না ফেরার দেশে চলে গেলেন শিহাব উদ্দিন চৌধুরী


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক ::  সিলেট এম,সি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান অনার্স প্রথম ব্যাচে (১৯৭৫-৭৬) শিহাব উদ্দিন চৌধুরী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আজ রোববার ভোরে ফজরের সময় সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকাস্থ নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ কন্যা ও ১ পুত্র, ভাইবোন এবং আত্নীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের মরদেহ সকালেই তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ কালিদাস পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আজ নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

শিহাব উদ্দিন চৌধুরী চতুর্থ বারের মতো ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি ফয়জুর রহমান  তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান। অনেক চেষ্টার পর কোনোমতে উনাকে চিনতে পারেন । কিন্তু প্রানান্তকর চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেন নি। হাত ধরে দীর্ঘক্ষণ উনার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চার দফা ব্রেইন স্ট্রোকে তাঁর মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশই অকার্যকর হয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হলে তাঁকে বাসায় স্থানান্তরিত করা হয়। অবশেষে এই মায়াবী পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন আজ ভোরে।

মরহুম শিহাব উদ্দিন চৌধুরীর বড় মেয়ে এম সি কলেজে বিএসসি এবং কনিষ্ঠা কন্যা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ২য় বর্ষ এমবিবিএস-এ অধ্যয়নরত। আর একমাত্র পুত্র সিলেটের গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়ন করছে।

শিহাব উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিলেট সরকারি এমসি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে ১ম বর্ষ শেষ করে চলে যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চবি থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করে উচ্চ শিক্ষার্থে তিনি পাড়ি জমান কানাডায়। অধ্যয়ন শেষে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সেখানে।

পরবর্তীকালে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলে আসেন বাংলাদেশে। সন্তানদের পড়ালেখার সুবিধার্থে অবস্থান করেন সিলেট নগরীতে। এক পর্যায়ে পূনরায় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আর এই অসুস্থতার ধারাবাহিকতায় পাড়ি জমালেন আজ না ফেরার দেশে।

পরম করুণাময় আল্লাহ পাকের দরবারে প্রার্থনা- তিনি যেন মরহুম শিহাব উদ্দিন চৌধুরীকে জান্নাতের স্থায়ী মেহমান হিসেবে ক্ববুল করে নেন। সেইসাথে তাঁর সহধর্মিণী, পুত্র-কন্যাসহ স্বজনদের শোক সংবরণ ও ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *