মানবতার সেবায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগন্জের একঝাঁক তরুন। সবাই কওমি মাদ্রাসা থেকে পাশ করা আলিম, মুফতি ।তারা সবাই ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত তরুন যুবক। কভিড ১৯ আক্রান্ত মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছে। নিজের জীবন বাজী রেখে মানুষের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছে ।
কঠিন একটা চ্যালেন্জের সম্মুখীন তারা , নিজেদের প্রস্তুত করে নিয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তরণরা ঢাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করে এসেছে। যারা কভিড ১৯ মারা যাবেন দাফন কাফন এবং গোসলের দায়িত্ব তাদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে “কওমী জননী“ উপাধি পেয়েছেন। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে। যতটুকু এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এই স্বীকৃতি শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ আদৌ হবে কিনা সন্দিহান।

কওমীর ছাত্রদের শিক্ষার মুল্যায়ন কখন ও করা হয় নাই। যেমন চাকুরীর ক্ষেত্রে অথবা সমাজের বিভিন্নক্ষেত্রে তারা সব সময় অবহেলিত ছিল এখন ও আছে। বিশেষ করে যারা সৃজনশীলতার রাজনীতি বা ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য গলা ফাটান। তারা তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হেয় করেন, অসম্মান প্রদর্শন করেন। শেষ করে টক শো গুলো দেখলে মনে হয় এইসকল বিশেষজ্ঞদের একমাত্র এজেন্ডা কওমীর বিরোধিতা করা।
দেশের এবং সমাজের ক্রান্তিলগ্নে আজকে কওমির ছাত্ররা এগিয়ে এসেছে। আজকের করোনা থেকে আমরা বুঝে গেছি কেউ কারো জন্য নয়। মানবতা ও অমানবতার সাক্ষী হয়ে রইল ২০২০ সালের পৃথিবী। কভিড -১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গেলে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়া যাবে না। বৃটেনের প্রেক্ষাপটে যদি রোগীর পজিটিভ ধরা পড়ে আর শ্বাসকষ্ট হয় সাথে সাথে রোগীকে নিয়ে যাবে।
এখানেই শেষ বিদায় নিতে হবে, যদি হায়াৎ থাকে তাহলে বাড়ী আসবে। আর না হলে এ বিদায় শেষ বিদায়। তবে এখানে বিভিন্ন সংস্হা আছে তারা টাকার বিনিময়ে লাশের দাফন কাফন সম্পন্ন করে ।

আমার প্রিয় বাংলাদেশে দেখলাম করোনা আক্রান্ত মাকে জংগলে ফেলে রেখেছে। কুর্মিটোলা হাসপাতালে বাবার লাশ রেখে স্বজনরা পালিয়েছে। এরকম আরো অনেক খবর জানা গেছে সংবাদ পত্রের মাধ্যমে।
দেশের এই দুর্দিনে কওমী ছাত্রদের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। যেখানে স্বজনরা লাশের ধারে কাছে নেই, সেখানে সমাজের অবহেলিত ঘৃন্যরা মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় কেউ করোনা ভাইরাসে মারা গেলে, ডিসি অথবা উপজেলা স্বাস্হ্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। স্বাস্হ্য অধিপ্তরের মাধ্যমে কওমী তরুনরা কাজ করবে।
স্বাধীনতার পূর্ব থেকে কওমীর ছাত্ররা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশেকে সেবা দিয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম না বললেই নয়, মৌলানা আব্দুল হামিদ ভাসানী তাদের মধ্যে অন্যতম। মৌলানা ভাসানীর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারব না।
স্বাধীনতা পূর্ব এবং উত্তর মৌলানা ভাসানী ছিলেন একজন বলিষ্ট নেতা। সেই ভাসানীর উত্তরসুরীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানব সেবায় আত্ননিয়োগ করেছে। মুসলমান, হিন্দু, খৃস্টান বা যে কোন ধর্মের লোকেরাই তাদের এই সেবা পেতে পারেন। শুধু লাশ দাফন কাফন এবং গোসলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাহারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গরীব দু:স্হ ও অসহায় মানুষের ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের কাজে নিয়োজিত।
আমরা যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। আমরা কি করছি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে ক্ষুদে বার্তা দিতেছি। Stay home, stay safe, save lives ইত্যাদি। কিন্তু আমরা কেউ মাঠে নামি নাই। মুখে বড় বড় বুলি আওড়ানো সহজ।
কিন্তু বাস্তবে মৃত্যুর সাথে কাজ করা অনেক কঠিন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, কওমী সৈনিকরা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে পিপিই সহ যাবতীয় জিনিস ক্রয় করেছেন। সরকারী কোন অনুদান বা সাহায্য ছাড়াই। আমাদের এখন সময় এসেছে বেছে নেওয়ার, কারা প্রকৃত দেশ প্রেমিক।
কদিন আগে একটা খবর পড়েছি এক হিন্দু ভাই করোনা ভাইরাসে মারা গিয়েছিল, তার স্বজনরা সৎকার করতে আসে নাই। সেখানে কওমি সৈনিক একজন মুফতি সেই হিন্দু ভাইয়ের চিতায় আগুন দিয়েছিল। আমি সাধারন একজন মানুষ এ পর্যন্ত যা বুঝেছি, আমাদেরকে এই কওমী সৈনিকদের পাশে বলিষ্টভাবে দাঁড়াতে হবে ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত এই দেশ প্রেমিকদের সত্যিকার মর্যাদা দিয়ে সমাজের কাজে লাগাতে হবে। মানবতায় ব্রত সকল কওমী সৈনিকদের জন্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইল ।
মতামত লেখকের নিজস্ব
