেন তারা বেশিরভাগ ২৪ ঘন্টা কাজ করেন এবং তাদের মাসিক বেতন যদি ৮৫৩.৮৪ পাউন্ড হয়, তাহলে সরকার যদি ৮০ ভাগ বেতন দেয় তাহলে ৬৮৩.০০ পাউন্ড পাবেন। বাকি ২০ ভাগ মালিক বহন করবেন।

সেলফ ইমপ্ল্যমেন্ট: যারা সেলফ ইমপ্ল্যমেন্টে রয়েছেন তাদের জন্য সরকার কিছু নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী যাদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রয়েছে, তাদের গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ করে আপনাকে প্রতিমাসের হিসাব করে আপনাকে তিন মাস পর্যন্ত সাহায্য প্রদান করবে। এই ব্যাপারে আপনার একাউন্টটেন্টের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক পরামর্শ নিতে পারেন।

ব্যবসায়ীরা কি কোন সাহায্য পাবেন? যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন সরকার তাদেরকেও সহযোগিতা ঘোষণা দিয়েছে। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে রেজিস্টার্ড থাকতে হবে । কাউন্সিল আপনার বিজনেস রেইটের উপর হিসাব করে আপনাকে এককালীন অনুদান প্রদান করবে।

ইতিমধ্যে অনেক কাউন্সিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চিঠি পাঠানো শুরু করেছে। এর সাথে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম দিচ্ছে। আপনি যথাযথভাবে ফরমটি পূর্ণ করে ই-মেইল অথবা ডাকযোগে পাঠিয়ে দিবেন। লক্ষ্য রাখবেন কোন কাউন্সিল শুধু চিঠি পাঠাচ্ছে এবং অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার জন্যে অনুরোধ করছে। আবার কোন কোন কাউন্সিল ফরম পাঠিয়ে দিচ্ছে এই ফর্মগুলি পূর্ণ করে আবার ই-মেইলের মাধ্যমে অথবা ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে।

সরকারি ঘোষণা মোতাবেক আরো কিছু ব্যাপারে আপনাদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী এবং ঘরের মালিক অথবা ভাড়াটিয়া তাদের জন্য প্রযোজ্য। আপনার যদি ভি এ টি পেমেন্ট দেওয়ার সময় হয়ে যায়, তা আগামী তিন মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার সুযোগ হয়েছে।

আপনার যদি সেলফ অ্যাসেসমেন্ট টেক্স এগুলো যদি এই সময়ের ভিতর করতে না পারেন। তাহলে  হয়তো (HMRC) আপনাকে পেনাল্টি দিবেনা।

যারা বর্তমানে ঘরের মর্গেজ দিতে পারবেন না, তারা আগামী তিন মাস পর্যন্ত পেমেন্ট স্থগিত রাখতে পারবেন। আপনারা মনে করবেন না যে সরকার আপনাদেরকে মরগেইজ পেমেন্ট মাফ করে দিয়েছে। আপনার উপর অর্পিত টেক্সট বা মর্গেজ এগুলো পরিশোধ করতে হবে।

যারা প্রাইভেট ঘরে বসবাস করছেন এবং বাড়ি ভাড়া দিতে অসুবিধা হচ্ছে। আপনারা বাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন। আপনারা বাড়ির মালিককে বলুন এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে রেন্ট পরিশোধ করতে পারছেন না এবং আপনাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য ।

ক্ষেত্রবিশেষে আপনারা রেন্ট কমানোর দাবিও করতে পারেন এবং এটা সম্পূর্ণ মালিক ও ভাড়াটিয়ার উপরে নির্ভর করবে। এ ব্যাপারে সরকার শুধু বলেছে যে রেন্ট না দেওয়ার কারণে কোন ভাড়াটিয়াকে এই মুহূর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ঘর থেকে বাহির করা যাবে না। তাই আপনারা কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে, সঠিক তথ্য গ্রহণ করুন, জানা না থাকলে যে কোন বিষয়ে যারা দক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে জেনে নিতে পারেন।

আপনারা গুজবে কান দিবেন না। সরকার কোন নীতিমালা করলে তা লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আসবে এবং নীতিমালা অনুযায়ী কার্যত সবকিছুই সমাধা হয়। তাই লোকে কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না।

ট্যাক্সি ড্রাইভার: যারা ট্যাক্সি ড্রাইভার আপনারা নিশ্চয়ই self-employed ক্যাটাগরির মধ্যে পড়েন এবং আপনাদের ব্যাপারে সমান নীতিমালা সরকার ঘোষণা করেছে আপনাদের প্রত্যেকের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব যেটা HMRC তে দাখিল করা হয়েছে,  সেই অনুযায়ী আপনার মাসিক আয়ের হিসাব করবে এবং আপনাকে সেই অনুযায়ী সাহায্য করবে।

