প্রবাস বার্তা রিপোর্ট ঢাকাঃ সিঙ্গাপুরের পর এবার যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করে নিয়ে সে দেশেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহ করতে উচ্চপর্যায়ের টিম সম্ভাবতা যাচাইয়ে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই টিম আগামী ২৮ জুলাই (রোববার) থেকে ১লা আগষ্ট পাঁচদিন দেশটিতে এ সংক্রান্ত বৈঠকে করবে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, গত মার্চে ইসি সচিব (সাবেক) হেলালুদ্দীন আহমদ সিঙ্গাপুরে সম্ভাবতা যাচাই করে যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী দেশটিতে কার্যক্রম হাতে নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর যুক্তরাজ্যে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যাচ্ছেন যুগ্ম সচিব মোঃ আবুল কাসেম।
আগামী ২৪ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের এ সফরে তারা ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, বাংলাদেশের কমিউনিটি ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর আগে তারা ২৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ১৮তম ক্যামব্রিজ কনফারেন্স অন ইলেকশন ডেমোক্রেসিতে অংশ নেবেন।
এ বিষয়ে সচিব বাংলানিউজকে বলেছিলেন, প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশে এনআইডি সরবরাহের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সেখানেই শিগগিরই পাইলটিং করা হবে। এরপর আমরা যুক্তরাজ্যে যাচ্ছি সম্ভাবতা যাচাইয়ে। সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশন, কমিউনিটি ও পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে বৈঠক করবো। সেখান থেকেই হয়তো করণীয় উঠে আসবে।
এ বিষয়ে ইসির এনআইডি শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, পুরো কর্মপন্থাটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের একটি করে লোকাল সার্ভার স্থাপন করা হবে। সেই সার্ভারের অধীনে কয়েকটি টেম্পরারি সার্ভার স্থাপন করা হবে। লোকাল সার্ভারের সঙ্গে টেম্পরারি সার্ভারের সংযোগ থাকবে। আর টেম্পরারি সার্ভারের মাধ্যমেই নাগরিকদের তথ্য ইনপুট দেওয়া হবে।
বিদেশ থেকে সেই তথ্য দেশে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপজেলায় পাঠানো হবে। সেই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাঠাবেন। প্রতিবেদনে সত্যতা মিললেই কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশেই দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি সরবরাহ করা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর কারর্যলয়ের নির্দেশনার পর ২০১৮ সালে এ উদ্যোগটি হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর কয়েক দফায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে সিঙ্গাপুরকেই প্রথম হিসেবে বেছে নেয় ইসি। বিভিন্ন দেশে ২ কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।
