প্রবাস বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম সিলেট প্রতিনিধি :: ২ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার : সিলেটে জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভে ফুসছেন সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ একাংশের নেতারা। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় সভা করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ সভায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও যুবদলের অবমূল্যায়িত নেতাকর্মীরা দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে থামিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী সিদ্ধান্ত নেন তারা নিজেরাই দলের কেন্দ্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
এছাড়াও আরেকটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান’ও একপেশে কমিটি ঘোষনার প্রতিবাদে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ তারা দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। পরবর্তীতে তাদের সাথে থাকা বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও গণপদত্যাগ করবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
এ ব্যপারে সভায় উপস্থিত থাকা সিলেট জেলা যুবদলের সদ্য সাবেক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এতে দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করা কেউ ঠাই পাননি। ঠাই পেয়েছেন বিশেষ একজন কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীরা। তাই বিষয়টি নিয়ে তারা রাতেই সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে বিএনপির তিন কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আরিফুল হক চৌধুরী ও ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী দলের পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরো বলেন, অতীতে সিলেটে বিএনপির যেকোন অঙ্গসংগঠনের কমিটি করা হলে স্থানীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে করা হত। কিন্তু এবারের কমিটির ব্যপারে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, তাহসিনা রুশদী লুনাসহ কারো সাথে যোগাযোগ করা হয়নি।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর নবগঠিত কমিটিতে যুবদলের সাবেক নেতাদের মূল্যায়ন না করায় কেন্দ্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এমএ হক, তাহসীনা রুশদীর লুনা, ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েক নেতা।

শনিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে কেন্দ্রীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করবেন তারা। শুক্রবার রাতে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেন সিলেটের নেতারা।পদত্যাগের বিষয়ে মেয়র আরিফ বলেন, লন্ডন থেকে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে রাজপথে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন, তাদের জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি যারা দলের পক্ষে আন্দোলন করে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে আমরা আজ কেন্দ্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করব।
পদত্যাগের তালিকায় প্রায় ৮-১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন বলে জানান মেয়র। এ সময় তিনি বলেন, আমরা পদত্যাগ করলেও বিএনপির সঙ্গে থাকব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে জেলার আহ্বায়ক করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া নজিবুর রহমান নজিবকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।
