প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলেকে (জিএসসি) রক্ষা, আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ, মেম্বারশিপ ফি এবং চ্যারিটি ফান্ডস তিন কোটি টাকার হিসেব এবং অবৈধ নির্বাচনে গঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী “সেইভ দ্যা জিএসসি ও আমাদের করণীয় ” শীর্ষক এক বিশেষ সভা পূর্ব লণ্ডনের মাদানী ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় ।
জিএসসির অন্যতম নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং জিএসসি’র সাবেক কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাবেক কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মুজিবুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পেট্রন কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ট্রেজারার মাহিদুর রহমান, কমিউনিটি নেতা সিরাজ হক, সাবেক ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার ওহিদ আহমদ, সংগঠনের সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়ছর, জিএসসির সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল আহাদ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক দিলওয়ার হোসেইন, সাবেক ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলার জোসনা ইসলাম, জিএসসি নর্থ ইস্ট সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব শিকদার, আব্দুল মান্নান মুন্না, জিএসসি নর্থ সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র ফুলজার আহমেদ, আফছারুজ্জামান পারভেজ, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, নুর আহমদ কিনু, মাওলানা রফিক আহমদ রফিক, সমির উদ্দিন, আহবাব মিয়া, মহিলা নেত্রী হেলেন ইসলামসহ বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ। সভায় বিলেতের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জিএসসি গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ তাদের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় সারা বৃটেন থেকে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশত নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। সভায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া করেন মুফতি সৈয়দ মাহমুদ আলী ।
সভায় বক্তারা বলেন -গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইউকে সিলেটবাসীর প্রাণের সংগঠন । ভূয়া ভোটার (ডেলিগেট) ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের গঠিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে সকল মেম্বারশীপ নবায়ন করে স্বচ্ছ ভোটার (ডেলিগেট) তালিকার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একতরফা,পক্ষপাতমূলক ও ভুয়া মেম্বার থেকে অবৈধ ভোটার (ডেলিগেট) তালিকা করে নির্বাচন করার মধ্যে দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠণের ইমেজ ক্ষুন্ন করা হয়েছে। বিলেতের কমিউনিটি উনাদের ক্ষমা করবেনা বলেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারীরা মেম্বারশীপ ফি’র কোন সঠিক হিসাব দিতে পারেননি । চ্যারিটির জন্য যে তিন কোটি টাকা অর্থ তুলেছে তারও সঠিক হিসাব দিতে পারেননি । তাই এই অবৈধ কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করতে হবে এবং মেম্বারশিপ ফি ও চ্যারিটি ফান্ডের জন্য তাদের কথিত তিন কোটি টাকার হিসাব সকল মেম্বারদের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে । ইতিমধ্যেই চ্যারিটি কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয় । চ্যারিটি কমিশনের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী কর্মপন্থা গ্রহন করা হবে। সভায় মেম্বারশিপ ফি ও চ্যারিটি ফান্ডের স্বচ্ছ হিসেব আদায়ের জন্য চ্যারিটি কমিশনে দাখিলকৃত অভিযোগের ফলোআপ, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও এর প্রতিকারে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় ।
সভায় পক্ষপাতদুষ্ট ও একতরফা বিজিএম ও নির্বাচন বর্জন করায় ডেলিগেটবৃন্দকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয় । সভায় বক্তারা আরো বলেন যে – গোপনে সংবিধান পরিবর্তন করে প্রত্যেক রিজিয়নের অধিকার ও ক্ষমতা খর্ব করার যে ধারা সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে ।
সভায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে জিএসসিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা, অবৈধ কমিটি বাতিল এবং সংগঠনে একতা ও ভাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মাহবুবকে কনভেনর, জিএসসি লিডার মসুদ আহমদকে কো-কনভেনর, জিএসসির সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মুজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং মোহাম্মদ মকিস মনসুরকে সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনর করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ‘সেইভ দ্যা জিএসসি’ ক্যাম্পেইন গ্রুপ ইউকে’র কনভেনিং কমিটি গঠন করা হয়। সভায় প্রতিটি রিজিওন থেকে কমপক্ষে একজন করে জয়েন্ট কনভেনর ও চারজন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি রিজিওন ও ব্রাঞ্চে সেইভ দ্যা জিএসসি’ ক্যাম্পেইন গ্রুপ রিজিওনাল ও ব্রাঞ্চ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
এছাড়াও সম্মানিত প্যাট্রন, জিএসসি’র ফাউন্ডার মেম্বার, কমিউনিটি লিডার, সাংবাদিক, আইনজীবী, একাউন্টেন্ট ও ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধিসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে সেইভ দ্যা জিএসসি’র ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
সভায় আরো বলা হয় যে, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির সংগঠন নয় । বিলেতের কমিউনিটি ও সংগঠনের সাধারন সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংগঠনকে কতিপয় ক্ষমতালোভী ও দুর্নীতিপরায়ন লোকদের হাত থেকে উদ্ধার ও রক্ষা করবে ।
সভায় বিভিন্ন রিজিয়নের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ আমিনুল হক, সৈয়দ মইনুল ইসলাম, শেখ তাহির উল্লাহ ,আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, খান জামাল নুরুল ইসলাম, রহুল আমিন রুহেল, এম জামাল হোসেন, সিপার রেজাউল করিম, সেলিম আহমদ, মোহাম্মদ নূর বকস, কদর উদ্দিন, শেখ নুরুল ইসলাম, খালেদ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, মিসবাহ আহমদ, রাকিব রুহেল, মুজিবুর রহমান, শাহ শাফি কাদির, রকিবুর রহমান, বেলাল হোসেন, আব্দুর রহিম রন্জু, আব্দুর রুউফ তালুকদার, বসর সিকদার, আব্দুল বাসিত রফি, আব্দুল ওয়াহিদ, খালেদ খান, সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম, সৈয়দ আবু মুছা আহছান, মুসফিক চৌধুরী রাব্বি,মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম, সাংবাদিক মোঃ ওয়াহিদ খান, আফসর উদ্দিন, আব্দুস শহীদ, মোঃ কামাল আহমদ, আশরাফ মিয়া ,রুহেল মিয়া, কবির আলী, আনোয়ার হোসেন, রুকনউজ্জামান আহমেদ, জিতু মিয়া, শাহীন আহমেদ, কবির আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, লয়লু মিয়া, সাদিক আহমেদ, তালুকদার আতাউর রহমান, বমোহাম্মদ আজিম উদ্দিন আজির, দরুল মনসুর, নাজমুল সুমন, শামীম চৌধুরী, আমিনুর চৌধুরী, সালেহ আহমদ, মোস্তফা কামাল বাবলু, শাহ রহমান বেলাল, শাহীন আহমেদ, জlয়নাল ইসলাম, জুবেল আহমদ বেলাল, জহির উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, তইজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, মোস্তাক আহমেদ, আহমেদ সাদিক,আতাউর রহমান, আজম আলী, মামুনুর রশীদ, মোহাম্মদ ফয়ছল মনসুর, জাকির হোসেন, আব্দুল বাসির, শামসুল হক, নাজমুল ইসলাম, আব্দুল বাছিত, মাহমুদ মিয়া, ফজলু মিয়া, আসরাফ চৌধুরী, ইয়াহিয়া চৌধুরী, আজিজুর রহমান, শাহ সোপান, মোহাম্মদ শাহীন আহমদ, মোহাম্মদ সামসুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম, মোহাম্মদ আতিক মিয়া, মোহাম্মদ মিফতাহুর রহমান, মোহাম্মদ রানা মিয়া, এ কে রাজু, নুরুল ইসলাম মধু, নেসার আহমদসহ প্রমুখ।
