

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের একদম শুরুতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দেশটিতে এখন পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ৬ শর বেশি। এ ছাড়া ৮০টি ড্রাইভ-থ্রু সেন্টার আছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখান থেকে গাড়ি নিয়ে দ্রুত সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে গিয়ে পরীক্ষা করে আসেন।
এভাবে দক্ষিণ কোরিয়া এখন প্রতিদিন ২০ হাজার লোকের করোনা পরীক্ষা করতে সক্ষম। এ ছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা খরচে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে; তার পরিচয় এবং তার সাম্প্রতিক গমনস্থল ও চলাচলের ইতিহাস প্রকাশ করা হয়েছে। সে কোথায় কোথায় গিয়েছিল এবং কোন কোন যানবাহন ব্যবহার করেছিল, তার সম্পর্কে জেনে তার সংস্পর্শে আসা লোকেরা কোয়ারেন্টিনে যেতে পেরেছে।
কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা, ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের রেকর্ড এবং সিসিটিভির ফুটেজের ওপর নির্ভর করেছে।
এসব ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবহার দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈধ এবং এটি ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। অবশ্য এতে প্রাইভেসি বা একান্ত ব্যক্তিগত নিভৃতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির মানবাধিকার কমিশন আক্রান্ত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
করোনাযুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন ও এনজিওগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি। যে শ্রমিকেরা কাজ হারিয়েছে, তাদের ঘরে অবস্থান করতে সহায়তা করার জন্য কোম্পানিকে মজুরি দিতে ট্রেড ইউনিয়ন ভূমিকা রেখেছে। মৌলিক মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এনজিওগুলো সরকারকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে উদার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। যেমন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসে, তাহলে তাকে আটক করা হবে না কিংবা পরবর্তী সময়ে তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়েছে। দুই পক্ষের সদিচ্ছাই কাজটিকে সহজ করে দিয়েছে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
মায়োং-হি কিম দক্ষিণ কোরিয়ার পিপলস হেলথ ইনস্টিটিউটের সেন্টার অব হেলথ ইকুইটি রিসার্চের পরিচালক এবং মহামারি বিশেষজ্ঞ
