সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে তারেক – ফখরুলের শোকবার্তা


প্রবাস বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক  রিপোর্ট :: ১৯৭১ এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সফল মেয়র ও মন্ত্রী, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সাদেক হোসেন খোকা আজ আমেরিকার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে স্থানীয় সময় ভোর ২-৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আর নেই। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

শোকবার্তায় বলেন, “মরহুম সাদেক হোসেন খোকা একজন জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘৭১ এর রণাঙ্গনে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য তাঁর বীরোচিত ভূমিকা কিংবদন্তীতুল্য। তিনি ঐতিহাসিক যুগের সৃষ্টিকারীদের মধ্যে অন্যতম।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণে বিশ্বাসী মরহুম সাদেক হোসেন খোকা বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনগণের নিকট ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত।

সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। চারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। দুই বার কেবিনেট মন্ত্রী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, কেবিনেট মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন। দীর্ঘদিন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে তিনি যে অবদান রেখেছেন সেজন্য ঢাকাবাসী তাঁকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার, সজ্জন ও বিনয়ী স্বভাবের একজন মানুষ। একজন গণতন্ত্রমণা নেতা হিসেবে ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিকদের মতামত শুনতে ও মতবিনিময়ে কখনোই কুন্ঠাবোধ করতেন না। গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজরোষে পড়া সত্বেও তিনি কখনো আত্মসমর্পণ করেননি।

বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে জনাব সাদেক হোসেন খোকার বলিষ্ঠ ভূমিকা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন দেশের একজন অগ্রগণ্য ক্রীড়া সংগঠক। ক্রীড়ার মানোন্নয়নে তিনি থেকেছেন সবসময় নিবেদিতপ্রাণ।

দেশের বর্তমান সংকটকালে তাঁর মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত হয়েছি। তাঁর রেখে যাওয়া অমলিন স্মৃতি সবসময় নেতাকর্মীদের উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাবে।

আমরা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।”

হাসপাতালে আছেন তার ছেলে বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। এছাড়াও তার মা ইসমত হোসেন, বোন সারিকা সাদেক, ভাই ইশফাক হোসেন আছেন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১৮ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

খোকার জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দেশে আনা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। এখন কী করণীয়, এ নিয়ে স্বজনেরা বিভ্রান্তিতে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিট ভিসার নিয়ম মোতাবেক, ৬ মাস পর পর যাওয়া-আসা করে মার্কিন ভিসা বৈধ রাখার নিয়ম। ২০১৭ সালে খোকা ও তার স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে কনস্যুলেট থেকে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি।

২০১৪ সালের মে মাসের ১৪ তারিখে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য সপরিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন। সেখানে তার কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। তার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলেন বিএনপির এ নেতা। বিদেশে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ড হয় খোকার।

(এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী)
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *