সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, শাহজাহান চৌধুরী : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জালভোট ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ছাতক, শাল্লা ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৭টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, জেলার সদর উপজেলার তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, বড়পাড়া পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও শাল্লা উপজেলার ইয়ারাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং তাহিরপুর উপজেলার দিঘলবাক ও ছাতক উপজেলার নাদামপুর কেন্দ্র।
রোববার দুপুর ২ টায় জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার তাহিরপুর ও ছাতাক উপজেলার দুটি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই দুই কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনার কারনে কেন্দ্র দুটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও বড়পাড়া পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং শাল্লা উপজেলার ইয়ারাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও অনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহন বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। উল্লেখ্য, দুপুর ১২ টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার দিঘলবাক কেন্দ্রে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এ উপজেলার বিন্নাকুলি, কড়ইগড়া ও কলাগাও কেন্দ্রে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এদিকে, ছাতক উপজেলার নাদামপুর কেন্দ্র ব্যালট ছিনতাইয়ের কারণে ওই কেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার দিঘলবাক কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এতে প্রায় আধাঘন্টা উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। অপরদিকে সাড়ে ১২ টায় একই উপজেলার বিন্নাকুলি,কড়ইগড়া ও কলাগাও কেন্দ্রে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ তিনটি কেন্দ্রের সংঘর্ষ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রনে এনেছে পুলিশ। একইভাবে জালভোট দেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও বড়পাড়া পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং শাল্লা উপজেলার ইয়ারাবাজ, কাশিপুর ও অনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভোট গ্রহন বন্ধ ঘোষনা করা হয়।
দুপুর আড়াইটায় সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান পরিদর্শন করেছেন। এসময় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, তাহিাপুর, দোয়ারাবাজা উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছে।