আপনি যদি প্রতি মাসে ১০০০ পাউন্ড আয় করে থাকেন তাহলে আগামী তিন মাসে আপনি তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পেতে পারেন। এ ব্যাপারে আপনি অবশ্যই আপনার হিসাব রক্ষক বা একাউন্টেন্টের সাথে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ নেবেন।যারা বর্তমানে মহামারীতে টেক্সি চালাতে পারছেন না, আপনারা যদি বেনিফিট ক্লেইম করতে চান আপনাদের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিট অপশন খোলা রয়েছে।

আমাদের কমিউনিটিতে অনেক লোক ভালো বেতনে উচ্চপদে কাজ করেছিলেন কিন্তু বর্তমানে তারা কাজ করছেন না। তাদের বেলায় এবং যারা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন অথবা যাদের একাউন্টে অনেক পয়সা জমা আছে তারা ভাবছেন, আমরা কি বেনিফিট ক্লেইম করতে পারব।

আপনাদের জন্য আমার পরামর্শ, আপনি অবশ্যই বেনিফিট পেতে পারেন। আপনার একাউন্টে যদি ছয় হাজার পাউন্ডের নিচে থাকে তাহলে বেনিফিট ক্লেইমের কারণে আপনার কোনো ডিডাকশন করা হবে না। আপনার যদি ছয় হাজার পাউন্ডের উপরেও পয়সা থাকে তাহলে আপনি বেনিফিট পাবেন।

মনে রাখবেন ৬ হাজার পাউন্ডের উপরে প্রতি ৫০০ পাউন্ড এর জন্য ২ পাউন্ড ৫০ পেনি ডিডাক্ট করা হয়। এই হিসাবে প্রতি এক হাজার পাউন্ড বেনিফিট অফিস আপনার ৫ পাউন্ড ডিডাক্ট করবে।

যাদের ভিসা নেই: আমাদের কমিউনিটিতে অনেক লোক রয়েছেন, যাদের ভিসা নেই তাদের দিকে মানবিক কারণে একটু লক্ষ্য রাখবেন। কারণ তারা সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাবেন না। দয়া করে তাদের খোঁজ খবর নিন। তাঁদেরকে আপনার সাধ্যমত সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন।

আমাদের বাংলাদেশী পরিবার কাজ না থাকার কারণে অনেকে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ রয়েছে তাদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, তারা যাতে ঘরে বসে নিয়মিত লেখাপড়া পাশাপাশি খেলাধুলা বিনোদন নামাজ এবং কোরআন তেলাওয়াত করে।

মা বাবারা বাচ্চাদের সময়গুলো নির্ধারণ করে দিবেন। আপনারা বাচ্চাদের খেয়াল রাখবেন। খাবার দাবারের ব্যাপারে মজুদ না করাই ভালো। কারন সবার যা হয়, আমাদের তা হবে। আমরা যে সমাজে বসবাস করছি আশা করি আপনারা যদি দেখেন সামইয়িক যে সমস্যা গুলো রয়েছে, বিশেষ করে সুপার স্টোরগুলোতে গেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

আগের মত নয়, অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। ঘন্টা দেড়েক লাইনে দাঁড়িয়ে তারপরে শপিং করতে হচ্ছে। এটা চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত এই মহামারী থেকে আমরা মুক্তি না পাই। আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এটা করা হয়েছে।

আপনারা জানেন এর আগে এ ধরনের ছিল না, আপনারা দূরত্ব বজায় রাখবেন। বিভিন্ন সুত্র বলছে অন্তত ছয় ফুট বা ২ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে।

আপনারা যদি বাইরে কোনো কাজে যান, তাহলে দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। আর কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো। সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, আপনাদের মনোবল শক্ত করার জন্য । কারণ আপনারা সবাই ভালো করে জানেন যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং মানব জাতিকে তিনি যা ভাল চান তাই করবেন।

আমাদের যদি মৃত্যু নিশ্চিত থাকে, তাহলে মৃত্যু হবেই, সেটা করুণার কারনেই হোক অথবা অন্য কোনো রোগের মাধ্যমে হোক অথবা রোগ ছাড়াই হোক। সারা পৃথিবীতে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, তাহলে এত ভয় কিসের।

আপনারা ভয় করবেন স্রষ্টাকে, যিনি এই বিশ্ব ব্রমান্ড সৃষ্টি করেছেন। মুসলমানরা নামাজ পড়ে দোয়া করবেন সমস্ত মানবজাতির জন্য, শুধুমাত্র মুসলমানের জন্য নয়। সমস্ত মানব জাতি আল্লাহর সৃষ্টি, তাই সমস্ত মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা ভালো থাকলে-পরিবার ভালো থাকবে, পরিবার ভালো থাকলে সমাজ ভালো থাকবে, আর সমাজ ভালো থাকলে দেশ ও জাতি ভালো থাকবে। আর এই দুনিয়ার মানব জাতী বেঁচে যাবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *