প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম বিশেষ প্রতিনিধি (সিলেট)ঃ প্রকৃতি কন্যা জাফলং। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি জাফলং। বৃহত্তর সিলেটের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং।
সুদূর অতীত কাল থেকেই নিসর্গপ্রেমি আর সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে টেনেছে প্রকৃতিকন্যা জাফলং। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অগণিত-অসংখ্য পর্যটক আর ভ্রমণ বিলাসীরা জাফলং-এর অপরূপ রূপ দর্শনে বরাবরই হয়েছেন বিমুগ্ধ।
জাফলং দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। প্রায় পুরো বছর জুড়েই এখানে আনাগোনা থাকে পর্যটকদের। জাফলং এর রয়েছে আরেকটা পরিচিতি। দেশের অন্যতম পাথর কোয়ারীর অবস্থান এখানে।
জাফলং থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বোঝাই হয়ে পাথর-বালি যায় গোটা দেশে। এর মধ্যে আছে বোল্তার ও সিঙ্গেল পাথর এবং নানা আকার-প্রকারের বালি।

এখানকার পাথর কোয়ারী থেকে উত্তোলিত এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের মেঘালয়া থেকে আমদানিকৃত বোল্ডার পাথরকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে ওঠেছে এক বিশাল পাথরের হাট। জাফলংয়ের পাথর রাজ্যে গড়ে ওঠেছে স্টোন ক্রাশিং মেশিন ভিত্তিক আরেক শিল্প। জাফলং এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য পাথর ভাঙ্গার মেশিন।
দেশব্যাপি অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাথরের ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পাথর কোয়ারীর উপরিভাগের মজুদ কমে আসায় ব্যবসায়ীরা ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলনে হয়েছেন আগ্রহী। এর মধ্য দিয়ে ঘটছে পরিবেশের বারোটা।
ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন এবং শত শত পাথর ভাঙ্গার মেশিন থেকে নির্গত পাথর চূর্ণ গোটা জাফলং এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। আর এ উদ্বেগজনক বিষয়টি পরিবেশবাদী এবং পরিবেশ সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
জাফলং সম্পর্কিত এ পোস্টে ব্যবহৃত জাফলংয়ের স্বচ্ছ-সলিলা নদীর নয়নাভিরাম দৃশ্যের ছবিগুলো এক যুগ আগে ধারণকৃত। অব্যাহত পরিবেশ বিপর্যয়ে জাফলং-এর নয়ন জোড়ানো সেই রূপ-যৌবন আর সৌন্দর্য আজ আর তেমনটি নেই।
