প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ ছাত্র ও যুব নেতাদের দুর্নীতির যে চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে তা অতি সামান্য, লোমহর্ষক দুর্নীতির শেকড় আরও গভীরে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, চলমান অভিযান উৎসাহব্যঞ্জক ও জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে কিছু ছাত্র ও যুব নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রেক্ষিতে যে লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। মূলত রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও রাজনৈতিক পরিচয়ে দুর্নীতির শেকড় আরও গভীরতর ও ব্যাপকতর।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে যে উৎকণ্ঠাজনক চিত্র সামনে এসেছে, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চলমান এ অভিযানের ব্যাপ্তি ও প্রসার অন্যান্য খাত ও পর্যায়ে বিস্তৃত করতে পারলে একই চিত্র উদ্ঘাটিত হবে। রাজনৈতিক সংশ্রবপ্রসূত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু রাজধানী ও এর আশপাশের যুব ও ছাত্রনেতাদের একাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশব্যাপী বিস্তৃত।
বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ মূল রাজনৈতিক দল ও দলের অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম অঙ্গসংগঠনের একাংশেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা মূল দলের বড়দেরই অনুসরণ করে থাকে, যারা এক্ষেত্রে তাদের এ চর্চার রোল মডেল।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তার মধ্যেই মূলত সর্বব্যাপী জবাবদিহিতার গুরুত্ব রয়েছে। ইতিপূর্বে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ যে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি দলীয় পরিচয় ও পদের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান ব্যক্তির পরিচয় ও দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যথাযথভাবে পরিপালন হলেই শুধু প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাংশের অংশগ্রহণ, রক্ষকের ভূমিকা ও যোগসাজশ ব্যতীত এ জাতীয় দুর্বৃত্তায়ন সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় জড়িতদের একইভাবে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব ক্ষেত্রে সর্বাত্মক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
