মাঝি , তুই বৈঠা থামা ;
আমি ঘাটের জলে ডুইবা মরতে চাই ।
মাঝ দড়িয়ার ঢেউয়ের নাচে বসন সমেত
ভাইসা যাইতে চাই ,
পরান মাঝিরে, তুই বৈঠা থামা ।
বুক কাঁপি যায় জ্বারে ,
এ জ্বার আসে ডাঙ্গায় বাঁধা অচিন কোন ঘরে ।
অমাবশ্যায় বসন কাঁপে , কাপলো দড়িয়ার জল ;
আমার গতর-তোরি গতর নামলো নদের ঢল ।
তোর সোদা গন্ধে ভইরা গেসাল অংগ জরা জ্বরে ;
এখন কীবা এমন কইরা বুক কাঁপে মোর ডরে ।
মাঝি তুই বৈঠা থামা,
গাঙ্গের জলে কার জানি ছায়া পিছন করে।
সুঠাম বাহু আলগা করতেও ভয় লাগে তোর বুঝি ,
ওই খানে আর আমি নাইরে ,
আছে আরেক পরী ;
তার শইল্যের গন্ধ আইস্যা আমার নাকে লাগে ,
কইলজ্যা পুইড়া যায়রে মাঝি ,
কয়লা হয় এই মাটি ।
দেহের জ্বারে মনের জ্বারে একাকার হই আমি,
পরান মাঝি, তুই বৈঠা নিয়া চইলা যা উজানে ;
তোর জন্যে বইস্যা আছে হুর পরী ওই ঘাটে ।
গলগলাইয়া চান্দের আলোয় আমার গতর ভাসে ;
ভাটির টানে মরন যদি আবার ফিরা আসে ,
মাঝি , তুই বৈঠা থামা ।
গাঙ যে আমায় ডাকে।।
পরান মাঝি ; তুই বৈঠা থামা —-রোদেলা নীলা

One response to “পরান মাঝি ; তুই বৈঠা থামা —-রোদেলা নীলা”
প্রতিটি প্রানের ভিতরেই এমন একজন মাঝি থাকে যাকে আমার আমি বলা যেতে পারে। সেই আমার আমি’র প্রতি আমাদের কতই আকুতি!!!
কবিতাটি দারুণ হয়েছে প্রিয় লেখিকা “রোদেলা নীলা”।