সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, এসব কর্মীর শুরুতে সাকল্যে বেতন ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে তাঁরা পদ অনুযায়ী ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন।
প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, অনেক প্রকল্পের কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার নজির আছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে চাকরি স্থায়ী করলে সেতু বিভাগের সক্ষমতা সমৃদ্ধ হবে।
দিন-তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে আগামী জুনে পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে—এই বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিতই কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ তো বটেই, সারা দেশের মানুষের জন্যই এটি খুশির খবর। কিন্তু ওই ৬৩ কর্মী মনে করছেন, সেতু চালু মানেই তাঁদের চাকরি শেষ। কীভাবে সামলাবেন পরিবারের ভরণপোষণ, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া একজন অফিস সহায়ক নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি—এলাকার সবাই এমনটাই জানে। বিয়ে করেছি ভালো ঘরে, শিক্ষিত মেয়ে। সন্তান হয়েছে। এখন চাকরি চলে গেলে একে তো লজ্জায় পড়তে হবে, আবার সন্তান-সংসারের ভার সামলাব কীভাবে, এই দুশ্চিন্তায় ঠিকমতো ঘুম হয় না।’
পদ্মা সেতুর ডিপিপিতে সেতুটি চালু হওয়ার পর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৮৬ জন স্থায়ী কর্মী রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জন কর্মকর্তা ও ৫৬ জন কর্মচারী। প্রকল্পে কর্মরতদের দিয়ে এসব পদ পূরণ করার কথা ডিপিপিতে উল্লেখ রয়েছে।
ওই ৬৩ কর্মীর চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম গত বছরের ২৪ আগস্ট সেতু বিভাগের সচিবকে চিঠি লেখেন। এতে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের কাজে লাগানো এবং মানবিক দিক বিবেচনায় তাঁদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা দরকার। এ জন্য একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেন তিনি।
এই বিষয়ে শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা মহামারির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োজিত। যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও পেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাঁদের চাকরি রাজস্বভুক্ত করা না হলে সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের মার্চে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে ওই ৬৩ কর্মীকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের সুপারিশ করে। গত বছরের জুলাইয়ে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে দক্ষ এসব কর্মীর চাকরি স্থায়ী করার সুপারিশ করা হয়।
