আমার বাড়ির কাজের বুয়া হঠাৎ সেদিন এসে,
বললো, ভায়া, কন তো দ্যাহি কি হলো আজ দেশে?
রাস্তাঘাটে বাহির হলে পুলিশ করে তাড়া,
আমার স্বামী রিকশা’অলা খাটছে না আর ভাড়া।
দুই চোখে তার ভয়ের ছায়া কি জানি সে ভাবে,
রিকশা যদি বন্ধ থাকে কি করে দিন যাবে!
আবার বলে, কন তো আমায় করোনা কি ভাই,
এ নাকি এক মহামারী সবাই বলে তাই।
আমার আগেই গিন্নি এসে বলেন, হ্যাঁ গো ঠিক,
পাচ্ছে না কেউ বাঁচার দিশে ছোটে দিগ্বিদিক।
বাঁচতে হলে দুয়োর এঁটে থাকতে হবে ঘরে,
আর এসো না, থাকলে বেঁচে ডাকবো তোমায় পরে।
বললো, জানি এমন কথাই শুনতে হবে আজ,
থমকে গেল কাজের বুয়া পড়লো মাথায় বাজ।
অনেক দিনের ঠিকে ঝি সে, মুখটা করে নিচু,
আঁচলে চোখ মুছলো শুধু বললো না আর কিছু।
ক’দিন পরে আসলো আবার, মুখটা ভীষণ ভার,
তার স্বামীকে পুলিশ নাকি মারলো ভীষণ মার।
মারের চোটে ডান হাঁটুতে মচকে গেছে হাড়,
শিরদাঁড়াও ভাঙলো বুঝি টুটলো বুঝি ঘাড়।
পেটের টানে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল কাল,
কিনতে হবে লবণ-মরিচ দু’চার কেজি চাল।
ভাঙলো হাঁটু মচকালো হাড় এখন উপায় কি,
বলতে পারেন জোর পাবে আর তার দু’পায় কি?
দুনিয়াটাই তার কাছে যে লাগছে ভীষণ ফাঁকা,
কিনতে হবে সওদাপাতি কোথায় পাবে টাকা।
অনেকদিনের ঠিকে ঝি সে দিলাম কিছু চাল,
গিন্নি দিলেন পেঁয়াজ-রসুন খানিক মসুর ডাল।
এমনি কত দীনদুঃখী যে কাঁদছে ঘরে ঘরে,
দুয়োর এঁটে ঘরের ভেতর বাঁচবে মরে মরে।
পেটের খাবার করতে জোগাড় কাজ করা যে চাই,
অন্ধকারে সবহারাদের ডুবছে দুনিয়াটাই।
০২/০৫/২০
ম্যানচেস্টার
ইউকে
